• বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৫
ads
এস ওয়াজেদ আলী

প্রাবন্ধিক, গল্পকার ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী

সংগৃহীত ছবি

মতামত

স্মরণ

এস ওয়াজেদ আলী

  • প্রকাশিত ১০ জুন ২০১৮

প্রাবন্ধিক, গল্পকার ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম শেখ ওয়াজেদ আলী। পিতা শেখ বেলায়েত আলী ছিলেন প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী। গাঁয়ের পাঠশালায় ওয়াজেদ আলীর শিক্ষাজীবন শুরু হয়। পরে তিনি শিলং মোখার হাই স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৯০৬ সালে স্বর্ণপদক লাভ করে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। আলীগড় কলেজ থেকে আইএ এবং এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু। ১৯২৩ সালে তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সির ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন। ১৯৪৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করতেন।

এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ‘অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তার তত্ত্বাবধানে Bulletin of the Indian Rationalistic Society নামে একটি ইংরেজি জার্নাল প্রকাশিত হতো। তিনি পরপর দুবার (১৯২৫ ও ১৯২৬) বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি কলকাতা এলবার্ট হলে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সংবর্ধনা প্রদান উপলক্ষে গঠিত সংবর্ধনা কমিটির সভাপতি হিসেবে অভিনন্দনপত্র পাঠ করেন। ১৯৩৫ সালে তিনি সিরাজগঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘নিখিল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সম্মিলনী’তে সভাপতি হিসেবে যোগদান করেন।

এস ওয়াজেদ আলীর স্বপ্ন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্য ও ভ্রমণকাহিনী রচনায় তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে— প্রবন্ধ : জীবনের শিল্প, প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, ভবিষ্যতের বাঙালি, আকবরের রাষ্ট্র সাধনা, মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ। গল্পগ্রন্থ : গুলদাস্তা, মাশুকের দরবার, বাদশাহী গল্প, গল্পের মজলিশ। উপন্যাস : গ্রানাডার শেষ বীর (১৯৪০); ভ্রমণকাহিনী পশ্চিম ভারত, মোটরযোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি। উদারমনা-প্রগতিশীল লেখক এস ওয়াজেদ আলীর রচনায় সমসাময়িক জীবনবোধ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট দারুণভাবে উঠে এসেছে। শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে তার কলম ছিল ক্ষুরধার। ১৯৫১ সালের ১০ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads