• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
কৃষিনীতি ও কৃষক

কৃষকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টি আরো গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে

সংগৃহীত ছবি

মতামত

কৃষিনীতি ও কৃষক

  • প্রকাশিত ১৬ আগস্ট ২০১৮

সেদিন কথা হচ্ছিল প্রান্তিক পর্যায়ের একজন কৃষকের সঙ্গে। ওই কৃষকের মুখে হাসি দেখেছি আবার শুনেছি হতাশার কিছু কথাও। তিনি বলছিলেন বেশিরভাগ সময়ই তিনি অসুস্থ থাকেন, তাই মাঠে কাজ করা তার জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। তাকে জিজ্ঞেস করেছি কী ধরনের অসুস্থতা বেশি হয়? তিনি আমাকে হাত দেখিয়ে বললেন, এই দেখেন হাত কেমন কালচে-কালচে দাগ হয়ে গেছে এবং কোনো ক্ষত হলে তা সহজে শুকায়ও না, দেরি হয়। শরীরে একটি ঘা-ও দেখালেন। তখন তাকে বললাম ডায়াবেটিস পরীক্ষা করিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, করিয়েছি কিন্তু ধরা পড়েনি। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা যখন জমিতে সার, বিষ প্রয়োগ করেন তখন কি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন? তিনি স্পষ্ট করে বললেন, সার সরাসরি হাত দিয়েই জমিতে দিয়ে থাকেন। বিষ দেওয়ার সময় মাঝে মাঝে মুখে গামছা বেঁধে নেন, কিন্তু হাতে কিছু পরেন না।

এই উত্তরের পর আরো স্পষ্ট করে জিজ্ঞেস করলাম, এ বিষয়ে কি কেউ আপনাদের কিছু বলেনি? তিনি বললেন, বলেছেন বিষ দেওয়ার সময় যেন আমরা মুখে কিছু দিয়ে নিই; কিন্তু সারের সময়কার কথা বলেননি। পরে স্পষ্ট অনুভব করলাম রাসায়নিক সার দেওয়ার কারণে এবং হাতে গ্লোভস ব্যবহার না করার কারণেই ক্ষত শুকায় না এবং শরীর নিস্তেজ মনে হয়! হাতের কালো দৃশ্যমান দাগগুলোর কারণও হতে পারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অনিয়মতান্ত্রিক ব্যবহার।

এবার কৃষিনীতি অনুমোদন হয়েছে। ন্যানো প্রযুক্তিতে গ্রহণযোগ্যতা দিয়ে যে কৃষিনীতি হয়েছে, তাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও দ্রুতকরণ প্রক্রিয়ার জন্য যথেষ্ট গতিশীল চিন্তাধারার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কৃষির উন্নয়নের সঙ্গে কৃষকের উন্নয়নকে একই সরলরেখায় আনতে হবে। কৃষকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টি আরো গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। দিন দিনই বাড়ছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার। শরীরে দ্রুত প্রভাব ফেলার এ উপাদানগুলো ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সেফটি জিনিসপত্র ব্যবহারের পদ্ধতি কৃষককে শেখানো এখন সময়ের দাবি। এর মধ্যে অনেক বিষয় সম্পৃক্ত করতে হবে। রাসায়নিক সার বা যেকোনো ধরনের সার ব্যবহারের সময় বাধ্যতামূলক হ্যান্ড গ্লোভস ব্যবহার করতে হবে। যখন কীটনাশক ব্যবহার করবেন কোনো কৃষক, তখন অবশ্যই মুখে অক্সিজেন মাস্ক, চশমা ও হাতে হ্যান্ড গ্লোভস ব্যবহার করতে হবে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক কৃষক সেফটির ব্যাপারটিও সামনে নিয়ে আসতে হবে। শুধু কৃষি নয়, সব ধরনের পশুপালন ও ফার্মগুলোতেও খামারিদের সেফটি সম্পর্কে জানানো প্রয়োজন। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরো বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।  

কৃষকদের প্রশিক্ষণের সময় সেফটির ব্যাপারটি প্রশিক্ষণে আরো বাড়াতে হবে। সবাইকে নিজ নিজ জায়গায় সচেতন করতে পারলেই কেবল সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ পাওয়া সম্ভব হতে পারে। কৃষিনীতিতে কৃষকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। অনলাইন ব্যবস্থাও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গণমাধ্যমগুলোতে এ ব্যাপারে আরো বেশি প্রচার প্রয়োজন।

সরকার কৃষিনীতির সঙ্গে কৃষকের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে এটা আমাদের প্রত্যাশা। একজন কৃষক এদেশের অর্থনীতির সরাসরি বিনিয়োগকারী। সরাসরি বিনিয়োগকারী এই মানুষগুলোকে সুস্থ রাখতে না পারলে দেশও অসুস্থ হয়ে পড়বে। স্থানীয় কৃষি অধিদফতর ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে বিনীত নিবেদন যেন কৃষকের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা উপকরণ বিতরণ আরো বাড়ানো হয়। সবার আগে মনে রাখতে হবে, দক্ষ কৃষকই দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

 

সাঈদ চৌধুরী

আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads