• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫
ads
ব্লু হোয়েল-মোমো-গ্র্যানি গেমসে নিষেধাজ্ঞা

লোগো ব্লু হোয়েল গেম

ছবি : ইন্টারনেট

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ব্লু হোয়েল-মোমো-গ্র্যানি গেমসে নিষেধাজ্ঞা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী গেমস হিসেবে বিবেচিত ব্লু-হোয়েল, মোমো ও গ্র্যানি খেলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ইউনিট। এ গেমগুলোর কোনোটি খেলার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানান।

এডিসি বলেন, ‘এ গেমগুলো গেইমার ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রাণঘাতী। এগুলো তরুণ সমাজকে হতাশাগ্রস্ত ও মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। এ বিবেচনায় বাংলাদেশে ওগুলো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সাইবার ক্রাইম ইউনিট। ভারত-পাকিস্তানেও এ তিনটি গেম নিষিদ্ধ।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ তিনটি গেমের কোনো একটি খেলছে- এমন কাউকে যদি শনাক্ত করা হয়, তাহলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া আমরা দেশবাসীকে অনুরোধ করছি, যদি তাদের আশপাশের কেউ এ গেমটি খেলে তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে এ বিষয়ে তথ্য দিন।’

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রাণঘাতী এসব গেমের কোনো লিংক বা গেম খেলছে, এমন কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সাইবার ইউনিট আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নিয়েছে।

ব্লেড দিয়ে হাত কেটে তিমি মাছ আঁকা আর আত্মহত্যার মতো পরিণতির গেম ‘ব্লু হোয়েল’ ২০১৭ সালের শুরুর দিকে ভারত, চীনসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গেমটিতে মোট ৫০টি ধাপ থাকে। ধাপগুলোর জন্য ওই কমিউনিটির অ্যাডমিন বা পরিচালক খেলতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দিয়ে থাকে। চ্যালেঞ্জগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ এবং সর্বশেষ ধাপ হলো আত্মহত্যা করা। এ ছাড়া তার আপনজনদের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়। গেমটি একবার মুঠোফোনে ব্যবহারের পর তা আর ডিলিট করা যায় না। বাংলাদেশে এ গেম খেলে এমন দুজনকে শনাক্ত করে রিহ্যাবিলিটেশন করা হয়েছে। এর ভয়াবহতার বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশে ব্লু হোয়েলের সব লিংক বন্ধের নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট।

অনলাইনে নতুন আরেক মরণফাঁদের নাম ‘মোমো চ্যালেঞ্জ সুইসাইড গেম’। এই গেম ছড়িয়ে পড়ছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে। ‘মোমো’ একটি ভয়ঙ্কর মেয়ের ছবি। নতুন এই গেমের ফাঁদে পড়ে ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনায় ১২ বছরের এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। চলতি বছর ‘মোমো’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা হয়েছে ল্যাটিন আমেরিকায়। হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জারের মাধ্যমে গেমটি পৌঁছে গেছে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপে। ভারতে অনেকেই এই গেমে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কাছে গিয়েও ফিরে এসেছে।

গত আগস্টের শেষের দিকে ‘গ্র্যানি’ নামের নতুন গেম ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি ভারতের ময়নাগুড়ির তিন স্কুলছাত্র রাতে হঠাৎ করেই অসংলগ্ন আচরণ শুরু করে। কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করে, আবার কেউ পরিবারের লোকজনকে মারধর করে। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও মোবাইল ফোন জব্দের পর পুলিশের সাইবার ইউনিট গ্র্যানি গেমের বিষয়ে জানতে পারে। ভারত পুলিশের সাইবার বিশেষজ্ঞরা তদন্তের পর প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, গ্র্যানি গেমটি মোমো বা ব্লু হোয়েলের মতো লিংকনির্ভর নয়। গেমটি মূলত ভয়ের। এই গেমের বিভিন্ন ধাপে রক্ত, ভূত বিভিন্ন রকম হিংসার ঘটনা রয়েছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads