• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
মুমিন বান্দা কখনো হতাশ হয় না

বিপদ আপদ বা দুঃসময় আসলে মহান আল্লাহর বাণী স্মরণ করে ধৈর্য ধরতে হবে

সংগৃহীত ছবি

ধর্ম

মুমিন বান্দা কখনো হতাশ হয় না

  • প্রকাশিত ৩১ আগস্ট ২০১৮

আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ যুবায়ের

মানুষের জীবন কখনই শতভাগ আরামদায়ক বা কষ্টমুক্ত হয় না। কিছু না কিছু কষ্ট, দুঃখ, দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি অধিকাংশ সময় জীবনের সঙ্গী হয়েই চলতে থাকে। প্রতিকূল অবস্থা যেমন জীবনের অংশ, তেমনি অনুকূল অবস্থা বা সুখের সময়ও জীবনের অংশ। মানুষের জীবনে দুঃসময় আসে কেন? আল্লাহ বলেছেন, আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়ভীতি ও ক্ষুধা দিয়ে এবং সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষতি সাধন করে; ধৈর্যশীলদের আপনি সুসংবাদ দিন। (আল বাক্বারা : ১৫৫)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, জলে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের কৃতকর্মের কারণে, তাদের কিছু কাজকর্মের কারণে (আল্লাহ) তাদের শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাতে চান, সম্ভবত তারা ফিরে আসবে (তাদের খারাপ কাজ থেকে)। (আর রূম : ৪১)। উপরের দুটি আয়াত থেকে বোঝা যায়, বালা-মুসিবত ইত্যাদি কখনো আল্লাহর পরীক্ষা হিসেবে আসে কখনো নিজেদের পাপাচারের কারণে আসে।

জীবন চলার পথে নানান রকম ভয়ভীতি আসবে, অনাহারে থাকতে হয় এমন অবস্থা আসবে, আসবে এমন অবস্থা যখন পকেটে কোনো অর্থ থাকবে না, প্রিয় মানুষ দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবে এবং ক্ষেত খামার সব হয়তো দুর্যোগে বিনাশ হয়ে যাবে বা কোনো দখলদারের হাতে চলে যাবে। এ জাতীয় নানান বিপদ যে কারণেই আসুক না কেন, অন্যতম কারণ- আল্লাহর পরীক্ষা বা নিজেদের পাপাচার। আল্লাহর পরীক্ষা মনে হলে এ পরীক্ষায় টিকে থাকার জন্য আমরণ চেষ্টা করতে হবে। যারা টিকে থাকবে তাদের সবার জন্যই সুসংবাদ, তবে পুরস্কার মিলবে টিকে থাকার দৃঢ়তার নম্বরের ওপর ভিত্তি করে। এজন্য জীবনে যখনই বিপদ আপদ বা দুঃসময় আসবে, তখনই মহান আল্লাহর এ বাণী স্মরণ করে ধৈর্যের পথ অবলম্বন করতে হবে। আর যদি মনে হয়, নিজের পাপাচার ও ধৃষ্টতার কারণে এসব বিপদ সৃষ্টি হয়েছে; তবে তওবার মাধ্যমে নিজেকে পাপমুক্ত করার চেষ্টা করতে হবে এবং বিপদ দূর না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

সমাধানের উপায় : আল্লাহ বলেছেন, তোমরা তোমাদের মালিকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর; নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর আকাশ থেকে বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন। তিনি তোমাদের ধন সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন, তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন। (নূহ: ১০-১২)।

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, হে ঈমানদারগণ ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (আল বাক্বারা : ১৫৩)।

যত রকমের সমস্যাই আসুক না কেন চূড়ান্ত সমাধান মিলবে তওবা ও সালাতের মাধ্যমে, আল্লাহর কাছে মাথানত করার মাধ্যমে, চোখের পানিতে আল্লাহর জমিন সিক্ত করার মাধ্যমে, আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে আল্লাহকে খুশি করার মাধ্যমে।

পার্থিব কোনো চেষ্টার প্রয়োজন আছে কি? মনে প্রশ্ন আসতে পারে। তাহলে তওবা ও সালাত আদায় করলেই চলবে, নাকি সমস্যা সমাধানে পার্থিব চেষ্টারও প্রয়োজন আছে? শতভাগ বিশ্বাস নিয়ে তওবা করলে ও সালাত আদায় করলে, তওবা ও সালাতের মাধ্যমেই দুঃসময় দূরীভূত হয়ে সুসময় ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ। তবে পার্থিব ন্যায় ও শান্তিপূর্ণ কোনো উপায় অবলম্বন করতে সমস্যা নেই। আল্লাহ বলেছেন, মানুষ ততটুকু পাবে যতটুকু সে চেষ্টা করবে। (আন নাজম : ৩৯)।

তওবা ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর ইচ্ছামতো শান্তি, আনন্দ এবং সুখ আসবে। তওবা ও সালাত ছাড়া শুধু পার্থিব চেষ্টা করলে যতটুকু চেষ্টা ততটুকু সুফল আসবে। পক্ষান্তরে কেউ যদি তওবা ও সালাত আদায় করে এবং পার্থিব চেষ্টাও করে, তাহলে সে আল্লাহর সব হুকুমই মানল। উপরিউক্ত সমাধানের বাইরে গিয়ে আত্মহত্যা করা, মারামারি বা হাঙ্গামা সৃষ্টি করা বা হা-হুতাশ ও দুশ্চিন্তা করে মানসিক বা শারীরিকভাবে নিজে অসুস্থ হওয়া বা অন্যদের রোগী বানানো মুমিনের গুণ নয়।

লেখক : গবেষক, ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads