• রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৪
ads
মওলানা ভাসানী হঠাৎ হারিয়ে গেলেন

মওলানা ভাসানী

সংরক্ষিত ছবি

মতামত

মওলানা ভাসানী হঠাৎ হারিয়ে গেলেন

  • শাহ আহমদ রেজা
  • প্রকাশিত ০৯ জানুয়ারি ২০১৯

আজকের নিবন্ধে একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতার কথা জানাব। এই অভিজ্ঞতা ১৯৭৪ সালের এবং এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন মওলানা ভাসানী। ছাত্রজীবনে তার সান্নিধ্যে যাওয়ার এবং তার জন্য কিছু কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। অনানুষ্ঠানিকভাবে আমার সাংবাদিকতার শুরু হয়েছিল ১৯৭২ সালের মার্চে, সাপ্তাহিক ‘হক-কথা’র মাধ্যমে। মওলানা ভাসানীর ‘হক-কথা’ ছিল সরকারবিরোধী প্রধান সংবাদপত্র। ‘হক-কথা’ ১৯৭২ সালেই নিষিদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু মওলানা ভাসানীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক অব্যাহত ছিল। ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আমাকে সন্তোষে গিয়ে বসবাস করতে বলেন। ৮ ফেব্রুয়ারি আমি সন্তোষে চলে যাই এবং সে বছরের জুন মাসে তাকে গৃহবন্দি করার কয়েকদিন পর— ৯ জুলাই পর্যন্ত সেখানে থাকি। এই নিবন্ধে বর্ণিত অভিজ্ঞতা ওই সময়ের। এ থেকে মওলানা ভাসানীর সংগ্রাম সম্পর্কে শুধু নয়, ব্যক্তি ভাসানী সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে।

১৯৭৪ সালের এপ্রিল। ক্রমাগত ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে। সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষের আশঙ্কায় মওলানা ভাসানী তখন ভীষণ অস্থির। গ্রামে গ্রামে কাজের বিনিময়ে খাদ্যের ব্যবস্থা করার এবং সর্বদলীয় ভিত্তিতে দুর্ভিক্ষ মোকাবেলার পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি পত্রিকায় বিবৃতি দিলেন, তারবার্তা পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে। এরপর তিনি ১৪ এপ্রিল জনসভা ডাকলেন রাজধানীর পল্টন ময়দানে। এই জনসভা তিনি তার নতুন সংগঠন ‘হুকুমতে রব্বানীয়া সমিতি’র নামে ডাকলেন, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি— ন্যাপকে এড়িয়ে গেলেন। এর কারণ, ন্যাপের অভ্যন্তরে তখন কাজী জাফর আহমদ এবং মসিউর রহমান যাদু মিয়ার নেতৃত্বাধীন দুই উপদলের কোন্দল তুঙ্গে। দলের ভাঙন এড়ানোর উদ্দেশ্যে মওলানা ভাসানী কেন্দ্রীয় কমিটি বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। জনসভার সময় ন্যাপের তাই কোনো কেন্দ্রীয় কমিটি ছিল না, ছিল একটি আহ্বায়ক কমিটি।

কলেজের ছাত্র হলেও আমি তখন মওলানা ভাসানীর প্রকাশনা বিভাগের দায়িত্বে। সাপ্তাহিক ‘হক-কথা’ নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন নামে তিনি পত্রিকা ও বুলেটিন প্রকাশ করে আসছিলেন। আইনগত কারণে কোনো একটি বিশেষ নামেই তিন সংখ্যার বেশি পত্রিকা বা বুলেটিন বের করা হতো না। যেমন ‘জেহাদ’ নামে তিনবার প্রকাশিত হওয়ার পর নতুনটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ভাসানীর জেহাদ’। ১৪ এপ্রিলের জনসভা উপলক্ষেও অমন একটি পত্রিকা ছাপানোর কাজ চলছিল। এবারের নাম ‘ভাসানীর টেলিগ্রাম’। কিন্তু ‘শান্তি প্রেস’-এর একটি মাত্র ট্রেডল মেশিনে ২০ হাজার কপি পত্রিকা ছাপানো মোটেও সহজ কাজ ছিল না। কারণ  দুদিন ধরে অবিরাম ঝড় আর বৃষ্টি হচ্ছিল, বিদ্যুৎও যাচ্ছিল বার বার। সে অবস্থায়ও আগের দিন বিকেলে মওলানা ভাসানী আমার হাতে নতুন একটি প্রচারপত্রের খসড়া তুলে দিলেন। ১৪ এপ্রিল সকালে বিবৃতিটি লিখে দেখালাম, তিনি স্বাক্ষর দিলেন ‘মো. আবদুল হামিদ খাঁ ভাসানী’। স্বাক্ষরে তিনি ‘খাঁ’ লিখতেন, ‘খান’ নয় এবং ‘ভাসানী’ বসাতেন নিচের বা দ্বিতীয় লাইনে। বিবৃতির শেষাংশে মওলানা ভাসানী ঘোষণা করেছিলেন, ‘খাদ্যের দাবিতে’ তিনি ২৯ এপ্রিল থেকে আমরণ অনশন শুরু করবেন।

১৪ এপ্রিল মওলানা ভাসানীকে নেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে গাড়ি এসেছিল এগারোটার দিকে। ২০ হাজার কপি ‘ভাসানীর টেলিগ্রাম’ গাড়িতে ওঠানো হলো। মওলানা ভাসানী বসলেন সামনের সিটে, ঢাকা থেকে আগত রব্বানীয়া সমিতির কর্মীর সঙ্গে আমি বসলাম পেছনে। ১৯৭৪ সালের ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত পল্টন ময়দানের সে জনসভার কথা মনে থাকবে অন্তত একটি কারণে। আসলে ন্যাপ বা হুকুমতে রব্বানীয়া সমিতির মতো কোনো দলের কারণে নয়, মানুষের ঢল নামতো মওলানা ভাসানীর নামে। তিনি নিজেই ছিলেন এক বিরাট প্রতিষ্ঠান। সেদিন মঞ্চে কোনো পরিচিত রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, কোনো মিছিলও আসেনি কোনো প্ল্যাকার্ড বা ব্যানার নিয়ে। পল্টন ময়দান তবু জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। আমার দায়িত্ব ছিল সঙ্গে আনা ‘ভাসানীর টেলিগ্রাম’ বিক্রির ব্যবস্থা করা। যে যুবক-কর্মীরা সেদিন ২৫ পয়সার সে পত্রিকাটি ফেরি করে বিক্রি করেছিলেন, তাদের কাউকেই আগে চিনতাম না। আমি অবস্থান নিয়েছিলাম স্টেডিয়ামের বারান্দায়, ওরা প্রতি মিনিটে ছুটে আসছিলেন এবং আগের টাকা জমা দিয়ে নিচ্ছিলেন পঞ্চাশ কিংবা একশ করে নতুন পত্রিকা। অবিশ্বাস্য মনে হবে শুনলে— কিন্তু ২০ হাজার কপি ‘ভাসানীর টেলিগ্রাম’ সেদিন ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই নিঃশেষিত হয়ে গিয়েছিল। তখনো চাহিদা থাকায় আমাকে সেখান থেকে সরে পড়তে হয়েছিল। মওলানা ভাসানী তখন সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধের জন্য সর্বদলীয় ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছিলেন। ঘোষণা করেছিলেন, খাদ্যের দাবিতে ২৯ এপ্রিল থেকে তিনি আমরণ অনশন শুরু করবেন।

সভাশেষে ন্যাপ নেতাদের নিরাশ করে মওলানা ভাসানী গিয়ে উঠলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. মীর ফখরুজ্জামানের বাসায়, শহীদবাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. ফখরুজ্জামানকে মওলানা ভাসানী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিযুক্তি দিয়েছিলেন। আমার জানামতে, এজন্য কোনো বেতন নয়, সামান্য টাকা তাকে সম্মানী হিসেবে দেওয়া হতো। এর কারণ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন ওই সময়ে কাউকেই বেতন দেওয়ার মতো অবস্থা মওলানা ভাসানীর ছিল না। খুব গরিব দু-চারজন ছাড়া সবাই কাজ করতেন বেতন ছাড়া। খরচের সম্পূর্ণ অর্থই আসত মওলানা ভাসানীর মুরিদ এবং ভক্তদের সাহায্য থেকে। এটা পৃথক প্রসঙ্গ; কিন্তু সেদিনটির কথা না বলে পারা যায় না— যেদিন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের খাতে খরচ করার জন্য ড. মীর ফখরুজ্জামানকে মওলানা ভাসানী প্রথমবারের মতো টাকা দিয়েছিলেন। তারিখটি ছিল ১৯৭৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। সন্তোষের বড় দীঘির পশ্চিম পাড়ে ‘মুসাফিরখানা’র সামনে মওলানা ভাসানী তার হাতে মাত্র চারটি একশ টাকার নোট তুলে দিয়ে ‘খুব বুঝে শুনে’ খরচ করতে বলেছিলেন। পরিষ্কার মনে আছে, চারটির মধ্যেও একটি নোট আবার ছেঁড়া ছিল, মওলানার মুখে তখন লজ্জা পাওয়ার মতো হাসি। এ সময় মরহুম অধ্যাপক শাহেদ আলী এবং নাট্যকার অধ্যাপক আসকার ইবনে শাইখও উপস্থিত ছিলেন। ওদিকে জনসভার পর ড. মীর ফখরুজ্জামানের শহীদবাগের বাসায় ন্যাপ নেতারা আসছিলেন দলে দলে। সবাই উদ্বিগ্ন তার অনশনের সিদ্ধান্তে। মওলানা ভাসানীকে তারা বোঝালেন, কমিটিবিহীন অবস্থায় ন্যাপ কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে না। তাই অনশনের প্রধান উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। মসিউর রহমান এবং কাজী জাফরের নেতৃত্বাধীন উভয় গ্রুপই অবিলম্বে ন্যাপের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের সুপারিশ করলেন, তবে পৃথক পৃথকভাবে। মওলানা ভাসানী শুধু শুনে গেলেন, অপেক্ষা করতে বললেন এবং পরদিন সকালে ন্যাপ অফিসে যাবেন জানিয়ে সবাইকে বিদায় করলেন।

ন্যাপ নেতারা বিদায় নেওয়ার পর শোয়ার ব্যবস্থা হলো। ড. ফখরুজ্জামান তার বেডরুম ছেড়ে দিলেন মওলানা ভাসানীর জন্য। ভাসানীভক্ত এক যুবক ডাক্তারও থাকলেন সে ঘরটিতে। দরজার সামনে মেঝেতে তার বিছানা পাতা হলো। আমার কাছ থেকে পত্রিকা বিক্রির সংবাদ জানলেন মওলানা, খুশি হলেন। পরদিন সকালেই সন্তোষ ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানালেন তিনি। ড. ফখরুজ্জামানের হাসি-খুশি স্ত্রীকে বললেন খুব ভোরে নাশতার আয়োজন করতে। দুজন ব্রিটিশ সাংবাদিক আসবেন তার সাক্ষাৎকার নিতে, তাদের জন্যও খাবার রাখতে বললেন।

পরদিন, ১৫ এপ্রিল সকালে ঘুম ভাঙল হৈচৈয়ের শব্দে। মওলানা ভাসানীকে পাওয়া যাচ্ছে না! বাসার প্রত্যেকেই ছুটছেন ব্যস্তভাবে। একে অন্যকে জিজ্ঞেস করছেন তার সম্পর্কে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন বেচারা যুবক ডাক্তার। তিনি ঘুমিয়েছেন ঘরের দরজার ঠিক সামনে, তার অন্তত জানা উচিত— কখন কীভাবে মওলানা বেরিয়ে গেছেন ঘর থেকে। তিনিও কিছুই জানেন না। মওলানা ভাসানীর প্রাত্যহিক জীবনধারা সম্পর্কে জানতাম বলে সন্ত্রস্ত ড. ফখরুজ্জামানকে আমি আশপাশের মসজিদগুলোতে খোঁজ করতে বললাম। কথাটা সবার পছন্দ হলো, সবাই ছুটলেন সঙ্গে সঙ্গে। একটু পরই সংবাদ এলো, শহীদবাগের একটি মসজিদে মওলানা ভাসানী ফজরের নামাজ পড়েছেন, নামাজ শেষে আলাপ করেছেন মুসল্লিদের সঙ্গে। তারপর তিনি কোথায় গেছেন, তা ইমাম সাহেব বলতে পারেননি। ফলে আবার উদ্বেগের পালা শুরু হলো, সবাই আবারো বেরিয়ে পড়লেন। কারো না কারো কাছে জানা যাবেই। কারণ যিনি ‘হারিয়ে’ গেছেন তিনি মওলানা ভাসানী। দেখতে দেখতে সকাল আটটাও পেরিয়ে গেল। রাশেদ খান মেননসহ ন্যাপ নেতাদের অনেকে এসে গেলেন, এলেন বিদেশি সাংবাদিক দুজনও। তারা অবাক হলেন শুনে, মওলানা ভাসানীর মতো নেতাও এমনভাবে নিখোঁজ হতে পারেন! সাংবাদিক দুজনও বেরিয়ে পড়লেন নেতাকে খুঁজতে! এমন বিচিত্র অভিজ্ঞতার সুযোগ তারা হারাতে চান না।  আমি কিন্তু খুঁজতে যাইনি কোথাও। মনে উদ্বেগ থাকলেও জানতাম, মওলানা ভাসানীর নিরাপত্তার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সরকার বিশেষভাবে লক্ষ রাখত। আমি তাই নিশ্চিত ছিলাম, মওলানা ভাসানী যেখানেই থাকুন নিরাপদেই আছেন। আমি তাই খুঁজতে যাওয়ার পরিবর্তে নাশতা খেতে বেরিয়ে পড়লাম। রাজারবাগ পুলিশ সদর দফতরের প্রধান গেটের উল্টোদিকে শহীদবাগে প্রবেশের রাস্তার মাথায় তখন একটি ছোট রেস্তোরাঁ ছিল, সেখানে খেতে গেলাম। খেতে খেতেই ‘মওলানা ভাসানী’ নামটি শুনলাম কয়েকবার, রেস্তোরাঁর সবাই আলাপে আলাপে বলছিল তার কথা। জিজ্ঞেস করতেই একজন পুলিশ সদর দফতরের দিকে আঙুল তুলল, দেখলাম প্রবেশপথের পাশে অবস্থিত মাজারে অনেক মানুষের ভিড়। গিয়ে দেখি মাজারের বাঁধানো সিঁড়িতে বসে মওলানা ভাসানী কথা বলছেন, শ্রোতাদের অধিকাংশই পুলিশের লোক। আলোচনার বিষয় শুনলাম ঘুষ এবং দুর্নীতি— পুলিশের সদর দফতরের মাজার প্রাঙ্গণে বসে মওলানা ভাসানী পুলিশদের উপদেশ দিচ্ছেন ঘুষ না খাওয়ার জন্য! বলছেন, পুলিশই এদেশে সবচেয়ে বেশি ‘ঘুষখোর’ হিসেবে নিন্দিত। ভিড় তখনো বাড়ছিল, আগত প্রত্যেকে গিয়ে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করছিল মওলানাকে।

আমাকে দেখেই মওলানা ভাসানী নড়েচড়ে বসলেন, উঠে দাঁড়ালেন। জানতে চাইলেন বিদেশি সাংবাদিক দুজন এসেছেন কিনা। পুলিশ কর্মকর্তারা গাড়ি আনতে চাইলেন, মওলানা ভাসানী না করলেন। আমরা বেরিয়ে এলাম। রাস্তায় আসতেই দেখি উভয় দিক থেকে ছুটে আসছেন সন্ধানকারীরা, তাদের মধ্যে ছিলেন বিদেশি সাংবাদিক দুজনও। ড. মীর ফখরুজ্জামানের বাসায় ফিরে জানা গেল, মওলানা ভাসানীর সকালের খাওয়া হয়ে গেছে রাজারবাগ মাজারে। তিনি আমাদের কথা জানতে চাইলেন, খাওয়াতে বললেন সাংবাদিক দুজনকে। বিস্ময়ে অভিভূত সাংবাদিকরা মওলানার সাক্ষাৎকার নিলেন, দোভাষীর কাজ করলেন রাশেদ খান মেনন। মওলানা ভাসানী ইংরেজি পুরোপুরি বলতে না পারলেও বুঝতেন অন্যের কথা। ফলে তাকে প্রশ্ন বোঝাতে হতো না, অনুবাদ করতে হতো শুধু তার নিজের বক্তব্যটুকু। তার কথায়ও থাকত অনেক ইংরেজি শব্দ।

সেদিন সন্তোষের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়তে বেলা প্রায় ১২টা বেজে গিয়েছিল। গাড়িতে সামনে মওলানা ভাসানী, পেছনের সিটে ছিলাম আমি আর ‘হক-কথা’ সম্পাদক সৈয়দ ইরফানুল বারী। ফার্মগেটে মওলানা গাড়ি থামাতে বললেন, ‘বাবুর মা’— বেগম আলেমা ভাসানীর জন্য পানের জর্দা কিনতে হবে। গাড়ি থামাতেই ভিড় জমতে লাগল। কে একজন দরজা খুলে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলেন, ‘সালামি’ও দিলেন ‘হুজুর’-কে। দরজা খোলাই রইল শেষ পর্যন্ত, সালাম আর সালামির পালা চলল অনেকক্ষণ। জর্দা এসে গেল কয়েক ডিব্বা, এল ফলফলাদিও। বিশেষ করে এত বেশি তরমুজ এসেছিল যে, নেওয়ার মতো জায়গা ছিল না গাড়িতে। এখানেও মওলানা ভাসানী আন্দোলনের কথা বললেন, জানালেন তার অনশনের সিদ্ধান্ত। মানুষের ভিড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার অবস্থা হতেই মওলানা ভাসানী গাড়ি ছাড়তে বললেন। না হলে আর একটু পর তাকে সেদিন সেখানেই জনসভার ভাষণ দিতে হতো!

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads