• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
দৃষ্টিনন্দন হাজী মো. কফিল উদ্দিন জামে মসজিদ

এই মসিজেদ ২ হাজার ৭০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন

সংগৃহীত ছবি

ধর্ম

দৃষ্টিনন্দন হাজী মো. কফিল উদ্দিন জামে মসজিদ

  • ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ
  • প্রকাশিত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মসজিদটির দু’পাশে দৃষ্টিনন্দন দুটি মিনার। ছাদে তিনটি সবুজ রঙের গম্বুজ। মাগরিবের পরে চারপাশে অন্ধকার হতে শুরু করে আর মসজিদের মিনারে আলো জ্বলতে শুরু করে। লাল-নীল বাতি দিয়ে সাজানো মিনার দুটি। দূরে থেকে দেখে যে কেউই মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবেন। মসজিদটির ভেতরে বাইরে সব জায়গাতেই দামি মার্বেল পাথরের টাইলসের কারুকাজ। বলছিলাম হাজী মো. কফিল উদ্দিন জামে মসজিদের কথা। পাঁচতলাবিশিষ্ট এই মসজিদটির বিশেষত্ব হলো, প্রত্যেক তলা ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনে করা। নিচতলার সামনের দিকটায় পিতল দিয়ে আল্লাহর নাম অঙ্কন করা হয়েছে। মিম্বারে মূল্যবান কাঠের কারুকাজ শোভিত। খতিব সাহেবের জন্য রয়েছে নকশি করা কাঠের সাদা রঙের চেয়ার। ঠিক তার উপরেই ঝাড়বাতির আলোকসজ্জা। চারপাশজুড়ে পিতলের কারুকার্যে আরবি ক্যালিওগ্রাফিসমৃদ্ধ কোরআনের আয়াত। দেয়ালে আরবি ক্যালিওগ্রাফির সঙ্গে আলোর খেলা মসজিদটিকে দিয়েছে ভিন্ন দ্যোতনা। নিচতলায় তিনটি বড় দরজায় কাঠখচিত নকশা, দেয়ালে রঙ বা টাইলসের বদলে বসানো হয়েছে কাঠের নকশি করা পাত। দোতলায় উঠতে উত্তর-দক্ষিণ থেকে দুটি মার্বেল বসানো সিঁড়ি। সেখানে ঢুকতে বড় দুটি কাচ ও কাঠের সমন্বয়ে আলোসমৃদ্ধ দরজা। পাঁচতলা ভবন থেকে নির্মিত মিনার দুটির কারণে মসজিদটির ব্যাপক পরিচিতি। টাইলস শোভিত ৭৫ ফুট উচ্চতার কারণে মসজিদটি মতিঝিল, ফতুল্লা, বাবুবাজার ব্রিজ থেকেও দৃশ্যমান। ছাদের ওপরে ২০ ফুট উচ্চতার তিনটি গম্বুজ। মসজিদটির প্রতি ফ্লোর সাড়ে পাঁচ হাজার বর্গফুটের। এতে ২ হাজার ৭০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

regular_3739_news_1536859937

অন্যান্য মসজিদের সঙ্গে এই মসজিদের কিছু ভিন্নতা রয়েছে। মসজিদটির পাঁচতলাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ চলছে। এর দিনের সৌন্দর্য আর রাতের সৌন্দর্য সম্পূর্ণ আলাদা। ঝা-তকতকে থাকায় প্রশান্তির সঙ্গে মুসল্লিরা তাদের ইবাদত বন্দেগি করতে পারেন। অনেক মুসল্লি বলেন, মসজিদটি দিনের থেকে রাতেই বেশি দৃষ্টিনন্দন এবং রাতেই ইবাদত করতে তাদের বেশি ভালো লাগে।

কদমতলী থানার নতুন কদমতলীর (বড়ইতলা) শ্যামপুর এলাকার হাজী মো. কফিল উদ্দিন জামে মসজিদের রয়েছে মোট এক বিঘা জমি। এই জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি। মসজিদের জন্য আরো জমি কেনার কাজ শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে। ২০১২ সালের শেষের দিকে আরো এক বিঘা জমি কেনা হয়ে যায়। ২০১৩ সালের শুরুর দিকে ফরিদাবাদ মাদরাসার প্রধান মুফতি আবু সাঈদ মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ধারাবাহিকভাবে কাজ শেষ হতে সময় লাগে দুই বছর। মসজিদের জমি কেনা ছাড়া শুধু নির্মাণবাবদই খরচ হয় পাঁচ কোটি টাকা। বেশিরভাগ টাকা দিয়েছেন দানবীর হাজী সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও তার ভাইয়েরা। এরপর ২০১৫ সালের শেষের দিকে মুফতি আবু সাঈদই মসজিদটি উদ্বোধন করেন। মসজিদের মোতাওয়াল্লি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কদমতলী স্টিল মিলস্ (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক হাজী মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।  

মসজিদের পাশে রয়েছে সুন্দর অজুখানা। এতে একসঙ্গে ৫০ জন অজু করতে পারেন। অজুখানার উপরে মসজিদের খতিব, ইমাম ও খাদেমদের থাকার জন্য সুরম্য ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া অতিথিদের জন্য রয়েছে আলাদা থাকার ব্যবস্থা। যারা দূর থেকে নামাজ পড়তে আসবেন এবং যারা গাড়ি নিয়ে আসেন, তাদের গাড়ি রাখার জন্য রয়েছে সুন্দর ও বিশাল পার্কিং ব্যবস্থা। অনেক মসজিদে পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় মুসল্লিরা গাড়ি নিয়ে এসে সমস্যায় পড়েন, যে কারণে তারা একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন না। তাদের কথা বিবেচনা করে সুন্দর ও বিশাল একটি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মসজিদে প্রতিদিন এশার নামাজের পরে বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষা বোর্ডের কারিকুলাম অনুযায়ী অত্যন্ত সহজ ও আধুনিক পদ্ধতিতে বয়স্ক ও যুবকদের কোরআন শিক্ষা কোর্সের ক্লাস হয়ে থাকে। কোর্সটি মূলত ৩০ দিনে ৩০ ঘণ্টা হয়ে থাকে। এ সময়ের মধ্যেই একজন শিক্ষার্থী কোরআন পড়তে পারেন। ইতোমধ্যে ৯টি ব্যাচ হয়ে গেছে। এই ৯টি ব্যাচে ৮৬৮ জন কোরআন পড়া শিখেছেন। আজ ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে কোর্সের দশম ব্যাচ শুরু হবে।

হাজী মো. কফিল উদ্দিন জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আল্লাহপাক আমার মাধ্যমে দ্বীনের খেদমত নিচ্ছেন, এজন্য আমি আনন্দিত। একদিন একজন আমাকে বলেছিলেন, কিছু টাকা গুছিয়ে চলেন আমরা কানাডায় চলে যাই। সেদিন আমি তাকে বলেছিলাম, যদি আমার টাকা হয় তাহলে আমি একটি মসজিদ নির্মাণ করব। হয়তো আল্লাহপাক আমার সেদিনের কথা কবুল করেছেন। এই মসজিদ নির্মাণেও বাধা এসেছিল। বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আল্লাহপাক মসজিদটির কাজ শেষ করার তওফিক দিয়েছেন, সেটাই বড় কথা।

লেখক : আলেম ও গবেষক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads