• রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
এই বাজেট উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখবে : প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

সংসদ

এই বাজেট উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখবে : প্রধানমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৩০ জুন ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার পূরণের এক কার্যকর মাধ্যম হবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য পেশ করা জনবান্ধব, উন্নয়নমুখী ও সুষম এই বাজেট। এটি উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখবে। দেশের মানুষ একটা উন্নত ও সুন্দর জীবন চায়। আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন সোনার বাংলাদেশ গড়ব। সবাইকে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করলাম। গতকাল শনিবার দুপুরে একাদশ জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনার ওপর সমাপনী বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা রূপকল্প ২০২১ সফলভাবে বাস্তবায়ন করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করেছি। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এসডিজি উন্নয়ন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে এবং নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার পূরণের কার্যকর মাধ্যম হবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য পেশকৃত বাজেটটি। বাজেট আলোচনায় অনেক সদস্য অনেক কথা বলেছেন। আমি মনে করি, আমার এ বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের সেই কথাগুলোর জবাব তারা মোটামুটিভাবে পেয়ে গেছেন।

এছাড়া প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, তারুণ্যের শক্তিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ এরাই ভবিষ্যৎ। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কথা এই বাজেটে বলা হয়েছে, সেই বিষয়টিও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বাজেট পেশ করেছি। এটা আমাদের প্রথম বাজেট। এই বাজেট আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে। অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তখন আমি দায়িত্ব নিয়েছিলাম। তিনি এখনো অসুস্থ। কারণ তার ডেঙ্গু হয়েছে, খুব বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পাচ্ছেন না, তবুও তিনি কষ্ট করে এসেছেন।

বাজেট আলোচনায় দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, আমাদের একটা সমস্যা দুর্নীতি। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা সব সময়ই দুর্নীতির আশ্রয় নেয় আর সমাজে দুর্নীতিটাকে ছড়িয়ে দেয় ব্যাধির মতো। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের নীতি হচ্ছে জিরো টলারেন্স। আমি সবসময় জোর দিয়ে বলেছি, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে আমাদের প্রচেষ্টাটা অব্যাহত থাকবে। এদিন ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।

অর্থবিলও তুললেন প্রধানমন্ত্রী :

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজেট বক্তৃতা পড়ে দেওয়ার পর এবার অর্থমন্ত্রীর পক্ষে অর্থবিলও সংসদে উত্থাপন করলেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অর্থমন্ত্রীর অনুরোধে শনিবার সংসদে তার পক্ষে বিলটি উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। বাজেট পাসের আগে বাজেটের রাজস্ব অংশের আলোচিত-সমালোচিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে যেসব বিষয়ে পরিবর্তন প্রয়োজন তা সংশোধন করতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। অর্থমন্ত্রী সেসব সংশোধন করার পর অর্থ বিল সংসদে পাস হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন অসুস্থ অর্থমন্ত্রী পুরোপুরি বাজেট বক্তৃতা পড়তে পারেননি। তখন প্রধানমন্ত্রী বাকি বক্তৃতা পড়ে দেন। দেশের ইতিহাসে যা ছিল নজিরবিহীন। বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনও করেন তিনি। এরপর সংসদে বাজেটের ওপর পুরো আলোচনায় অনুপস্থিত থাকলেও শনিবার অধিবেশনে যোগ দেন অর্থমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বাজেটের ওপর সমাপনী ভাষণে অর্থমন্ত্রীর অসুন্থতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, তারপরও তিনি অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। এরপর স্পিকার শিরীন শারমিনের অনুমতি নিয়ে বসে বাজেট আলোচনায় কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

পরে স্পিকার জানান, অর্থ বিল সংসদে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন অর্থমন্ত্রী। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিলটি সংসদে উত্থাপন করার আহ্বান জানান। বিলের ওপর জনমত যাচাই ও সংশোধনী নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের বিভিন্ন কথার জবাবও দেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads