• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫
ads
আওয়ামী লীগ আমলে নতুন ১৮ মিশন চালু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী

সংরক্ষিত ছবি

সংসদ

সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ আমলে নতুন ১৮ মিশন চালু

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৭ জুন ২০১৮

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, বর্তমান সরকার আমলে কোনো দূতাবাস বন্ধ হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সফুরা বেগমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে পৃথিবীর ৫৮টি দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার আমলে ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৮টি নতুন মিশন চালু করা হয়েছে। আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কোন্নয়নে আরো ৭টি নতুন মিশন স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আওয়ামী লীগের শামসুল হক চৌধুরীর প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, সার্কের অন্যতম মূলনীতি হচ্ছে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। সুতরাং সার্কের আওতায় এর সদস্য দেশগুলোর শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচিত ও অনির্বাচিত কোনো সরকারের ব্যাপারে কোনোরূপ মতামত প্রদান বা কোনো পক্ষ অবলম্বন করার কোনো সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের আরেক সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের প্রশ্নে তিনি জানান, মিয়ানমার জান্তা সরকারের নির্যাতনে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটিই জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি। এসব আশ্রিতের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মাত্র চার মাসের মধ্যে তিনটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করতে সক্ষম হয়েছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী মাঠপর্যায়ে প্রত্যাবাসন সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম রয়েছে। একই প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠী তথা রোহিঙ্গাদের প্রতি দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও স্থানীয় রাখাইন কমিউনিটির অত্যাচার নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে শরণার্থী হিসেবে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখে। তিনি জানান, এসব রোহিঙ্গার ওপর মিয়ানমার জান্তা সরকারের নির্মম নির্যাতন নিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে। এমনকি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যা ও তার আশু প্রতিকারের ব্যাপারে বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। এগুলোর মধ্যে অনতিবিলম্বে এবং চিরতরে মিয়ানমারের সহিংসতা ও ‘জাতিগত নিধন’ নিঃশর্তে বন্ধ করা এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার নিঃশর্ত, পূর্ণ এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা রয়েছে।

মাহমুদ আলী জানান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি। তা সত্ত্বেও এ কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে মাঠপর্যায়ে একাধিক ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাখাইন রাজ্যে যথাযথ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক মহল মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে। আশা করা যায়, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ শিগগিরই রাখাইন রাজ্যে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে এবং দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads