• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
যেসব আমলে হজের সওয়াব

ছবি : সংগৃহীত

ধর্ম

যেসব আমলে হজের সওয়াব

  • জহিরুল ইসলাম আবদুল্লাহ
  • প্রকাশিত ১৬ আগস্ট ২০১৯

মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের অন্য এক অনন্য সেতুবন্ধ হচ্ছে হজ।  পবিত্র মক্কা ও মদিনায় হজ করতে গিয়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা, রসুলের (সা.) রওজা জিয়ারত করা এবং জমজমের সুপেয় পানি পান করে হূদয়কে তৃপ্ত করা প্রতিটি মুমিনের স্বপ্ন। কিন্তু আর্থিক ইবাদত হওয়ায় সবার ওপর হজ করা ফরজ নয়। তাহলে কি গরিব, দুর্বল, অসহায় ঈমানদারগণ বঞ্চিত হবেন হজের সওয়াব থেকে? না, হাদিস শরিফে রসুল (সা.) এমন কিছু আমলের কথা বর্ণনা করেছেন যার মাধ্যমে অর্জিত হবে হজের সমপরিমাণ সওয়াব। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত- রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে ফরজ নামাজ আদায় করল সে যেন হজ করে আসল। আর যে ব্যক্তি নফল নামাজ আদায় করতে মসজিদে গমন করল সে যেন ওমরাহ করে আসল।’ (তাবারানি : ৭৫৭৮)।

ইসলাম হলো সর্বজনীন ধর্ম। ধনী ব্যক্তি হজ করে বিরাট সওয়াব অর্জন করবে, আর গরিব ব্যক্তি অর্থের অভাবে হজের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে, এমনটা ইসলামের কাম্য নয়। রসুল (সা) বলেন, ‘শুক্রবার দিন জুমার নামাজ আদায় করা গরিবের হজ।’ নফল নামাজ আদায়ের মাধ্যমেও প্রতিটি মুমিন ব্যক্তি অর্জন করতে পারবেন হজের সওয়াব। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত- নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করল, সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে বসে আল্লাহর জিকিরে মশগুল রইল, এরপর দুই রাকাত (ইশরাকের) নামাজ আদায় করল, সে ব্যক্তি হজ ও ওমরার সওয়াব নিয়ে ফিরল।’ (সুনানে তিরমিজি)। অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত- রসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করল এবং বসে বসে সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকির করল, অতঃপর দুই রাকাত বা চার রাকাত নামাজ আদায় করল জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করবে না।’ (সুনানে আবু দাউদ)।

ধনী ব্যক্তির মতো বিরাট অঙ্কের টাকা খরচ করে হজ না করতে পারলেও, গরিব ব্যক্তি অল্প খরচে ওমরা আদায়ের মাধ্যমে অর্জন করতে পারবে হজের সওয়াব। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত- রসুল (সা) ইরশাদ করেন, ‘রমজানে ওমরাহ আদায় করলে আমার সঙ্গে হজ আদায়ের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।’ (সহিহ বুখারি)। তা ছাড়াও জিকরুল্লাহ বা আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে পাওয়া যায় হজের সমপরিমাণ সওয়াব। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, দরিদ্র লোকেরা রসুল (সা) নিকট এসে বলল— ‘সম্পদশালী ব্যক্তিরা বেশি সওয়াব এবং জান্নাত নিয়ে যাচ্ছে! আমরা যেমন নামাজ পড়ি; তারাও পড়ে! আমরা যেমন রোজা রাখি; তারাও রাখে! উপরন্তু তাদের রয়েছে অতিরিক্ত সম্পদ; ফলে তারা হজ করতে পারে, ওমরাহ করতে পারে, জিহাদে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সদকাও দিতে পারে!’

নবী করিম (সা.) তাদেরকে বললেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন একটি আমল শিখিয়ে দেব না; যা করতে পারলে তোমরা অগ্রগামীদের স্তরে পৌঁছে যাবে এবং যারা তোমাদের পেছনে তারা তোমাদের স্তরে পৌঁছাতে পারবে না, তোমরা হবে শ্রেষ্ঠতম মানব, তবে অন্য কেউ এটি করলে সেও তোমাদের মতো হয়ে যাবে। আমলটি হলো, প্রত্যেক নামাজের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে।’ (সহিহ বুখারি)।

 

লেখক : শিক্ষার্থী, (হাদিস বিভাগ) তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা, গাজীপুর।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads