• শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৫
ads
নির্বাচন ও সংবাদপত্র

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনগণের ব্যাপক সন্দেহ আছে

সংগৃহীত ছবি

মতামত

অভিমত

নির্বাচন ও সংবাদপত্র

  • মাহমুদুল হক আনসারী
  • প্রকাশিত ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশের যে কোনো নির্বাচন ভোটারদের জন্য অতিরিক্ত আনন্দ বয়ে আনে। যদি সে নির্বাচন হয় নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য। আর যখন নির্বাচন জালভোট, সন্ত্রাস, হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে হয় তখন সেটা হয় ভোটারের জন্য বেদনাদায়ক। বাংলাদেশে স্থানীয় এবং জাতীয় নির্বাচন কখনো সন্ত্রাস আর কমবেশি বিশৃঙ্খলা ছাড়া হয়নি। যখন যে দল ক্ষমতায় ছিল তখন তারা কমবেশি নির্বাচনে প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এ ধারা এখনো অব্যাহত আছে। ভোটারের চাহিদামতো নির্বাচন বাংলাদেশে খুব একটা দেখা যায় না। এখানে নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব দেখা যায়। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনগণের ব্যাপক সন্দেহ আছে। ব্যালট পেপার ছিনতাই, জালভোট, ভোটের হিসাব-নিকাশ নিয়ে সূক্ষ্ম কারচুপি কখনো থামছে না। এক্ষেত্রে নির্বাচনের সংবাদ প্রচারে সংবাদকর্মী ও সংবাদপত্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণই বটে। বাংলাদেশে হাজার হাজার সংবাদকর্মী ও সংবাদপত্র আছে। কয়েক হাজার অনলাইন পোর্টাল সাথে সাথে সংবাদ প্রচার করে যাচ্ছে। মানুষ এখন ঘরে বসেই এখনকার সংবাদ এখনই পেয়ে যাচ্ছে। ভালো মন্দ কোনো ধরনের সংবাদই এখন মিডিয়াকে পাশ কেটে গোপন রাখা যাচ্ছে না। ডিজিটাল যুগে তথ্য আদান-প্রদান অনেকটা এখন সহজ। কথা হচ্ছে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার নিয়ে। হলুদ আর সাদা নামের সাংবাদিকতায় জনগণ বিশ্বাসী নয়।

সংবাদপত্র যতই বস্তুনিষ্ঠ গ্রহণযোগ্য সংবাদ জনগণকে দিতে পারবে, ততই ওই সংবাদপত্র জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। সংবাদকর্মী ও সংবাদপত্রের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে মনে করি বাস্তবে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঠিক সংবাদ তুলে ধরা। বাস্তবতাকে তুলে আনা। মিথ্যা ও অসত্য যা-ই হোক, তাও জনসম্মুখে আনতে হবে। সে জায়গায় সংবাদপত্রকে স্বাধীনভাবে তার ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো ধরনের আপসরফা এক্ষেত্রে জনগণ মেনে নেবে না। দেশের গ্রাম থেকে শহর, ইউনিয়ন থেকে বঙ্গভবন পর্যন্ত ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক না কেন, সব খবরই জনগণ জানতে চায়, পাওয়ার অধিকার রাখে। এটা জনগণের নাগরিক অধিকার এবং সাংবিধানিক অধিকার। নাগরিক হিসেবে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। রাষ্ট্রের সুখ-দুঃখ, ন্যায়-অন্যায় সব বিষয়ে তথ্য পাওয়ার অধিকার জনগণের আছে। এ অধিকার কোনো আইন করে অথবা প্রভাব খাটিয়ে খর্ব করা মানবাধিকার পরিপন্থী। এ-জাতীয় আইন ও কালাকানুন করে জনগণের ন্যায্য অধিকার ও পাওনা থেকে  জনগণকে বঞ্চিত করা অন্যায়। এক্ষেত্রে সংবাদপত্র ও সংবাদকর্মীকে গ্রহণযোগ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন যেন জনগণের জন্য বেদনাবিধুর না হয়, আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেটাই জনগণের চাওয়া পাওয়া। কেউ যেন নির্বাচনের আনন্দ ও বিজয় নস্যাৎ করতে না পারে সেটাও দেখতে হবে সংবাদপত্রকে। নির্বাচনে দেশ ও জনগণের প্রতিনিধি হয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে সংবাদপত্রকে। দেশে অসংখ্য সংবাদমাধ্যমের জন্ম হলেও এক্ষেত্রে দল নিরপেক্ষ পত্রপত্রিকা হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি। রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় অনেক সংবাদপত্র চলতে দেখা যায়। রাজনৈতিক কারণে অনেক সংবাদ প্রচারের মতো থাকলেও তা সংবাদপত্রে প্রচার হয় না। কালো টাকার দাপটে সংবাদপত্র থেকে তা হারিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে ওই জাতীয় সংবাদপত্র অথবা পোর্টাল বেশিদিন জনগণের মাঝে টিকে থাকে না।

সংবাদমাধ্যম আর পোর্টাল টিকিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই নিরপেক্ষ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রচারে স্বাধীনতা দিতে হবে। তথ্য প্রাপ্তির সমস্ত অধিকার জনগণের জন্য নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে জাতি আরো এগিয়ে যাবে। দুর্নীতিসহ সব ধরনের অন্যায় কোণঠাসা হয়ে পড়বে। জনগণ আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সব খবর বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে পেতে চায়। এটি জনগণের মৌলিক অধিকার। সংবাদপত্র ও সাংবাদিক সমাজকে জাতীয় এ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। জাতীয় আন্তর্জাতিক সবগুলো পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানকে নিষ্ঠার সঙ্গে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখা চাই। তাহলেই একটি জাতির পক্ষে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। সুন্দর আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হতে হবে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সার্থক প্রতিফলন ঘটুক, এই কামনা। এক্ষেত্রে জনগণের সঙ্গে সবগুলো সেবা সংস্থার সমন্বয় থাকতে হবে। তবেই সম্ভব একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

লেখক : প্রাবন্ধিক, গবেষক

mh.hoqueansari@gmail.com

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads