• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

মতামত

দ্রুত বাস্তবায়ন হোক তারুণ্যের আহ্বান

  • নাজমুল হোসেন
  • প্রকাশিত ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

সব জল্পনা-কল্পনা এবং আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে জয়ী করতে, স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে তরুণরা আবারো ক্ষমতাসীন দলকেই বেছে নিল। আর আওয়ামী লীগের এমন নিরঙ্কুশ জয় ও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমর্থনের মাধ্যমে জনগণ আবারো বুঝিয়ে দিল তারা উন্নয়ন, শান্তি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও নীতিকেই লালন করতে চায়। আর সেই সুবাদে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া মন্ত্রীরাও শপথ নিয়েছেন। তারা সবাই গোটা জাতিকে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি রক্ষার ব্যাপারে বারবার আশ্বস্ত করছেন। বিগত দশ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের দুই আমলে দেশের বিভিন্ন সূচকে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে তাতে জনগণের কাছে এই সরকারের ধারাবাহিকতা এখন একান্ত কাম্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষিত দেড় কোটি বেকারের কর্মসংস্থান, তাদেরকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর, শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা তৈরি প্রতিশ্রুতি তরুণদের আকৃষ্ট করেছে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানো।

বিগত সাত বছরে তরুণদের এই দাবিটি নবম ও দশম জাতীয় সংসদ, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বেশ কয়েকবারের সুপারিশ, মাঠপর্যায়ের আন্দোলন, পত্র-পত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে তথা সব মহলে তুমুল আলোচনার ঝড় তুলেছিল। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী মন্ত্রীরাও বারবার তরুণদের আশার আলো দেখিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে সরকারের ক্ষমতার অন্তিম মুহূর্তে তরুণরা মন্ত্রিসভা ভাঙার আগেও আশায় বুক বেঁধে বারবার পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শাহবাগ ও জাতীয়  প্রেস ক্লাবে অবস্থান, মানববন্ধন করে দাবি জানিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের কয়েক দিন আগে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী,  সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনিসহ সরকার সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন বিভিন্ন সময় বলেছিলেন নতুন করে ক্ষমতায় আসলে এই দাবি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেবেন। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই বয়সসীমা কত বছর বাড়ানো হবে? প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই বুঝেন, যারা প্রথম এই দাবি তুলেছিল, যারা বিগত বছরগুলোতে আন্দোলন করল বয়সসীমা কম করে বাড়ালে তারা তো কোনো সুযোগ পাবে না। ঘরে বসে বিনা পরিশ্রমে সুযোগ পাবে শুধু নবাগত চাকরিপ্রার্থীরা। আমরা দেখেছি প্রধানমন্ত্রী সর্বক্ষেত্রেই সঠিক ও সুবিচার করে থাকেন। তিনি সবাইকে কমবেশি খুশি রাখেন। গত সাত বছর ধরে তরুণদের দাবি ছিল সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ন্যূনতম ৩৫ বছর করা। কিন্তু এই দাবি নিয়ে যেসব তরুণ আন্দোলন করে আসছিল এখন তাদের বয়স ৩৫-এর দ্বারপ্রান্তে। তাই আশা করব প্রধানমন্ত্রী সবাই যাতে অন্তত আবেদনের পর্যাপ্ত সুযোগ পায় সেই সুবিচার ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেভাবেই এর বাস্তবায়ন করবেন। পাশাপাশি সকল শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে সকল মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিতে পারেন। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী হয়তো ভাবছেন স্বাধীনতাবিরোধী বা যুদ্ধাপরাধীর সন্তানরা এতে করে প্রজাতন্ত্রের কর্মে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন সোনার বাংলাকে কলঙ্কিত করতে পারে। তাই সরকারের পাশাপাশি এর বিরোধী বর্তমান তরুণ প্রজন্ম, মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানরাও। অন্তত এদের জন্য যেন অন্যরা

চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য চাকরিতে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র প্রদানের আগে সঠিকভাবে তদন্ত পূর্বক প্রার্থীদের পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী চাইলেই কোনো বিশেষ আইনের মাধ্যমে সুবিধা দিয়ে মানবতার দৃষ্টিতে সুবিচারস্বরূপ তাদের মুখেও হাসি ফুটাতে পারেন।

আইন তো প্রয়োজনের তাগিদেই তৈরি করা হয়। তাই ত্রিশোর্ধ্বদের জন্য তিনি এমন একটি আইন তৈরি করতে পারেন যেখানে এর প্রজ্ঞাপনের পরই কমপক্ষে ৩ বছর পর্যন্ত আইনের আওতাভুক্তরাই শুধু সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে পারবেন। আর এই ক্ষণস্থায়ী বিশেষ আইনটি নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরই আপনা থেকেই বাতিল হয়ে যাবে। এতে একদিকে যেমন চাকরিতে প্রবেশের বয়স স্থায়ীভাবে বাড়ল না তেমনি অন্যদিকে নবাগত চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে বা অবসরের বয়স বাড়ানো নিয়েও নতুনভাবে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমস্যার সৃষ্টি হবে না।

ফলস্বরূপ অন্তত হতাশায় থাকা তরুণরা এমন সুযোগ পাওয়ার মাধ্যমে এতটুকু সান্ত্বনা পাবে। আর বর্তমানে যেহেতু আগের মতো সেশনজট নেই তাই নতুনরা এই সুবিধা না পেলেও চলবে। তাদের জন্যও অন্য কোনো সুবিধার কথা ভাবা যেতে পারে। কারণ তারা যথাসময়েই অনার্স বা মাস্টার্স শেষ করতে পারছে।

এরপরও সরকার বয়স বাড়াতে চাইলে সবাই সুযোগ পাবে সেই চিন্তা মাথায় রেখেই বয়স বাড়াবে বলে আশা করছি। তরুণদের জন্য ইশতেহারে রাখা অনেক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সময় সাপেক্ষ ব্যাপারও বটে। তবে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর জন্য কোনো সময় বা বাড়তি পরিকল্পনার দরকার আছে বলে মনে করি না। তাই ইশতেহার রাখা এই প্রতিশ্রুতির যত দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে হতাশায় দিনাতিপাত করা এইসব বেকারের জন্য ততই ভালো হবে।  কেননা এক দিন আগে সুযোগ পাওয়া মানেই একটা দিন আগে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সমান। তাই আশা করব প্রধানমন্ত্রী অতি গুরুত্বের সাথে ইশতেহারে তরুণদের জন্য চাকরিতে প্রবেশের বয়স সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ পূর্বক দ্রুত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সুবিচারস্বরূপ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

 

লেখক : প্রকৌশলী

nazmulhussen¦yahoo.com

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads