• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭
আসমান-জমিনের সৃষ্টির রহস্য

ফাইল ছবি

ধর্ম

আসমান-জমিনের সৃষ্টির রহস্য

  • আবু রোকাইয়া
  • প্রকাশিত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আসমান-জমিনের মাঝে আমাদের জানা-অজানা যা কিছু আছে সবকিছুই সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহ। তিনি তার মহিমা প্রকাশের লক্ষ্যে এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। আসমান-জমিন এবং এর মধ্যস্থিত সবকিছুকে তিনি ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এর অন্তর্বর্তী  সমস্ত কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা সাজদা : ৪)।

বস্তুত এ নিখিল বিশ্বে রয়েছে আসমান-জমিন, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালাসহ অসংখ্য সৃষ্টিরাজি। আল্লাহপাক ভাসমান চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র ও অসংখ্য তারকা দ্বারা আসমানকে সুসজ্জিত করেছেন। এই সুসজ্জিত আসমান আল্লাহর কুদরতের এক বিশেষ নিদর্শন। বিস্তৃত ও বিশাল পৃথিবীকে বিন্যাস করেছেন বৈচিত্র্যময় পাহাড়-পর্বত, খাল-বিল, নদী-নালা, সাগর-মহাসাগর ও সারি সারি বৃক্ষ ও তৃণলতার সমারোহে। এতে রয়েছে মানুষসহ হাজারো রকমের জীব-জানোয়ার ও পশুপাখি। মানুষের পুষ্টি ও তৃপ্তির জন্য আল্লাহপাক এ স্থল ভূমিতে নানা রকমের খাদ্যশস্য ও সবজির আবাদ করে পৃথিবীকে বসবাস উপযোগী করে দিয়েছেন আমাদের জন্য।

আবার খাল-বিল, নদ-নদী ও সাগর-মহাসাগরে রয়েছে মাছের ও জলজ প্রাণীর প্রাচুর্য। পানির তলদেশে রয়েছে মণি-মুক্তাসহ অফুরন্ত রত্ন ভান্ডার। ভূগর্ভে রয়েছে অফুরন্ত পানি ও স্বর্ণ-রৌপ্যের অমূল্য সম্পদ। এমনি করে হাজার মাখলুক আল্লাহপাক সৃষ্টি করেছেন। এসবের মধ্যে মানুষই হলো সৃষ্টির সেরা, আশরাফুল মাখলুকাত। সকল সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান-বৃদ্ধি ও বিবেক-বিবেচনার এক স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছেন। কারো কারো মতে এ বিশ্বপ্রকৃতি আল্লাহর ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

প্রত্যেক বস্তুই নিজ নিজ স্বভাব ও প্রকৃতি অনুযায়ী আল্লাহর তাবসিহ-তাহলিল ও ইবাদত-বন্দেগি করে। এ বিশ্ব চরাচরে যা কিছু আছে সবকিছুই আল্লাহর কুদরতের বিশেষ নিদর্শন। এতে আল্লাহর মারিফত ও পরিচয় লুকায়িত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের পরিবর্তনে, যা মানুষের হিত সাধন করে তাসহ সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানসমূহে, আল্লাহ আকাশ থেকে যে বারিবর্ষণ দ্বারা পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করেন তাতে এবং তার মধ্যে যাবতীয় জীবজন্তুর বিস্তারণে, বায়ুর দিক পরিবর্তনে, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালাতে জ্ঞানবান জাতির জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা বাকারা : ১৬৪)।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads