• মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬
সাইয়্যেদাতুননিসা মা ফাতেমা (রা.)

মা ফাতেমা (রা.) এর বাসভবন

ফাইল ছবি

ধর্ম

সাইয়্যেদাতুননিসা মা ফাতেমা (রা.)

  • সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন
  • প্রকাশিত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সাইয়্যেদাতুননিসা মা ফাতেমাতুজ্জোহরা (রা.) মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর আদরের কন্যা এবং শেরে খোদা হজরত আলী (রা.)-এর স্ত্রী। তিনি নবী করিম (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় নাতি হজরত হাসান (রা.) এবং হজরত হোসাইন (রা.)-এর মাতা। নবীজি (সা.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির পাঁচ বছর পূর্বে ২৮ জমাদিউস সানী নবী-পত্নী হজরত খাদিজা (রা.)-এর গর্ভ থেকে সুবহে সাদিক লগ্নে মা ফাতেমা (রা.)-এর এ জগতে আবির্ভাব। মা ফাতেমা (রা.)-এর মাধ্যমেই আজো এ বিশ্বে নবীবংশ জারি আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা জারি থাকবে।

আদর্শ নারীদের জন্য মা ফাতেমা (রা.)-এর জীবনাদর্শ যথার্থ প্রয়োগে সুনিশ্চিত সাফল্য। আদর্শ নারীর জন্য আদর্শ স্বামী কাম্য। মা ফাতেমা (রা.)-এর বিয়ের সময় এলে চতুর্দিক থেকে সম্ভ্রান্ত পরিবারের পাত্ররা তাঁর পাত্র হওয়ার বাসনা ব্যক্ত করে নবীজি (সা.)-এর কাছে প্রস্তাব পাঠাতে থাকেন। কিন্তু রসুলুল্লাহ (সা.) তাদের কিছুই বললেন না। এদিকে হজরত আলী (রা.)-এর মনে নবী দুলালিকে বিবাহ করার বাসনা জাগল। তাঁর পক্ষ হয়ে হজরত উমর (রা.) নিজেই রসুল (রা.)-এর দরবারে গেলেন বিয়ের প্রস্তাব পেশের ইচ্ছায়। রসুল (সা.) ব্যাপার জিজ্ঞেস করলে উমর (রা.) কোনো জবাব না দিয়ে নীরবে বসে রইলেন। কিন্তু নবীজি (সা.)-এর কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট রইল না। জানতে চাইলেন— তুমি কি সৌরভমণ্ডিত, সদ্য বিকশিত, পবিত্র পুষ্প, সৌন্দর্যের প্রতীক ফাতেমার বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে এসেছ? তিনি হূদয়ের ব্যাকুলতা উজাড় করে মাথা হেলিয়ে ভাব প্রকাশ করলেন।

রসুল (সা.) ফাতেমার সম্মতির অপেক্ষার নির্দেশ দেন। কিন্তু পিতা যেখানে রাজি, সেখানে দুহিতা কি আর রাজি না থাকেন? দিন-তারিখ নির্ধারিত হলো। বিশেষ কোনো আয়োজন ছাড়াই সাধারণ পরিবেশে সামান্য মোহরানায় যৌতুকবিহীন বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেল নবীজি (সা.)-এর দুই প্রিয় মানুষের মাঝে। দয়াল নবীজি (সা.) তাঁর উম্মতের সামনে পেশ করেছেন পবিত্র দম্পতি মা ফাতেমা ও হজরত আলী (রা.)-কে। যাঁদের সম্পূর্ণ জীবন ও জীবনচরিত স্থান-কাল পাত্রভেদে সবার জন্য জ্যোতিস্বরূপ। নবীজি, মা ফাতেমা, হজরত আলী ও ইমামদ্বয় হাসান ও হোসাইন হলেন পাক পাঞ্জাতন। তাঁরাই আমাদের জন্য জীবন্ত আদর্শ; পবিত্র কোরআন-হাদিসের জীবন্তরূপ। তাঁদের জীবনের পুরোটাই ইসলাম ও অনুসরণীয়। উল্লেখ্য, ১১ হিজরির ৩ জমাদিউস সানি মা ফাতেমা (রা.)-এর ওফাত দিবস।

মা ফাতেমা (রা.)-এর চলার ভঙ্গি নবীজি (সা.)-এর চলার ভঙ্গির সঙ্গে স্পষ্ট মিল ছিল। তিনি রসুলুল্লাহ (সা.)-এর অসম্ভব প্রিয় এবং আদরের ধন ছিলেন। নবী করিম (সা.) এরশাদ করেন, ফাতেমা আমার (দেহেরই) একটি টুকরা, যে তাকে রাগান্বিত করবে, সে নিশ্চয়ই আমাকে রাগান্বিত করবে। অপর এক বর্ণনায় আছে, আমাকে সেই বস্তুই অস্থির করবে, যেই বস্তু তাকে [ফাতেমা (রা.)-কে] পেরেশানিতে ফেলে এবং সেই জিনিসই আমাকে কষ্ট দেয়, যা তাকে কষ্ট দেয়। প্রকৃতপক্ষে মহান রাব্বুল আলামিন শ্রেষ্ঠতম যে দুটি উপহার তাঁর প্রিয় হাবীব (সা.)-কে দিয়েছেন তার মধ্যে একটি হচ্ছে আল কোরআন এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে মা ফাতেমা। মা ফাতেমা নারীদের জন্য পূর্ণতম ও সুন্দরতম আদর্শ। দয়াল নবীজি (সা.)-এর বংশের মাঝে মা ফাতেমা (রা.)-ই প্রথম ওফাত পরবর্তী জীবনে মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। তিনি বেহেশতি নারীদের নেত্রী। বলা হয়— মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত, স্ত্রীর ছাড়পত্র স্বামীর বেহেশতে প্রবেশের টিকেট; আর একজন নারী যে মা-বোন-কন্যা কিংবা স্ত্রী। সেই নারী জাতির পথিকৃৎ মা ফাতেমা (রা.)। হে মহান রাব্বুল আলামিন, আমাদের স্ত্রী-কন্যাদের মা ফাতেমা (রা.)-এর আদর্শে নিজেদের সাজানোর তাওফিক দান করুন। আমীন।

ফয়জুল আল আমীন

লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads