• রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা

খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা

প্রতীকী ছবি

মতামত

খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা

  • সাঈদ চৌধুরী
  • প্রকাশিত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

খুব খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে এটা খুব ভালো এবং খারাপ হচ্ছে রোগও বাড়ছে। মানুষ ভাবছে শুধু ওষুধ কিনলেই রোগ ভালো হবে কিন্তু কেউ জানছে না বা বুঝছে না কেন রোগ হচ্ছে! আবার খাবারে ত্রুটি মানেই ভেবে নিচ্ছে ফরমালিন দেওয়া বুঝি! এতে অসাধুরাও চরমভাবে লাভবান হয়ে যাচ্ছে! এর সঙ্গে যে কত ধরনের দূষক রয়েছে তা নিয়ে কার ভাবনা? সোডিয়াম বাই-কার্বনেট, সাল্টু, ঘন চিনি, গুড়ের নামে বিষাক্ত পুরনো চিটাগুড়, রাসায়নিক সার দিয়ে খাবার তৈরি, গুঁড়ো দুধে গরুর দুধের কোনো উপাদানই না থাকাসহ হাজারো ক্ষতিকর ও বিষাক্ত উপাদান খাবারের সঙ্গে ঢুকছে আমাদের শরীরে!

যেভাবে খাবারে বিষ, পানিতে বিষ, দুধে বিষ, সিসা, মাংসে কেমিক্যাল, সিসা, ভারী ধাতুর উপস্থিতির কথা বলা হচ্ছে তাতে করে এখন বুঝি আর কোনো খাবারই সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ নেই। বিষাক্ত পদার্থ, কেমিক্যাল, ভারী ধাতুযুক্ত পদার্থ সব কিছুর ব্যবহার বেড়েছে। গত দুই যুগে শিল্পায়নের প্রভাবে যা যা পদার্থ আমরা ব্যবহার বাড়িয়েছি সে সে পদার্থই এখন খাদ্যে পাওয়া যাচ্ছে। খুব সহজ ভাষায় আপনি নিজেই অনুমান করতে পারেন বিষয়টি। টাইটেনিয়াম, নিকেল, আর্সেনিক, ম্যাঙ্গানিজ ও ক্রোমিয়াম ধাতুগুলো তো বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না বা আমরা এগুলো তেমনভাবে খনি থেকে উত্তোলনও করি না। তবে এলো কোথা থেকে এগুলো? প্রশ্নটা যেমন আসছে তেমনি এর উত্তরও কিন্তু আছে।

ধরুন মাটির ফিল্টারিং ক্ষমতা বা মাটির মধ্যে বিশোধন করার ক্ষমতা পৃথিবীর সকল জায়গায় এক রকম নয়। কিন্তু আমরা যে রাসায়নিকগুলো ব্যবহার করছি এবং তা থেকে যা উৎপাদন করছি তার যে উপাদানগুলো তা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে এনে তা ব্যবহার করছি এবং সবগুলো যৌগই হচ্ছে বিভিন্ন যৌগের সমন্বয়ে গঠিত। যে দেশ থেকে বা যেকোনো নির্দিষ্ট জায়গা থেকে একটি দ্রব্য এনে যখন কম্পোজিট দূষিত যৌগ তৈরি করে ফেলছি তখন কিন্তু মাটি, পানি এবং বাতাস তা নিতে পারছে না।

খুব দূরে যাওয়ার দরকার নেই। আমাদের কৃষি ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন হচ্ছে। আগে যেখানে যে ধরনের ফসল বা বৃক্ষ বেশি হতো এখন সেখানে সেই প্রজাতির বৃক্ষ বা ফসল কি আগের মতোই উৎপাদিত হয়? কারণ বাতাসে, পানিতে ও মাটিতে তার উপাদানের বিভিন্নতা। সকল উপাদানে মিশ্রিত কঠিন কম্পোজিট যৌগগুলোর একত্রীকরণে আজ পৃথিবী পুরোটাই দূষিত। আমরা দূষণ দেখি না বলে তা অনুধাবন করতে পারি না। ঢাকার বায়ুদূষণ বাড়ছে, ফুসফুসের রোগ, কিডনি রোগ, ব্লাড প্রেসারের রোগী বাড়ছে কয়জন বুঝবে এতে পরিবেশের দায় আছে?

মাহবুব কবির মিলন- যিনি খাদ্য বিষয়ক উচ্চ পদস্থ একজন কর্মকর্তা, তিনি খাদ্যে দূষণ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন অনেক দিন থেকে। সাফল্যও আসছে কিন্তু তাতেই কি শেষ হচ্ছে? এই ব্যক্তির মতো অনেক মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। পন্থা আবিষ্কার করতে হবে সবুজ রাসায়নিক ব্যবহারের। প্রত্যেকটি শিল্পে গ্রিন কেমিস্ট্রি বিষয়টি স্পষ্ট করে অনেক কাজ করতে হবে সরকারকে। অপেক্ষাকৃত কম দূষিত কেমিক্যাল ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে শিল্পগুলোয়। দুটো পথ খোলা রয়েছে সামনে। নিরাপদ খাদ্যের জন্য এমন প্রযুক্তি এবং এমন কিছু ফসল উৎপাদন করতে হবে যা সম্পূর্ণ জৈবিক উপাদানের সমন্বয়ে। আরেকটি পথ তা হলো আস্তে আস্তে এমন

উপাদানের ব্যবহার শিল্পায়নে বাড়াতে হবে যে পদার্থগুলোয় ভারী ধাতুর সমন্বয় কম থাকবে।

 

লেখক : সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি

শ্রীপুর, গাজীপুর

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads