• রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭
ads

মতামত

উন্নয়নের অগ্রপথিক বাংলাদেশ

  • রাবাত রেজা খান
  • প্রকাশিত ০৩ নভেম্বর ২০১৮

বহু বছর আগে বাংলাদেশের জন্মের কিছু পরে হেনরি কিসিঞ্জার একবার বলেছিলেন, বাংলাদেশ হলো তলাবিহীন ঝুড়ি। যাই দাও না কেন ঝুড়ির তলা না থাকার কারণে সেখানে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। সেই হেনরি কিসিঞ্জারও নেই, আগের তলাবিহীন ঝুড়ি বাংলাদেশও নেই। দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব এখন অবাক বিস্ময়ে চেয়ে থাকে, বাংলাদেশের উন্নয়নের দিকে। বিগত দশ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়নে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। আজ সেসব বড় বড় সাফল্যের একটা ছোটখাটো পোস্টমর্টেম করছি।

বিশ্বব্যাংক ও এডিবির সাহায্য ছাড়া সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। দৃশ্যমান হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। শুরুতে সবাই বলাবলি করেছিল নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরি সম্ভব হবে না। কিন্তু সম্ভাবনার বাংলাদেশে এখন প্রায় সবকিছু সম্ভব। সরকার বর্তমান থাকলে আগামী বছরের মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে। উন্নয়নে বাংলাদেশের মাইলফলক হবে পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হলে দৌলতদিয়ায় তৈরি হবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু। কয়েক দিন আগে উদ্বোধন হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। এত বড় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপানসহ বিশ্বের আর কোথাও নেই- এটা ভাবতেই গর্বে মাথা উঁচু হয়ে যায়। ইতোমধ্যে ৩০০ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার কাজ শুরু হয়েছে। এসব অপ্রতিদ্বন্দ্বী উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পাঠিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভাবেনি বাংলাদেশ মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠাতে পারবে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহাকাশে আমরাও আমাদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছি-এটা ভাবলেই ভালো লাগে। বাংলাদেশের বিরাট অর্জন। জ্যাম কমানোর জন্য বিশ্বের বড় বড় শহরের মতো ঢাকা শহরের বুকেও তৈরি হচ্ছে মেট্রোরেল।

বাংলাদেশ দুটি সাবমেরিন কিনেছে কিছু দিন আগে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আমরা পেয়েছি প্রায় আরেকটি বাংলাদেশের সমান সমুদ্রসীমা। তা ছাড়া শতবর্ষী ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় সমুদ্র সম্পদ আহরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন সাবমেরিন দুটি সগৌরবে ঘুরে বেড়ায় বঙ্গোপসাগরের অতল জলে। বাংলাদেশের অর্জন সমুদ্রের অতল জল থেকে মহাকাশের ঊর্ধ্বসীমা পর্যন্ত। এসব দূরদর্শী পরিকল্পনা এগিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশকে। ছিটমহল সমস্যা ছিল বাংলাদেশের গলার কাঁটা। গত তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে হাজার হাজার মানুষ ছিটমহলে নিষ্পেষিত হয়ে আসছিল। সেসব মানুষের সবকিছুই ছিল কিন্তু বাস্তবে কিছুই ছিল না। মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি। ছিটমহলবাসীর একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন মলিন হতে শুরু করেছিল। কিন্তু এখন ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। বাংলাদেশের মানচিত্র নতুন করে তৈরি হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শেষ হচ্ছে। যেখান থেকে ২০২৪ সাল থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। রাশিয়ার সহায়তায়  রূপপুরে আরো ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শেষ হওয়ার পথে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে যার মধ্যে ১৭টি সোলার পার্ক, দুটি উইন্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট। বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫১৮ মেগাওয়াট, সোলার হোম সিস্টেম ২১৮.৪৮ মেগাওয়াট, বায়ুচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র ২.৯০ মেগাওয়াট। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রোধে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের রোল মডেল। বিদ্যুৎ গ্রাহকসংখ্যা ১ কোটি ৮ লাখ থেকে ২ কোটি ৯৯ লাখ হয়েছে। এখন দেশের ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। সবমিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ১৮ হাজার ৭৫৩ মেগাওয়াট হয়েছে।

গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি পেয়েছে। সদ্য আবিষ্কৃত ভোলা গ্যাস ক্ষেত্রসহ দেশের মোট গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৭টি। যার ২০টি থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। বর্তমানে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ও অ্যাভিয়েশন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যা বাংলাদেশের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় দুটি। মেডিকেল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নতুন করে আরো কয়েকটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ক্রমান্বয়ে জাতীয় প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবকিছু ছাপিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের সবার প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ। এবার উন্নয়নশীল দেশের রোল মডেলে পরিণত হবে গর্বের বাংলাদেশ- এটাই প্রত্যাশা।

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads