• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
ads

সংসদ

ইন্টারকন্টিনেন্টালের পুনঃসংস্কার কার্যক্রম

ব্যয়ের রিপোর্ট চায় সংসদ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৯ আগস্ট ২০১৯

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পুনঃসংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চেয়েছে জাতীয় সংসদ। পুনঃসংস্কার কাজের সঙ্গে কোন প্রতিষ্ঠান জড়িত, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, টেন্ডার কোন প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছে-তার একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক, বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেডের (বিএসএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বের হোসেন প্রমুখ।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকটি হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, কাজী ফিরোজ রশীদ, তানভীর ইমাম, আশেক উল্লাহ রফিক এবং সৈয়দা রুবিনা আক্তার অংশগ্রহণ করেন।

ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমাহারে সাজানো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সম্প্রতি উদ্বোধন হয়েছে নতুনভাবে। করা হয় ব্যাপক সংস্কার। ১৯৬৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল এ দেশের প্রথম পাঁচ তারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের। স্থপতি উইলিয়াম বি ট্যাবলারের চমৎকার নকশার এ হোটেলটি আজও চমৎকার স্থাপত্যশিল্পের নিদর্শন। এটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল নামেই চলে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত। এরপর স্টারউড কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হওয়ায় ১৯৮৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ঢাকা শেরাটন হোটেল নামে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলে। শেরাটনের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ‘রূপসী বাংলা হোটেল’ নামে এটি পরিচালিত হয়। ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হোটেলটির মালিক কোম্পানি বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেড ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেডের (আইএইজি) সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি করে। চুক্তি মোতাবেক ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ধের পর ২০১৫ সালের মার্চে সংস্কারকাজ শুরু হয়।

রূপসী বাংলা হোটেলে কক্ষ ছিল ছোট-বড় মিলিয়ে ২৭২টি। সংস্কারের পর কক্ষের সংখ্যা কমে ২৩১ টিতে দাঁড়িয়েছে। আয়তনের দিক থেকে কক্ষের আকার দাঁড়িয়েছে ২৬ থেকে ৪০ বর্গমিটার। বিশ্বমানের অতিথি সেবা নিশ্চিত করতে পরিবর্তন করা হয়েছে সুইমিং পুল ও ডাইনিং হলের স্থান। এর আগে হোটেলটির বলরুম ছিল একদিকে, উইন্টার গার্ডেন নামে সবচেয়ে বড় হলরুমের অবস্থান ছিল আরেক দিকে। এখন দুটি এক করে দেওয়া হয়েছে। হোটেলটির মূল ফটকও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেতরের সুইমিং পুলটিও স্থানান্তর করে সাজানো হয়েছে নতুন করে। গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় নিয়ে বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। সংস্কারকাজে প্রায় ৬২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, সংস্কারকাজে অনিয়ম ও ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন এসেছে এর আগে। এদিকে ঢাকা ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ঢাকা শহরের পর্যটন কেন্দ্রগুলো অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনকে একটি বিশদ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটনকে আরো শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় করতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর এলাকায় এক্সক্লুসিভ ইকোট্যুরিজম জোন করার জন্য বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের অনুকূলে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাছাড়া সুন্দরবনের পরিফেরিতে পর্যটন জোন স্থাপনের জন্য বুয়েট কর্তৃক পর্যটন সম্ভাব্যতা যাচাই করছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads