• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
ভালো এবং মন্দ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শিক্ষাকে এতকাল বলা হতো জাতির মেরুদণ্ড

আর্ট : রাকিব

মতামত

ভালো এবং মন্দ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

  • ইউসুফ শরীফ
  • প্রকাশিত ৩১ আগস্ট ২০১৮

‘খাঁটি গরুর দুধ’ কিংবা ‘গরুর খাঁটি দুধ’ যাই বলা হোক না কেন, এটা কোনো কথা নয়। কারণ গরুর দুধ তো গরুরই দুধ, এতে খাঁটি অখাঁটির প্রশ্ন উঠবে কেন? কোনো কারণ না থাকলেও এ প্রশ্ন অহরহ ওঠে। কেননা গরুর দুধ পানি মিশিয়েই শুধু ভেজাল করা হয় না, পাউডার দুধে পানি মিশিয়ে গরুর দুধ বলেও বিক্রি করা হয়। এই দুই প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে হয় বলেই ‘খাঁটি গরুর দুধ’ বা ‘গরুর খাঁটি দুধ’ কথাটি প্রচলিত হয়েছে, তা কে না জানে! আবার ‘গরুর খাঁটি দুধ’ কথাটা যে রকম, ‘ভালো স্কুল’, ‘ভালো কলেজ’ এবং হালে ‘ভালো বিশ্ববিদ্যালয়’- এসব কথাও সে রকম চালু হয়ে গেছে। অনেক দিন ধরে, বিশেষ করে প্রতিবছর এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশি আলোচিত হয়, এই ‘ভালো কলেজ’-‘ভালো বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রসঙ্গ। ভালো ফল অর্জনকারী ছাত্রছাত্রীরাও অনেকে কথিত ভালো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে না। ‘ভালো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে পরিচিত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন-সংখ্যা পাস করা ভালো ছাত্রছাত্রীর সংখ্যার তুলনায় কম হওয়ায় ভর্তির ক্ষেত্রে সঙ্কট দেখা দেয়। ফলে ছাত্রছাত্রী-অভিভাবকের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। এইচএসসিতে ভালো ফল করেও ভালো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো বিষয়ে ভর্তি হতে না পারলে ভালো ফল করা ও ভালো পেশায় প্রবেশ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে, আর এটা তাদের টেনশনের বড় কারণ। সাম্প্রতিককালে ভালো ফল করা ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে এবং ভালো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সঙ্কটও বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।

ভালো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আসন বাড়ানো দরকার, এটা বলেছেন অনেকেই। রাজধানীর একজন অধ্যক্ষ এ প্রসঙ্গে একবার বলেছিলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষায় সারা দেশের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করেছে, এটা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক দিক। এখন এসব শিক্ষার্থী তাদের ফলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ‘ভালো কলেজে’ ভর্তি হতে চাইবে, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে সব শিক্ষার্থীকে তো আর হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি কলেজে ভর্তির সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। এ সমস্যার সমাধানে ভালো কলেজগুলোতে আসন বাড়ানো দরকার। এ ব্যাপারে সরকারকে এ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রয়োজন হলে এসব কলেজে নতুন করে কয়েকটি সেকশন চালু করা যেতে পারে।’ এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভালো কলেজের এই অধ্যক্ষ সাময়িক প্রয়োজনীয়তার দিকে জোর দিয়েছিলেন। তিনি হয়ত ভেবেছেন যে, ভালো কলেজগুলোতে আসন বাড়াবার কাজটা অপেক্ষাকৃত সহজ বলে সরকার এটা গ্রহণ করবে এবং সাময়িক প্রয়োজনীয়তাও মিটবে। পরবর্তীতে এই সমস্যা সমাধানে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।

সারা দেশের শিক্ষার্থীরা ‘ভালো ফল করেছে’— এটা প্রশ্নাতীত বক্তব্য নয় বলেই মনে হয়। দ্বিতীয়ত, শুধু ভালো ফল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধিই শিক্ষার ইতিবাচক দিক কি না, তাও ভেবে দেখা উচিত। তৃতীয়ত, ভালো কলেজগুলোর আসন সংখ্যা বাড়ালেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। আসলে এসব খতিয়ে দেখার অপেক্ষা এখন আর রাখে না। এটাই বাস্তব যে, সারা দেশে শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করে না। রাজধানীসহ শহরাঞ্চলে বিত্তবান পরিবারের সন্তানরা যে পরিমাণ ভালো ফল করছে, সে তুলনায় মফস্বল ও গ্রামের অভাবী পরিবারের সন্তানদের ভালো ফল করার বিষয়টি আণুবীক্ষণিকই বলতে হয়। ভালো ফল করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি ফলাফলের ক্ষেত্রে ইতিবাচক, এটা ঠিক, কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক কিছু করতে হলে ভালো কলেজে আসন সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে নিতান্ত সাময়িক উদ্যোগ। এর স্থায়ী সমাধানের একমাত্র পথ হলো, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চমানের শিক্ষাদান নিশ্চিত করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহ নেই। কারণ ভালো ফল করার জন্য শুধু নয়, ছাত্রছাত্রীদের ভালো শিক্ষাদানের জন্যই ভালো স্কুল-ভালো কলেজ-ভালো বিশ্ববিদ্যালয় দরকার। স্কুল-কলেজ ও উচ্চ শিক্ষাঙ্গনগুলো ভালো শিক্ষা, সুশিক্ষা দানের উপযোগী করে তোলার কোনোই বিকল্প নেই। আমরা এ কথাও জোর দিয়ে বলতে চাই যে, ভালো স্কুল-মন্দ স্কুল এবং ভালো কলেজ-মন্দ কলেজ নয়, কিংবা ভালো বিশ্ববিদ্যালয়-মন্দ বিশ্ববিদ্যালয় নয়— এসব স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে হবে। সেই সঙ্গে আধুনিক যুগোপযোগী বিষয়ও চালু করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার এমন একটি জাতীয় মান তৈরি করা সম্ভব হবে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষা-মানকে স্পর্শ করতে পারবে। আধুনিক শিক্ষিত জাতি গঠনের জন্য এই কাজটি অপরিহার্য। এদিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, এমন বলা গেলে তা হতো আমাদের জন্য নিশ্চিত সুখকর। কেন দেওয়া হয়নি, তা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ ঊর্ধ্বতন মহলেরও অজানা থাকার কথা নয়। আর অজানা থাকলে এ প্রশ্নের উত্তর তাদের খুঁজে বের করতে হবে এবং দ্রুত সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

উপরে যে অধ্যক্ষের কথা বলা হয়েছে তিনি অভিজ্ঞতার নিরিখে এটাও বলেছিলেন, ‘সব কলেজকেই ভালো কলেজে পরিণত করা যায়। এজন্য প্রয়োজন কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক, গভর্নিং বডি ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা। তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আর যৌথ প্রচেষ্টা থাকলে প্রতিষ্ঠানের পড়াশোনার মান ভালো হবে। এতে করে ওই কলেজও ভালো কলেজ হিসেবে পরিচিতি পাবে।’ এ জন্য তিনি নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, সম্পূর্ণ সিলেবাস শেষ করানো, ক্লাস টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া, সর্বোপরি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। উল্লিখিত এই বিষয়গুলো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কারো অজানা- এ কথা কেউ বলবেন না। কারণ যেসব পরামর্শ তিনি দিয়েছেন, এ সবই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক রুটিন কাজ হিসেবে গণ্য। যেসব স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কাজগুলো মোটামুটি সম্পন্ন করা হয়, সেসব স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ভালো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ভালো স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি লাভের জন্য কোনো জাদুবিদ্যা রপ্ত করার দরকার নেই।

দেশে স্কুল-কলেজের সংখ্যা কম হলেও সব স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নত হলে আজকে যে কঠিন ভর্তি-সঙ্কট, তা দেখা দেওয়ার কোনো কারণ থাকত না। গ্রামাঞ্চল ও মফস্বল শহরের স্কুল-কলেজ তো বটেই, এমনকি খোদ রাজধানী শহরের স্কুল-কলেজের মধ্যেও এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেশি, যেগুলোকে সাধারণভাবে ‘খারাপ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। এটা মোটেই কোনো নতুন তথ্য নয়। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী-অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সবারই জানা থাকার কথা— ভালো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় যেমন বলা হয়ে থাকে, তেমনি মন্দ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ও বলা হয়। সঙ্গত কারণেই সব স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার জরুরি তাগিদ তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে ভালো স্কুল-কলেজ বলে পরিচিত স্কুল-কলেজে আসনসংখ্যা বৃদ্ধি ও শিফট চালুর ব্যাপারে ইতোপূর্বেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো তাগিদ, কোনো গুরুত্বই কাজে লাগেনি বলে প্রতিবছর ভালো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির লড়াই চলছে। শিক্ষার্থীরা গলদঘর্ম হচ্ছে, অভিভাবকরা নাজেহাল হচ্ছেন। কিন্তু সমস্যার কোনোই সমাধান হচ্ছে না, বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে।

শিক্ষাকে এতকাল বলা হতো জাতির মেরুদণ্ড। আজকের বিশ্বে জাতির অর্থনীতি ও উন্নয়ন-অগ্রগতিতে শিক্ষার গুরুত্ব যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে শিক্ষা এখন অনেকটাই জাতির আত্মার কাছাকাছি চলে এসেছে। শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রসারের মাধ্যম হলো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ শিক্ষাঙ্গন। ডিজিটাল ও আইটি যুগের বিশ্বে যে তীব্র প্রতিযোগিতা, তাতে টিকে থাকার জন্য বর্তমানে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার যে মান তা অবশ্যই অনেকদূর পর্যন্ত উন্নীত করতে হবে। এই সঙ্গে আরেকটি কাজও অতি অবশ্যই করতে হবে। আইটিসহ আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজি শিক্ষার প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের অধিকাংশ স্কুল-কলেজে ইংরেজি শিক্ষা বলতে গেলে চরম উপেক্ষিত হচ্ছে। বিভিন্ন বছরে এসএসসি পরীক্ষার ফলেও এই বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে। ইংরেজিতে খারাপ করায় বহু ছাত্রছাত্রী অকৃতকার্য হয়। সেই সঙ্গে আরেকটি বিষয়— অঙ্কেও বহু ছাত্রছাত্রী খারাপ করে। এই বিষয়গুলো যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিবেচনার বিষয়, তেমনি জাতীয় পর্যায়েও বিবেচনার বিষয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য সব পর্যায়ে আইটি শিক্ষা অপরিহার্য। আর আইটি শিক্ষার জন্য ইংরেজি শিক্ষা দরকার। ইংরেজি শিক্ষা আরো দরকার তাদের, যারা বিদেশে চাকরি নিয়ে যাচ্ছেন, যারা বিদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনৈতিক সম্পর্ক-সংশ্লিষ্ট এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যারা বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত। ভবিষ্যতে যারা এই কাজগুলো করবেন, তাদের ইংরেজি ভাষার ভিত্তি মজবুত করে গড়ে দিতে হবে স্কুল ও কলেজের শিক্ষায়। এজন্য যেমন পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্যক্রম নির্ধারণ সুপরিকল্পিত হতে হবে, তেমনি যোগ্য-দক্ষ শিক্ষক গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বর্তমান বাস্তবতা সম্পর্কে যেসব খবরাদি প্রকাশিত হয়, তাতে দেখা যায়, অধিকাংশ স্কুল-কলেজে ইংরেজি শিক্ষক নেই। এ ছাড়া অঙ্কসহ অন্যান্য বিষয়ের যোগ্য-দক্ষ শিক্ষকের অভাবও যথেষ্ট। ইংরেজি শিক্ষার প্রতি অবচেতনে একপ্রকার নেতিবাচক প্রবণতা জাতি হিসেবে আমাদের যে অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে, এটা বিশদ ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না। প্রতিবেশী ভারত গত তিন দশকের মধ্যে উন্নয়ন-অগ্রগতির ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ ইংরেজি শিক্ষার ব্যাপক প্রসার এবং ঠিক সময়ে আইটি শিক্ষা প্রচলন ও এই শিক্ষায় উৎকর্ষ সাধন।

বাংলাদেশে আইটি শিক্ষার কথা অনেক দিন থেকে শোনা যাচ্ছে। অথচ এখনো কার্যকরভাবে সর্বত্রগামী হতে পারছে না। আইটি খাতের এমন উৎকর্ষও সাধিত হচ্ছে না, যাতে করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের মতো রফতানির আরেক বড় উৎসমুখ দেশের সামনে খুলে যেতে পারে। এসবের অন্যতম কারণও দেশ ইংরেজি শিক্ষায় পিছিয়ে থাকার মধ্যে নিহিত। একটি বিষয় সবার পরিষ্কার স্মরণে থাকা দরকার, ইংরেজি ভাষা শিক্ষায় জোর দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, বাংলা ভাষা শিক্ষাকে অবহেলা করা হবে। ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে আমরা যে বছরের পর বছর অবহেলা করে চলেছি, তাতে বাংলা ভাষা শিক্ষায় কতটা এগিয়েছি আমরা? এ প্রশ্নের খুব সুখকর জবাব দেওয়া যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী এমন অসংখ্য লোক এদেশে রয়েছেন, যারা অবলীলায় ভুল বাংলা লেখেন। সাধু-চলিতের মিশ্রণ, বানান ভুল অনেকক্ষেত্রে চরম পীড়াদায়ক হয়ে ওঠে।

ভালো স্কুল, ভালো কলেজ ও ভালো বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেশের সব স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচিত করানোর দায়িত্ব শিক্ষক, শিক্ষাঙ্গন কর্তৃপক্ষ ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে। কাজটা আমাদের করতে হবে এবং কাজটা আমরা করব— এ ব্যাপারে সবাই স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছলে কাল থেকেই কাজটা শুরু করা যায় এবং এক বছরের মধ্যেই তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে শিক্ষাঙ্গনে। এজন্য কাজ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে মজবুত ভিত্তিভূমি নির্মাণের পদক্ষেপও গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, শিক্ষাঙ্গনকে বাইরের সব অপপ্রচার থেকে, কলুষিত আবহাওয়া থেকে মুক্ত রাখার উপযুক্ত ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সরকারের ইংরেজি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য যে একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত রয়েছে, তা দ্রুত এবং ক্রমান্বয়ে জেলা পর্যায়েও বিস্তারিত করতে হবে। সেই সঙ্গে অঙ্ক, বিজ্ঞানসহ অন্য বিষয়গুলোর শিক্ষক-প্রশিক্ষণে বিরাজমান যে ব্যবস্থা রয়েছে তার সংস্কার করতে হবে, আধুনিক যুগোপযোগী করে তুলতে হবে। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি নিয়ে বের হওয়া মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সরকারকে গ্রহণ করতে হবে। চতুর্থত, স্কুল-কলেজের ওপর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সুবিধাবাদী শ্রেণির অনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই আমলাতান্ত্রিক যে অশুভ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সেসব ব্যবস্থারও উপযুক্ত সংস্কার হওয়া দরকার। এই মৌলিক কাজগুলো না করে শিক্ষার মান-উন্নয়নে যত ব্যবস্থাই নেওয়া হোক, তা আকাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে পারবে না। কারণ এসব কাজ করা না হলে দেশের সব স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার জন্য যেসব বিধি-ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেসব সম্ভব হবে না।

লেখক : কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads