• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
সামাজিক দায়বদ্ধতায় করণীয়

পরিবেশ দূষণের এ দায় স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তায়

সংগৃহীত ছবি

মতামত

সামাজিক দায়বদ্ধতায় করণীয়

  • প্রকাশিত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সাদিকুর সাত্তার আকন্দ

ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে ইদানীং বেশ আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক চলছে। এ আলোচনা কেবল বাংলাদেশে নয়। বিশ্ব পরিমণ্ডলের ব্যবসায়িক হর্তাকর্তা ও ব্যবসায় গবেষকরাও হরহামেশাই সমালোচনার টেবিলে তুলছেন বর্তমানের এই সামাজিক দায়বদ্ধতাকে। ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতাকে বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এর উপকারিতা এবং বিপরীত পক্ষে এর ধীরে ধীরে ‘বিজ্ঞাপন’ বনে যাওয়ার বিষয়ে নেতিবাচক মতামতই বেশি আসছে ব্যবসায় বোদ্ধাদের কাছ থেকে। মোটা দাগে বললে সামাজিক দায়বদ্ধতা বলতে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যে অঞ্চলে বা দেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে সেই অঞ্চল বা দেশের জন্য আর্থিক বা মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়ন সাধনের প্রচেষ্টাকে বোঝায়। ধরা যাক একটি উৎপাদনমূলক প্রতিষ্ঠান কোনো স্থানে তার উৎপাদন কার্য চালিয়ে যাচ্ছে। এটা করতে গিয়ে অবশ্যই ওই স্থানের জনগোষ্ঠীর ওপর পরিবেশ ও জলবায়ুর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ উৎপাদন কার্য করলে কোনো না কোনোভাবে পরিবেশ দূষিত হয়। আর পরিবেশ দূষণের এ দায় স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তায়। এ দায় তারা এড়াতে পারে না। সে জন্যই ব্যবসায়িক মহল এ দায় মুক্তির ক্ষুদ্র অনুষঙ্গ হিসেবে সমাজের প্রতি এক ধরনের দায়িত্ব পালন করে। এটা হতে পারে আর্থিক বা অনার্থিক। হাল আমলে এ দায়িত্বটা আর্থিকভাবেই পালন করা হয়। আর এজন্যই এর বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ বেরিয়ে আসছে।

একটি সমাজের মানুষ তাদের মৌলিক চাহিদা মেটানোর পরেই নতুন কিছু পেতে চায়। ভোগ্যপণ্য থেকে শুরু করে বিলাসদ্রব্য কিনতে চায়। বাংলাদেশে মৌলিক চাহিদা মেটাতে দীর্ঘ সময় লেগেছে মানুষের। এখনো দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের অনেকে ঠিকমতো খাদ্য জোগাতে হিমশিম খায়। এসব অঞ্চলে বিলাসদ্রব্য কেউ কিনবে না। তবে বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে। যার প্রভাব আমরা সবচেয়ে বেশি দেখতে পাচ্ছি। প্রতিদিন এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। মানুষের প্রতি, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা একটি প্রতিষ্ঠানকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। শুধু মুনাফার আশায় ব্যবসা করলে তা বেশি দিন টেকে না। আর তাই ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেও দায়বদ্ধতা একটি বড় কমিটমেন্ট। এই কমিটমেন্টের জায়গা থেকে বলতে হয় সামাজিক দায়বদ্ধতা না থাকলে দেশ, মাটি ও মানুষের কল্যাণ কোনোভাবেই সাধিত করা সম্ভব নয়।

এরও রয়েছে দুটো দিক। ইতিবাচক ও নেতিবাচক— সব রকম দিকই ফুটে উঠছে মানুষের সামনে। ১৯৬০ থেকে ১৯৭০ সালের দিকে পশ্চিমা বিশ্বে প্রচলন শুরু হয় এই সামাজিক দায়বদ্ধতা নামক শব্দটির প্রচলন। পশ্চিমা ব্যবসায়িক বোদ্ধারা তখন এটিকে ক্ষতির প্রতিদান হিসেবেই ব্যাখ্যা করতেন। তারা বলতেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব দ্বারা যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাদের মঙ্গল করার জন্য ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য এই প্রক্রিয়া গ্রহণ করা খুবই টাইম ওরিয়েন্টেড বিষয় হবে। এটি অবশ্যই ব্যবসায়িক মহলকে বাস্তবায়ন করা দরকার। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের লাভের একটি অংশ সমাজের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজে ব্যয় করার মধ্য দিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার গোড়াপত্তন করলেও এটি এখন আর পূর্বের জায়গায় নেই। কালক্রমে এর উদ্দেশ্যও পরিবর্তিত হয়েছে বলে মনে করেন উন্নয়ন গবেষণায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এখন সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের পরিবর্তে ‘বিজ্ঞাপন’ হিসেবেই এই প্রক্রিয়াটিকে নেওয়া হয়, যে কারণে সমাজের মানুষের উপকৃত হওয়ার পরিবেশ ও জায়গা কমে যায়। মাঝেমধ্যেই শুনতে পাওয়া যায়, ব্যবসায় সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) হলো কেবল কৈয়ের তেলে কৈ ভাজা অথবা ভরা পাত্র ভারি করার প্রয়াস মাত্র। ব্যবসায় পরিচালনা করতে গিয়ে সাধারণত একটি কোম্পানিকে সামাজিক, অর্থনৈতিক, আইনগত ও রাজনৈতিক এসব দায়বদ্ধতা মেনে নিতে হয়। সেক্ষেত্রে একটি কোম্পানি যদি গবেষণা ও উন্নয়ন তথা সচেতনতামূলক বিষয়গুলোকে মানুষের সামনে স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় করে সেটিই বেশি যুক্তিযুক্ত বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। ২০০০ সালে প্রকাশিত ম্যাক উইলিয়াম এবং সেইগেলের সামাজিক দায়বদ্ধতাবিষয়ক গবেষণায় এমনই মতামত দিয়েছেন বিশ্বের প্রায় ১০০০ শিক্ষাবিদ। ব্যবসায়ীদের হাত ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের দ্বারা সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন কম হচ্ছে— এমনটা বলা অমূলক হবে।

যারা সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করেন বা মেনে চলেন তারা এই প্রক্রিয়াটিতে যদি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখেন, তাহলে কালক্রমে ব্যবসায়ী মহলই লাভবান হবে।

লেখক : প্রভাষক, রেদোয়ান আেমদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads