• মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭
ads
বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে মৃত ইরানি জেনারেলের প্রভাব

ফাইল ছবি

মতামত

বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে মৃত ইরানি জেনারেলের প্রভাব

  • প্রকাশিত ১১ জানুয়ারি ২০২০

রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব যাদের ওপর অর্পিত হয় তাদের সর্বোচ্চ মেধার ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি যে কোনো পরিস্থিতিতে দৃষ্টান্তমূলক সংযমের পরিচয় দিতে হয়। বিশ্ব রাজনীতির মোড়লরা মাঝেমধ্যে এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করে বসেন, যা বিশ্বশান্তির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তারা ভালো করেই জানেন যে, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে মোড়লের কোনো কাজ থাকবে না। গত ৩ জানুয়ারি শুক্রবার তেমন এক কুকর্ম করে বসলেন আমেরিকার উন্মাদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সকল প্রকার আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার, নিয়ম-রীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে সন্ত্রাসী কায়দায় খুন করেছে ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি জেনারেল কাসেম সুলায়মানিকে। শতাব্দীকাল ধরে অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে এই বর্বর হামলা জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে কোটি কোটি ব্যারেল পেট্রল ঢেলে দেবার মতো ঘটনা।

ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর জেনারেল বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর এলিট কুদস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলায়মানিসহ পাঁচজন নিহত হন। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তার গাড়ি বহরকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। দুটি আমেরিকান এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন দিয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়ের ফাঁস হওয়া আইনি নথিতে দেখা যায়, উপস্থিতি অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে হোয়াইট হাউজ সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যার নির্দেশ দিতে পারে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে গাড়িবহর বের হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়া এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্সও।

জেনারেল কাসেম সোলায়মানির জীবন ছিল কিংবদন্তির মতো। কণ্টকাকীর্ণ শৈশব থেকে পরবর্তী সংগ্রামী বিপ্লবী হয়ে যাওয়া এই জেনারেল ১৯৫৭ সালে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরমান শহরের উপকণ্ঠে জন্মগ্রহণ করেন। কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া সোলাইমানি অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা পাঁচ বছরেই শেষ করেন। তিনি নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে জীবন শুরু করেন। এরপর উপার্জিত পয়সায় ১০০ ডলারের মতো পারিবারিক কৃষিঋণ শোধ করেন। ইরানের হতদরিদ্র নির্মাণ শ্রমিকটিই পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডারে পরিণত হন। কর্ম জীবনের প্রথম দিকে করেছেন কৃষিকাজও। ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইরান বিপ্লবের মাধ্যমে শাহ শাসনের পতনের পর তিনি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একটি ইউনিটে যোগদান করেন। দুই মাসের একটি ক্যাম্পে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরানের ওপর ইরাকের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে জেনারেল সোলায়মানি কেরমানের ৪১ সারুল্লাহ ডিভিশনের নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৭ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তাকে আইআরজিসির কুদস বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেন। সে সময় ইরানের পূর্ব সীমান্তে উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবান যে হুমকি সৃষ্টি করেছিল তার অবসান ঘটাতে সক্ষম হন তিনি। ২০১১ সালের ২৪ জানুয়ারি কাসেম সোলায়মানি মেজর জেনারেল পদে উন্নীত হন। এ সময় ইসরায়েল-আমেরিকার পৃষ্ঠপোষকতায় মধ্যপ্রাচ্যে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আইএস ইরাক ও সিরিয়ায় ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে এবং মানবতাবিরোধী ভয়াবহ সব অপরাধযজ্ঞ সংঘটিত করে। জেনারেল সোলায়মানি কুদস বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে এ সময় এই জঙ্গিগোষ্ঠীকে দমনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিপ্লবী চেতনায় উজ্জীবিত অভিজ্ঞ সোলায়মানির যুদ্ধের হিসাব ঘনিষ্ঠভাবে জানা ছিল। ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় অধিকাংশ বড় সামরিক অভিযানে তিনি জড়িত ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের কাছে সোলাইমানি ছিলেন যোদ্ধা, দার্শনিক ও পরম ধার্মিক ব্যক্তি। কিন্তু যুদ্ধের মাঠে  ছিলেন চরম বাস্তববাদী।

সামরিক দূরদর্শিতাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা বাহিনী আমেরিকার সিআইএ এবং ইসরায়েলি মোসাদের হিট লিস্টের টপ নাম্বার ওয়ান পারসন ছিলেন ইরানি এই জেনারেল। কারণ মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বে ইরানের প্রভাব বিস্তারের প্রধান অনুঘটক ছিলেন তিনি। বিশ্বব্যাপী একথা বহুল প্রচলিত যে, বিশ্বের নাম্বার ওয়ান জেনারেল ও সবচেয়ে কুশলী সমরবিদ জেনারেল কাসেম সোলায়মানি। ইরানে সুলেয়মানি বিখ্যাত তারকাদের চেয়েও বেশি জনপ্রিয়। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং তাদের মিত্র ইসরায়েলের মোসাদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল। বিগত ২০ বছর যাবৎ তাকে বহুবার হত্যাচেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্ররা। যা এবার পুরাপুরি  সফল হলো। বাহ্যত আমেরিকা-ইসরায়েল সফল হলেও সোলায়মানি হত্যার সুদূরপ্রসারী ফলাফল সময়ই বলে দেবে। প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা ব্যতীত এমন ঘটনার নজির ইতিহাসে বিরল। ইতোমধ্যে বিশ্বশক্তিগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কেউ কেউ বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার গন্ধও পাচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তেল সরবরাহকারী দেশ ইরানের শীর্ষ জেনারেল নিহত হবার সাথে সাথে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম চার শতাংশ বেড়ে গেছে। অস্থিরতা বিরাজ করছে বিশ্ব পুঁজিবাজারে।

ইরাক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী জেনারেল সোলায়মানির ইরাক সফরের নেপথ্যে ছিল ইরানের সাথে সৌদি আরবের দূরত্ব কমিয়ে আনার এজেন্ডা। খুব সহজেই অনুমেয় যে, জেনারেল সোলায়মানি হত্যার মূল উদ্দেশ্য হলো মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সৌদি সম্পর্ক জোরদার হলে তা আমেরিকা-ইসরায়েলের জন্য দুঃস্বপ্নের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। যাহোক, ঘটনার আকস্মিকতায় ইরান তাৎক্ষণিক বিমূঢ় হয়ে পড়লেও তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব চরম প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে রেখেছে। শুধু ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যে নয়, এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে ইরান ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দুই সেনা ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। কোনো সংবাদমাধ্যম বলছে ৮০ জন মার্কিন সেনা নিহত। অথচ যুক্তরাষ্ট্র বলছে কেউ হতাহত হয়নি। এ যেন এক ইঁদুর-বেড়াল খেলা শুরু হয়েছে।

জেনারেল কাসেম সোলায়মানি হত্যার প্রতিবাদে ইরাক-ইরানের কয়েক কোটি মানুষ শোক মিছিল বের করে ‘আমেরিকার মৃত্যু চাই’ বলে স্লোগান দেয়। কুদস বাহিনীর প্রধান হিসেবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের কৌশলগত অপারেশনের নেতৃত্ব দিতেন কাসেম সোলেয়মানি। তাকে হত্যা করায় আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘বড় ধরনের প্রতিশোধ’ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সংবাদ অনুযায়ী ইরানের আইআরজিসির কুদস ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলায়মানিকে হত্যার পর থেকে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্য একটা যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্কের ইংরেজি দৈনিক সাবাহ সংবাদ প্রকাশ করেছে যে, ইরান যাতে জেনারেল সোলায়মানির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ না নেয় সেজন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খুব সহজেই অনুমেয়, মার্কিন তল্লাট চরম আতঙ্কে আছে। শুধু বাইরে নয়, ঘরেও চাপে আছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিরোধিতা করে নিউইয়র্ক সিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে হাজার হাজার মার্কিনি রাজপথে নেমে এসেছে। জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর সাবেক পরিচালক মাইকেল মোরেল। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মাইকেল মোরেল বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর জবাব দেবে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে হবে চরম মূল্য। এর ফলে অনেক আমেরিকান, এমনকি বেসামরিক আমেরিকানদের জীবন দিতে হতে পারে। এই ঘটনার পর থেকে আমেরিকানরা আর ইরাক, লেবানন, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্থানে নিরাপদ নন। ইরান হয়তো সরাসরি যুদ্ধে যাবে না। কিন্তু তারা ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা কিংবা সমপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করে প্রতিশোধ নিতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে ইরাকের জাতীয় সংসদের ১৭০ জন সদস্য ইরাক থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের খসড়া প্রস্তাবে সই করেছে। চূড়ান্তভাবে বিলটি পাস হলে তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হবে। কিন্তু এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে আমেরিকা। সরিয়ে নিয়েছে ইরাকে নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূতকে। ইরান অলরেডি অ্যালার্মিং অ্যাটাক শুরু করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাকড করেছে ইরানিয়ান সাইবার কর্মীরা। ইরান সমর্থিত ইরাকের আধা-সামরিক বাহিনী মার্কিন দূতাবাস ও সেনা ছাউনিতে উপর্যুপরি আঘাত করছে। ইরাকের মসুলে আল-কিন্দি সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরানের বিমান বাহিনী। এই ঘাঁটিতে বহু মার্কিন সেনা ছিল। এমনকি রাখা রয়েছে বহু যুদ্ধাস্ত্রও। সেজন্য এই ঘাঁটিকেই টার্গেট করেছে ইরান এয়ারফোর্স। কয়েক ঘণ্টায় মোট তিনবার অতর্কিতে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে ইরান। আশঙ্কা করা হচ্ছে এই হামলায় বহু মার্কিন সেনার মৃত্যু ঘটতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দেবার পূর্ণ সক্ষমতা আছে ইরানের। বিশ্ব অর্থনীতির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বন্ধ করে দেবার সক্ষমতা রাখে ইরানের শক্তিশালী নৌবাহিনী।

বিশ্ব নেতৃবৃন্দ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ন্যক্কারজনক কুকীর্তির প্রতিবাদ না জানালে একটি অন্ধকার পৃথিবী তাদের জন্য অপেক্ষা করবে। এই জঘন্য কুকর্মের প্রতিবাদ না করে নীরবতা পালন করলে বা এই ন্যক্কারজনক কাজের বৈধতা দিলে এমন ঘটনা হরহামেশা ঘটতে থাকবে। একটি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর একজন প্রভাবশালী জেনারেলকে ভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় সফররত অবস্থায় অপর একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সরাসরি নির্দেশে হানাদার বাহিনী মেরে দিল! আমরা তর্ক করছি— ইরানিরা মুসলিম নাকি খ্রিস্টান, শিয়া নাকি সুন্নি, মুসলিম নাকি শিয়া! নিজের বিবেক কাজে লাগিয়ে চিন্তা করা দরকার— তিনি তো মানুষ ছিলেন, একটা রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তাহলে আপনার-আমার মনুষ্যত্ব কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। এই হত্যাকাণ্ডকে নৈতিকভাবে বৈধতা দিলে পরে দেখা যাবে, কোনো এক রাষ্ট্রীয় সফরে পার্শ্ববর্তী কোনো শত্রু রাষ্ট্র তার শত্রুপক্ষ কোনো প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টকে মেরে দিয়েছে! তখন শত্রু ভাবাপন্ন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা সামরিক বাহিনীর জেনারেলদের নিরাপত্তার বালাই থাকবে না। একটা অস্থির পৃথিবী ভবিষ্যতে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলবে। এটা কী ভালো হবে!

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অতি সন্নিকটে। একজন উন্মাদ প্রেসিডেন্টের পাগলামির কারণে বিশ্বের কয়েকশ কোটি মানুষের জীবন হমকির মুখে। অথচ সমগ্র পৃথিবীর মানুষ তো বটেই, তার দেশের মানুষও যুদ্ধ চায় না, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ চায় না। মানুষ শান্তি চায়। বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে গণমানুষের ভাষা পাঠ করার সময় এখন।

মুহাম্মদ ইয়াকুব

লেখক : প্রাবন্ধিক ও বিশ্লেষক

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads