• বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬
ads

মতামত

নতুন সরকার, নতুন ভাবনা

  • মহিউদ্দিন খান মোহন
  • প্রকাশিত ১২ জানুয়ারি ২০১৯

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে গত সোমবার (৭ জানুয়ারি)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এ নিয়ে তিনি টানা তৃতীয় মেয়াদে এবং মোট চারবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরবের অধিকারী হলেন। বিশ্ব ইতিহাসেও এটা বিরল ঘটনা। রাজনীতিক হিসেবে এ ঘটনা শেখ হাসিনার জীবনের অনন্যসাধারণ গৌরবের। এমন কৃতিত্বের জন্য তিনি অভিনন্দন পেয়েছেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। প্রতিদিন দৈনিক পত্রিকাগুলোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেওয়া বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রকাশিত হচ্ছে তার এবং তার নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশার কথা। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের লেখা কলামেও উঠে আসছে সেসব।

নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে চমক দেখাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সবাই সে চমক দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। নানাজন নানান রকম জল্পনা-কল্পনা করেছেন তা নিয়ে। শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা ৪৭ সদস্যের যে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন, আক্ষরিক অর্থেই তা চমকে ভরা। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি পূর্ববর্তী মন্ত্রিসভার ৩৪ সদস্যের। তাদের মধ্যে ২৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও ২ জন উপমন্ত্রী। এদের মধ্যে বার্ধক্যজনিত কারণে বিদায় নিতে হয়েছে কয়েকজনকে। আর কয়েকজনের কপাল পুড়েছে আগের সরকারের সময় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া এবং সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নের সম্মুখীন করার অভিযোগে। অবশ্য এ সবই অনুমাননির্ভর মন্তব্য। প্রকৃত অর্থে কোন কারণে কাকে ছেঁটে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী তা শুধু তিনিই জানেন। তবে বাদপড়াদের মধ্যে এমন কয়েকজনের নাম রয়েছে, যাদের মন্ত্রিসভা থেকে অনেক আগেই বাদ দেওয়াটা ছিল জনপ্রত্যাশা। বিশেষ করে পরিবহন শ্রমিক নেতা কাম মন্ত্রীকে বিদায় দেওয়ার দাবি উঠেছিল আরো আগেই। গত বছর নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজ শিক্ষর্থীদের আন্দোলনের সময় ওই মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠেছিল। যদিও তখন তাকে বাদ দেননি প্রধানমন্ত্রী। তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়ও এবার জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন নতুন মন্ত্রীদের তালিকায়। প্রধানমন্ত্রীর অতিশয় ভক্ত (অতিভক্তি কিসের লক্ষণ তা উহ্য রাখলাম) ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তীব্র সমালোচক ওই মন্ত্রী কেন এবার ছিটকে পড়লেন, তা নিয়ে আলোচনা সর্বত্র। অনেকেই বলছেন, বছর খানেক আগে আওয়ামী লীগকে আশি পয়সা এবং নিজেদেরকে কুড়ি পয়সা বলে ‘এক টাকা’র হিসাব উত্থাপন করে তিনি সরকারের নীতি নির্ধারকদের রোষানলে পড়েছিলেন তখনই। কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় তখন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন থেকে বিরত থেকেছেন সরকারপ্রধান। অবশ্য অনেকেই বলছেন, নিজ দলের নেতাদের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী এবার জোটসঙ্গীদের মন্ত্রিপরিষদের বাইরে রেখেছেন। মহাজোটে আওয়ামী লীগের বাইরে বড় অংশীদার জাতীয় পার্টিকে বলা হয়েছে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে। তারা সে পথই অনুসরণ করেছে। বাকিদেরও মন্ত্রিসভায় জায়গা না দিয়ে একই পথ অনুসরণের জন্য ‘অ্যারো মার্ক’ দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভা গঠনে প্রধানমন্ত্রীর এ চমক আক্ষরিক অর্থেই সবাইকে চমকিত করেছে। কেউ চিন্তাও করতে পারেননি তিনি তার রাজনৈতিক পথচলার দীর্ঘদিনের এসব সঙ্গীকে এবার সাথে নেবেন না। পরিবর্তে তিনি বেছে নিয়েছেন এমন সব তরুণ নেতাকে, যারা দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দক্ষতা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। একই সঙ্গে আস্থা অর্জন করেছেন দলীয় প্রধানের। অপেক্ষাকৃত তরুণ এসব নেতা সরকার চালানোর ক্ষেত্রে কতটা দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবেন, তা অবশ্য এখনই বলা যাবে না। সেজন্য আরো অপেক্ষা করতে হবে।

বাদপড়া মন্ত্রীরা কে কী ভাবছেন তা স্থান পাচ্ছে আলোচনায়। তারা কি প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তকে হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন, নাকি মনে যন্ত্রণার আগুন চেপে রেখে মুখে হাসি ধরে রেখেছেন কষ্ট করে? পত্রিকার খবর অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার শপথের দিন নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বাদপড়া মন্ত্রীরা বিদায় নিয়েছেন স্বীয় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে। দৃশ্যত তা হাসিমুখে বিদায় নেওয়া হলেও তাদের মনোকষ্টের বিষয়টি অজানা থাকেনি। বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘আগামী ২৫ জানুয়ারি আমার বয়স ৮৬ বছর হবে। এই বয়সে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জটিল কাজ করার সক্ষমতা আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। ঝেঁটিয়ে বিদায় হওয়ার চেয়ে অবসরে যাওয়া অনেক ভালো।’ অর্থমন্ত্রীর এ মন্তব্য আরো এক বছর মন্ত্রিত্বে থাকার আশা ভঙ্গজনিত ক্ষোভপ্রসূত বলে মনে করছেন অনেকে। তবে প্রবীণ এই সাবেক আমলা বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্যের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘এই সংসার যাওয়া আসার রঙ্গমঞ্চ। সরকারি চাকরিজীবীদের মেয়াদ শেষ হলে চলে যেতে হবে। আমি সংসদে থাকব। এমপি হিসেবেই জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করতে পারব।’ আর বহুল আলোচিত-সমালোচিত শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘দশ বছর ধরে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম। নতুনদের জায়গা দিতে আমাদের সরতে হয়েছে। এটাই জগতের নিয়ম’ (সূত্র : দেশ রূপান্তর, ৮ জানুয়ারি ২০১৮)। নতুন মন্ত্রিসভায় ঠাঁই না পাওয়া মন্ত্রীদের মনে যা-ই থাকুক না কেন, প্রকাশ্যে তারা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নেওয়ার কথা বলবেন এটাই স্বাভাবিক। শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বাইরে তারা যেতে পারবেন না এবং যাবেন না সঙ্গত কারণেই। তবে বঙ্গভবনে সেদিন শপথ অনুষ্ঠানে তাদের ম্রিয়মাণ মুখ দেখে ভেতরের যন্ত্রণার বিষয়টি বুঝতে বাকি থাকেনি কারো। অবশ্য বাদপড়া প্রবীণদের মধ্যে দু-চারজনকে প্রধানমন্ত্রী সম্মানজনক কাজে লাগাবেন- এমনটি মনে করছেন কেউ কেউ। যেহেতু বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রী এখনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি, সেহেতু সম্ভাবনার দরজা একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে তা বলা যাবে না।

এদিকে নতুন এই মন্ত্রিসভা নিয়ে সচেতনমহলে চলছে নানা বিশ্লেষণ। বিশিষ্টজনরা প্রকাশ করেছেন তাদের অভিমত। তারা নতুনদের আগমনকে যেমন সম্ভাবনাময় এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির জন্য শুভ আলামত বলে মন্তব্য করেছেন, তেমনি হঠাৎ একসঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবীণের বিদায়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছেন কেউ কেউ। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘এখানে প্রবীণ এবং নবীনদের ঠাঁই হয়েছে। তারুণ্যের শক্তি এবং প্রবীণের অভিজ্ঞতা দুইয়ে মিলে যে মন্ত্রিপরিষদ হলো, আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তারা সফল হবেন সেটি বিশ্বাস করা যেতেই পারে।’ এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেছেন, “নতুন উদ্যোগে ‘ম্যানেজমেন্ট অব কম্বিনেশন অব নিউ স্কিল’ বলে একটি কথা আছে। এখানে সেই নবীন ও প্রবীণের নতুন মাত্রা, নতুন উদ্যম ও কর্মস্পৃহা দেখতে পাচ্ছি; যা সবারই প্রত্যাশিত ছিল।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘সবকিছুই নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। মন্ত্রিসভা নতুন-পুরনোর সমন্বয়ে হয়েছে সেটা খারাপ কিছু নয়। আশা করি এ মন্ত্রিসভা দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে।’ সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, চমকের মন্ত্রিসভার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ইশতেহারের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন। দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্সে নামিয়ে আনা, কার্যকর সুশাসন নিশ্চিত ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।’  সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারও সামগ্রিকভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে নতুন সরকারের সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন (যুগান্তর, ৮ জানুয়ারি ২০১৮)। অপরদিকে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গবেষক লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, ‘প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বের মূল্য রয়েছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করে এসেছেন, জনগণের মধ্যে তাদের একটি প্রভাব আছে। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্মের নেতাদের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে আরেক রকম অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা রয়েছে। মন্ত্রীদের রুটিন কাজ জনগণ বুঝবে না। জনগণ দেখবে মন্ত্রীরা দেশের উন্নয়নে কতটা অবদান রাখছেন’ (সমকাল, ৮ জানুয়ারি ২০১৮)। বস্তুত নতুন সরকার বা মন্ত্রিসভা জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একদিকে নবীনদের আগমনকে তারা সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের লক্ষ্যে গৃহীত সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে অভিজ্ঞতার ঘাটতির দরুন অনেক শুভ উদ্যোগের ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন। তবে এর সাফল্য-ব্যর্থতা যে পুরোপুরি দায়িত্বপ্রাপ্তদের চিন্তা-ভাবনা ও কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিগত সময়ে আমরা অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে বহু ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে দেখেছি। কেউ কেউ নানা বিষয়ে লাগামহীন কথা বলে জনগণের বিরক্তি উৎপাদন করেছেন। অনেকের বিরুদ্ধে উঠেছে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধকর্মে প্রশ্রয় ও মদত দেওয়ার অভিযোগ। সেসব অভিযোগ যে প্রধানমন্ত্রীর গোচরে ছিল, তা এবারের মন্ত্রিসভা গঠনের কায়দা থেকেই অনুমান করা যায়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগের দিন বাংলাদেশের খবরে ‘সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্রের সৌন্দর্য’ শিরোনামে আমার লেখাটিতে দেশবাসীর একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। অস্বীকার করার উপায় নেই, দেশবাসীর সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। নির্বাচন যে সর্বাংশে সুষ্ঠু ও অবাধ হয়নি তা লুকানো যাবে না। তবে সে নির্বাচনেই বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে এবং নতুন সরকার শপথ নিয়েছে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও যে মন্ত্রিসভা গত সোমবার শপথ নিয়েছে, তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। সংবিধান মতে, এ সরকার আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। একটি সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ভাত-কাপড় আর জীবনের নিরাপত্তা। এগুলো নিশ্চিত করা গেলে সরকার সে যেভাবেই ক্ষমতাসীন হোক, জনগণের আস্থা অর্জন করা কঠিন কোনো কাজ নয়। নতুন সরকার যদি সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে নির্বাচন নিয়ে ঘনীভূত প্রশ্ন সময়ের ব্যবধানে অনেকাংশেই চাপা পড়ে যাবে। তবে সেজন্য সরকারকে গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির প্রতি তার শ্রদ্ধা ও আস্থার প্রমাণ দিতে হবে। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা যাবে না কোনো মতেই। তাদের সভা-সমাবেশ-মিছিল করতে দিতে হবে। সরকারকে মনে রাখতে হবে, এগুলো খর্ব হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অধিকতর মনোযোগ দিতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবলম্বন করতে হবে কঠোরতা।

সবে যাত্রা শুরু করল নতুন সরকার। মন্ত্রিপরিষদ নতুন হলেও ক্ষমতাসীন হয়েছে আগের দলটিই। অবশ্য একটু ব্যতিক্রম আছে। আগের সরকার ছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার। এবার গঠিত হয়েছে আওয়ামী লীগের একক সরকার। শরিকদের বাদ দিয়ে সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী কী একলা চলো নীতি অবলম্বন করলেন?  যদি তা-ই হয়, তাহলে তিনি বা তার সরকার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে সাবলীলভাবে পৌঁছতে পারবেন কি? সময়ই দেবে এ প্রশ্নের জবাব।

 

লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads