• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
ইসলামী শিক্ষায় পিতা-মাতার ভূমিকা

পিতা-মাতার ভূমিকা

প্রতীকী ছবি

ধর্ম

ইসলামী শিক্ষায় পিতা-মাতার ভূমিকা

  • মাহমুদ আহমদ
  • প্রকাশিত ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

আল্লাহতাআলা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। কোরআন করিমে আল্লাহপাক শিক্ষাকে ‘আলো’ এবং মূর্খতাকে ‘অন্ধকার’ বলে উল্লেখ করেছেন। যারা শিক্ষার আলোয় আলোকিত তাদের ‘উৎকৃষ্ট জীব’ বলা হয়েছে, অপরদিকে যাদের শিক্ষার আলো নেই তাদের ‘নিকৃষ্ট জীব এবং অন্ধ’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহতাআলা আদেশ করেছেন- ‘তুমি পাঠ করো, কেননা তোমার প্রতিপালক পরম সম্মানিত, যিনি কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে তা, যা সে জানত না’ (৯৬:৩-৮)। তিনি আরো বলেন, ‘তুমি বলো যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে? বস্তুত ধীসম্পন্ন লোকজনই কেবল শিক্ষালাভ করে’ (৩৯: ৯)।

শিক্ষালাভ সম্পর্কে আল্লাহতাআলার আদেশের গুরুত্ব উপলব্ধি করে নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর ও নারীর জন্য ফরজ’ (ইবনে মাজাহ)। মহানবী (সা.) আরো বলেছেন, ‘একজন বিশ্বাসীর জ্ঞান অন্বেষণ প্রচেষ্টা শেষ হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত না সে জান্নাতে দাখিল হয়’ (তিরমিযি)।

আল্লাহতাআলা শিক্ষাকে আলো বলেছেন, কারণ এ ‘আলো’ আঁধাররূপী সব অজ্ঞানতা, পঙ্কিলতা, অন্যায়-অনাচার দূর করে দিয়ে মানুষকে সঠিক পথ অর্থাৎ ন্যায়নিষ্ঠা ও সত্যের অনুসারী করে। এক কথায় মানুষ হয় আল্লাহর প্রিয় বান্দা! মানুষকে জ্ঞানশিক্ষা দেওয়ার জন্যই কোরআন মজিদ অবতীর্ণ হয়েছে। মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ সৃষ্টি, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা, স্রষ্টা ও তার সৃষ্টি সম্পর্কে জানার জন্য কোরআন পাকে দিকনির্দেশনা রয়েছে।

শিক্ষা মানুষকে আয়ত্ত করতে হয়। জন্মের পর থেকে শিশু তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকে শিখতে শুরু করে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে ও বংশগতভাবে কতগুলো বিষয় শিশুর মধ্যে প্রতিফলিত হতে দেখা যায়। বিশেষ করে মাতৃগর্ভে থাকাকালীন অবস্থায় মায়ের অনেক আচরণ ও আমল শিশুর মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। কিন্তু সাধারণ অর্থে শিক্ষার যে সংজ্ঞা, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, জন্মের পর একটি সত্যিকার মানুষরূপে গড়ে তুলতে সাহায্য করে ‘শিক্ষা’।

মানুষকে নীতিবান ও বিবেকবান করে তোলে ‘শিক্ষা’। সত্যিকার শিক্ষা বলতে যা বোঝায় তা একমাত্র ইসলামই প্রদান করেছে। জন্মের পর শিশুর শিক্ষা পরিবারের আওতাভুক্ত থাকে। পরিবার ও তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা ভালো হলে শিশুর শিক্ষাও সঠিক এবং সুন্দর হয়। এখানে শিশুর শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার ভূমিকাই প্রধান। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আগে গৃহের পরিবেশই হলো শিশুর প্রাথমিক শিক্ষাঙ্গন, যেখানে শিশুর সত্যিকার স্তম্ভ গঠিত হয়। তাই শিশুকে ইসলামী শিক্ষায় গড়ে তোলার পেছনে পিতা-মাতার ভূমিকাই সর্বাগ্রে।

 

লেখক : ইসলামী গবেষক

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads