• বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯, ১৩ চৈত্র ১৪২৪
ads
ব্যক্তিশুদ্ধির পরশ পাথর নামাজ

ব্যক্তিশুদ্ধির পরশ পাথর নামাজ

প্রতীকী ছবি

ধর্ম

ব্যক্তিশুদ্ধির পরশ পাথর নামাজ

  • হাসান মুহাম্মাদ শরীফ
  • প্রকাশিত ০৯ জানুয়ারি ২০১৯

প্রতিটি মুসলমানই একথা জানেন, দ্বীনে ইসলামে নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান। এটি একটি মহিমান্বিত ইবাদত। দ্বীনের অন্যতম স্তম্ভ এটি। এ সবকিছুর পাশাপাশি নামাজের আরো একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তা মানুষের ব্যক্তিগত পরিশুদ্ধি ও চারিত্রিক উৎকর্ষ অর্জনে মহৌষধের ভূমিকা রাখে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, আপনার কাছে যে প্রত্যাদেশ পাঠানো হয়েছে তা আপনি তেলাওয়াত করুন আর নামাজ আদায় করুন। নিশ্চয়ই নামাজ যাবতীয় অশ্লীল ও গর্হিত কার্যাবলি থেকে বিরত রাখে। এ আয়াতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নামাজের ওই বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, তা মানুষকে যাবতীয় অসভ্য ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রেখে চারিত্রিকভাবে সভ্য ও পরিশুদ্ধ করে গড়ে তোলে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নামাজের ভেতর অতিমাত্রার এমন একটি প্রভাবশক্তি রয়েছে, যার প্রতিটি ক্রিয়ায় নামাজির অপরাধ-প্রবণতা ও খারাপ অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায়। তবে শর্ত হচ্ছে, নামাজকে একটি বোঝা মনে করে দায়সারা গোছের মতো আদায়

করলে চলবে না; বরং আল-কোরআনের ভাষ্যমতে, ইকামাতে সালাত করতে হবে।

ইকামাতে সালাতের শাব্দিক অর্থ সরল-সোজাভাবে নামাজ আদায় করা। তবে এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য হচ্ছে, নামাজের বাহ্যিক ও ভেতরগত সব ধরনের আদব ও শিষ্টাচার যথাযথভাবে বজায় রেখে ঠিক সেভাবে নামাজ পড়তে সর্বাত্মক চেষ্টা করা যেভাবে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ পড়েছেন। এর জন্য জরুরি হলো, নামাজের প্রাথমিক শর্তাবলি, সুন্নতগুলো ও আদব-কায়দা সঠিকভাবে শিক্ষা করে সেগুলো পূর্ণভাবে পালন করা। দ্বিতীয়ত যতটুকু বিনয়-ভক্তি, একাগ্রতা ও নিবিষ্টতা সৃষ্টি করা মানুষের সাধ্যে কুলায়, তার সবটুকু ভেতরে জাগ্রত করে এমন বিগলিত হয়ে নামাজ আদায় করা যেন আল্লাহর কাছে সরাসরি কোনো আবেদন পেশ করা হচ্ছে। এভাবে নামাজ আদায়কারী সবার অলক্ষ্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে ভালো কাজ করার এক অমিত শক্তি লাভ করে।

এক ব্যক্তি সম্পর্কে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানতে পারলেন, লোকটি রাতের বেলা তাহাজ্জুদ পড়ে আর ভোরবেলা চুরি করে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, অচিরেই নামাজ তাকে এ অপরাধ থেকে ফিরিয়ে আনবে। দেখা গেল, কিছুদিন পরই সে লোকটি চুরি করা ছেড়ে দিয়ে একদম ভালো মানুষ হয়ে গেছে। কিছু লোক বাহ্যত নামাজের প্রতি খুব নিষ্ঠাবান ও পাবন্দ হওয়া সত্ত্বেও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ও অসততায় ডুবে থাকে। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী বলা যায়, তাদের নামাজে কোথাও না কোথাও কিছুটা ত্রুটি রয়েই গেছে। যদি সেই ত্রুটি দূর করা যায় তাহলে আল্লাহপাকের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিশ্চয়ই নামাজ তাকে যাবতীয় অন্যায়-অপরাধ থেকে বাঁচিয়ে রাখবে।

 

লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads