• শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮
নামাজ আল্লাহপ্রদত্ত উপঢৌকন

প্রতীকী ছবি

ধর্ম

নামাজ আল্লাহপ্রদত্ত উপঢৌকন

  • প্রকাশিত ০৮ এপ্রিল ২০২১

অধুনা জুমার নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি, সমাগম দেখে মনে হয়-জুমার নামাজই কেবল মুসলমানদের জন্য ফরজ। জুমার নামাজকে এতটা গুরুত্ব দেয় যে, মদখোর, সুদখোর, গাঁজাখোররা পর্যন্ত উপস্থিত হয়। মনে হয় যেন ওয়াক্তিয়া নামাজগুলো না পড়লে কাল কিয়ামতের দিনে কোনো ধর-পাকড়াও হবেনা। অনেকে জুমার নামাজ পড়ে এসে জোর আওয়াজে ঢেকুর তুলে। অথচ ওয়াক্তিয়া নামাজের কোনো খবর থাকেনা। আবার অনেকে বেহুদা সময় ব্যয় করে, কিন্তু প্রতি ওয়াক্ত নামাজের জন্য দশ মিনিট ব্যয় করার সময় হয়না। অনেকের নামাজের প্রতি এত অনীহা যে, দুনিয়াবি ও ব্যক্তিগত কাজ শেষ করে সামান্যটুকু সময় পেলে মসজিদে যায়। অথচ, নামাজ হলো সবার ওপরে।

অনেক সময় দেখা যায়, দোকানে, আড্ডাখানায় বসে গল্প জুড়ে দেয়, আড্ডা দেয়। এদিকে মুয়াজ্জিন তাঁর সুমধুর স্বরে আজান ফুকারে, সেদিকে তার কোনো খেয়ালই নেই। পুরো আড্ডা জুড়ে থাকে গীবত, হাসি-ঠাট্টা, বেহুদা কথোপকথন, ঠাট্টার ছলে অন্যকে অপদস্ত, লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি। কিন্তু নামাজের জন্য তাদের সময় হয়ে ওঠেনা।

সাধারণত আমাদের সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সময় হলো দশটা। প্রত্যুষে উঠা কেমন যেন অসভ্যতা প্রকাশ পায়। দশটার পরে উঠলে নিজেকে সভ্য ঘরের সন্তান বলে মনে হয়। যদি ভোর চারটায় কোনো সফরের পোগ্রাম হয়, এতে কতো প্রস্তুতি! আগের দিন রাত্রে কাপড়চোপড় সব গুছানো। মোবাইলে এলার্ন দিয়ে রেখেছে সাড়ে তিনটায়। মাকেও বলে দেয়, আমাকে সাড়া তিনটায় ডেকে দিতে হবে। কিন্তু সফরে বের হবে চারটায়। অথচ এই প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল নামাজের জন্য। তাদের আচার আচরণে বুঝা যায়, ‘নামাজ’ গুরুত্ব দেওয়ার মতো তেমন বিষয় না। ইচ্ছে হলে পড়লাম, না হয় ছেড়ে দিলাম। অথচ নামাজ আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য হাদিয়া, উপহারস্বরূপ। যা আল্লাহতায়ালা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মানার্থে উম্মাতে মোহাম্মদিয়ার জন্য দিয়েছেন।

আপনাকে কোনো এক প্রিয় বন্ধু একটি মিসওয়াক হাদিয়া দিল নবীর সুন্নত পালন করার জন্য। এখন যদি আপনি এই মিসওয়াককে আলমারিতে রেখে দেন তো হাদিয়াকারী কতটা কষ্ট পাবে? আরো সহজ করে বলি, আপনার প্রিয়তমা একটি জামা উপহার পাঠিয়ে চিঠিতে লিখলো, ‘আমরা অমুক তারিখে দেখা করবো। আসার সময় তুমি আমার দেওয়া জামাটা পড়ে আসবে।’ এখন আপনি দেখা করতে গেলেন ঠিক কিন্তু জামাটি পড়ে যাননি। এমতাবস্থায় আপনার প্রিয়তমা আপনার ওপর কতটা আক্রোশ হতে পারে? তদ্রূপ সালাতের ক্ষেত্রেও। সালাত, সেটা তো খোদাপ্রদত্ত একটি নিয়ামত, উপহার। যা আল্লাহতায়ালা উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য দিয়েছেন। আল্লাহতায়ালা চায় আমরা যেন তাঁর কাছে প্রতিদিন পাঁচবার নত হই। আল্লাহতায়ালা চায় আমরা নামাজের মধ্যে আল্লাহর কাছে আমাদের প্রয়োজনের কথা বলি। আমরা যেন আল্লাহর কাছে আবদার করি। পবিত্র কোরআনুল কারীমে আল্লাহতায়ালা এরশাদ ফরমান,‘হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চিই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত- ১৫৩)

একজন প্রিয়তম অধীর আগ্রহে চেয়ে থাকে কখন প্রিয়তমা একটি আবদার করবে? তদ্রূপ আল্লাহতায়ালাও চেয়ে থাকেন, বান্দা কখন এসে দরবারে হাত দু খানি তুলে বলবে। হে আল্লাহ!  আমার গুনাহগুলো মাফ করে দিন! যদি আমরা আল্লাহর দেওয়া উপহারের যথা উপযুক্ত কদর না করি, আল্লাহতায়ালা কতটা রাগান্বিত হবেন? এরপরেও আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে ছাড় দেন। আল্লাহ তো রাহমানুর রাহিম (অতি দয়ালু)।

আমরা আল্লাহতায়ালার এত এত নাফরমানি করা সত্ত্বেও আল্লাহ আমাকে আপনাকে অভাবে রাখছেন না। সুযোগ দিচ্ছেন বারেবার। আপনার প্রিয়তমা আপনাকে কখনো কী দেবেন এত সুযোগ? অথচ আমরা প্রিয়তমাকে খুশি রাখার কতো কিছুর আয়োজন! আর আল্লাহর রেজামন্দির প্রতি অনীহা! রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের সুবাদে উপঢৌকন হিসেবে ৫০ ওয়াক্ত নামাজ দেন। উপঢৌকন নিয়ে আসতেই দেখা হয় মূসা (আ.)-এর সাথে। কথোপকথন ও পরামর্শক্রমে আবার ফিরে যায় আল্লাহর দরবারে। কমিয়ে দেওয়া হয় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। এভাবে নয়বার হয় এবং পাঁচ ওয়াক্ত করে কমিয়ে দেওয়া হয়। আর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বাকি থাকে। আল্লাহতায়ালা বলেন, যে এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে, তাকে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজের সাওয়াব দেবেন (সুবহানাল্লাহ)। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং-৩০)

নামাজ পড়লে মন প্রফুল্ল থাকে। আর মন প্রফুল্ল থাকলে কাজে মন বসে। নামাজ হলো আত্মার খোরাক। যদি কখনো শরীর ও আত্মাকে পৃথক করা যেতো, তাহলে মানুষ শঙ্কিত থাকতো। আত্মাকে দেখামাত্রই মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হতো। কারণ, শরীর থাকতো বিশ বছরের যুবকের মতো সুস্থ-সবল। আত্মা থাকতো ষাট বছরের কুঁজো বুড়োর মতো অতি দুর্বল। নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা অসম্ভব হয়ে যেতো। আমরা শরীরকে চাহিদার অধিক খাদ্য ভক্ষণ করাচ্ছি। কিন্তু, আত্মার ব্যাপারে উদাসীন। আমরা ক্ষুধার্ত অনুভব করতেই ক্ষুধা নিবারণে ছুটে চলি। যার নিমিত্তে শরীর থাকে সুস্থ-সবল। কিন্তু, আত্মার ক্ষুধা নিবারণে আমরা বেখেয়াল।

লেখক :মুহাম্মাদ নুরুল ইসলাম

প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads