• শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮

ধর্ম

আত্মহত্যার পরিণতি ও উত্তরণের উপায়

  • প্রকাশিত ২৭ জানুয়ারি ২০২১

মো. ইব্রাহীম খলিল

 

 

 

আত্মহত্যা বা আত্মহনন (Suicide) হচ্ছে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়া বা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশের প্রক্রিয়া বিশেষ। ল্যাটিন ভাষায় সুই সেইডেয়ার থেকে আত্মহত্যা শব্দটি এসেছে। যার অর্থ হচ্ছে নিজেকে হত্যা করা। যখন কেউ আত্মহত্যা করে তখন জনগণ এ প্রক্রিয়াকে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করে। ডাক্তার বা চিকিৎসকগণ আত্মহত্যার চেষ্টা করাকে মানবিক অবসাদজনিত গুরুতর উপসর্গ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

ইতোমধ্যে বিশ্বের অনেক দেশেই আত্মহত্যার প্রচেষ্টাকে এক ধরনের অপরাধরূপে ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক ধর্মেই বিশেষ করে ইসলামে আত্মহত্যাকে পাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যে ব্যক্তি নিজেই নিজের প্রাণ বিনাশ করে সে আত্মঘাতক আত্মঘাতী বা আত্মঘাতিকা, আত্মঘাতিনীরূপে সমাজে পরিচিত হয়। প্রতি বছর প্রায় দশ লক্ষ মানুষ আত্মহত্যা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে প্রতি বছর সারা বিশ্বে যেসব কারণে মানুষের মৃত্যু ঘটে তার মধ্যে আত্মহত্যা ত্রয়োদশতম প্রধান কারণ। কিশোর কিশোরী, আর যাদের বয়স পঁয়ত্রিশ বছরের নিচে তাদের মৃত্যুর অধিকাংশ কারণ হচ্ছে আত্মহত্যা। নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার হার অনেক বেশি। পুরুষদের আত্মহত্যা করার প্রবণতা নারীদের তুলনায় তিন থেকে চারগুণ।

ইসলামে আত্মহত্যার বিধান : ইসলাম আত্মহত্যা ও তার পরিণতি সম্পর্কে বলেছে, ইসলামি আইন ও বিধানানুযায়ী আত্মহত্যা করা হারাম। আত্মহত্যা করার পদ্ধতি অনুযায়ী তার শাস্তিকে অব্যাহত রাখা হবে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের নিজেদের হত্যা করোনা। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর করুণাময়।’ (সুরা আন-নিসা, আয়াত-২৯, ৩০) অন্যদিকে হাদিসে বলা হয়েছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘যে ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামেও তার সেই যন্ত্রণাকে অব্যাহত রাখা হবে। আর যে ব্যক্তি ধারালো কোনো কিছু দিয়ে আত্মহত্যা করবে, তার জন্য সেই যন্ত্রণাকেও জাহান্নামে অব্যাহত রাখা হবে।’ (সহিহ বুখারি, হদিস নং-৪৪৬) এখন যারা ইসলামী অনুশাসন বিশ্বাস করেন, তারা কখনো আত্মহত্যাকে চিন্তাও করতে পারেন না। কেননা এর জন্য রয়েছে সুনিশ্চিত শাস্তি তথা জাহান্নাম। ইসলামী শিক্ষার প্রসারতা ও মানবীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা জাগ্রত করতে পারলে আত্মহত্যাকে অবশ্যই আমরা না বলতে পারব। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আত্মহত্যার পেছনে অনেক কারণ থাকে। যেমন : ডিপ্রেশন, দাম্পত্য কিংবা যে কোনো দ্বন্দ্ব, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতনতা। তাদের মতে, এগুলো থেকে উত্তরণ করতে পারলে আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব। আত্মহত্যা শুধুমাত্র একটি জীবনকে ধ্বংস করেনা বরং ধ্বংস করে একটি পরিবারকে। একটি সমাজকে। এটি শুধু বাংলাদেশে নয় বরং সারা বিশ্বে এর প্রবণতা রয়েছে।

আত্মহত্যা থেকে উত্তরণের উপায় : বর্তমান তথা আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে আত্মহত্যাকে একটি চরম ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতিতে ও যত্নের মাধ্যমে এর থেকে উত্তরণ পাওয়া সম্ভবপর হতে পারে। যখন একজন ব্যক্তি আত্মহত্যার বিষয়ে ব্যাপক চিন্তাভাবনা শুরু করবে তা জানামাত্রই সংশ্লিষ্টদের অবগত করতে হবে। ভুক্তভোগীকে কখনই একা থাকতে দেওয়া যাবে না। তাকে সবার সাথে মিশে থাকার পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। সে কি কারণে ডিপ্রেশনে আছে ও কেন আত্মহত্যা করতে চাইছে তা নিরূপণ করে অবস্থা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আনার চেষ্টা করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে উন্নত দেশে বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চরম মুহূর্তজনিত হটলাইন রয়েছে যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাদের চিন্তাভাবনা এবং আত্মহত্যার পরিকল্পনার কথা জানায়। হটলাইন ব্যবহারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী তার সমস্যার সমাধানের পথ সম্পর্কে অবহিত হয়ে আত্মহত্যা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখে। সর্বোপরি এব্যাপারে আমাদের সবার সজাগ দৃষ্টি রাখা একান্ত বাঞ্ছনীয়। অন্যথায় আত্মহত্যার প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে মানবজাতি ধ্বংসের মুখে পতিত হবে।

 

লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads