• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৬ আশ্বিন ১৪২৭
ads
ঢাকা-শিলিগুড়ি ট্রেন চলবে জুনে

ফাইল ছবি

সংসদ

ঢাকা-শিলিগুড়ি ট্রেন চলবে জুনে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আগামী জুনে ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হবে। সড়কপথে নির্ভরশীলতা কমিয়ে রেলের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। রেলপথমন্ত্রী বলেন, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল, খুলনা-মোংলা পর্যন্ত রেললাইনের উন্নয়নে কাজ চলছে। শুধু তা-ই নয়, আমাদের বন্ধুরাষ্ট্রের (ভারতের) সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ভুরুঙ্গামারী পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার রেললাইন করা হবে। আগামী জুনের মধ্যে ঢাকা-শিলিগুড়ি ট্রেনে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হবে। তিনি জানান, ঢাকা-কলকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস যেখানে সপ্তাহে ৪ দিন চলছে, সেটি আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে সপ্তাহে ৫ দিন চলবে এবং খুলনা-কলকাতা রুটে যেটি একদিন চলত সেটি ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সপ্তাহে দুদিন চলবে। মন্ত্রী বলেন, আমরা আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। সেই দেশ থেকে আমরা ৪০টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন কিনব। আগামী বছরের মার্চ থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইঞ্জিনগুলো রেল মন্ত্রণালয় সংগ্রহ করবে। এছাড়া এই জুনের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন এবং আগামী বছরের মধ্যে আরো ২০টি ইঞ্জিন সংগ্রহ করা হবে।

নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সব রেল ব্রিজ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের ট্রেনের গড় গতি যেখানে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার, সেই গতি ১০০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমাদের নতুন প্রকল্পগুলোতে এসব বিষয় যুক্ত থাকবে। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যে ট্রেন চলবে, সেখানে ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্প গ্রহণ করেছি। নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত ইলেকট্রিক ট্রেন চালু করব। সড়কের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ট্রেনে ৩০-৩৫ ভাগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত রেলকে ধ্বংস করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেল মন্ত্রণালয়ে ১৯৭৩-৭৪ সালে জনবল ছিল প্রায় ৭ হাজারের মতো। সেই জনবল কমে এখন ২৭ হাজারে পৌঁছেছে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে একদিনে ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করে।

তিনি আরো বলেন, রেল যোগাযোগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে ৪ ডিসেম্বর রেল মন্ত্রণালয় আলাদা করে প্রায় ৭৭টি প্রকল্প হাতে নেন, যা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রায় ৩৬টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। তার মধ্যে ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্প আর ৩টি হচ্ছে কারিগরি প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রীর ১০টি মেগা প্রকল্পের অন্যতম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এবং ঢাকা-যশোর পর্যন্ত পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেললাইন যাবে।

মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে জি-টু-জি পদ্ধতিতে প্রকল্প গ্রহণ করেছি। তার অন্যতম হলো জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডাবল লাইন, জয়দেবপুর-জামালপুর পর্যন্ত ডাবল লাইন এবং আখাউড়া-সিলেট পর্যন্ত ডাবল লাইন করা। জাইকার (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি) অর্থায়নে বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে আরেকটি রেলসেতু করতে যাচ্ছি। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads