• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
পানির নিচের চিকিৎসক চিংড়ি!

পরজীবী তাড়াতে বিশেষ প্রজাতির চিংড়ি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন গবেষকরা

ছবি : ইন্টারনেট

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

পানির নিচের চিকিৎসক চিংড়ি!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কোনো কারণে একজন মানুষ আহত হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। মানুষ ছাড়াও স্থলভাগের কোনো প্রাণী আঘাত পেলে তার জন্যও আছে ভ্যাটেরিনারি চিকিৎসক। কিন্তু গভীর জলাশয়ের কোনো প্রাণী কোনো কারণে আহত হলে তার কী উপায় হয়? গবেষকরা বলছেন, তারও চিকিৎসা হয়। আহত প্রাণীটির আরোগ্য লাভে সহায়তা করে পানির নিচেরই আরেকটি প্রাণী।

অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ট্রপিক্যাল ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পানির নিচে কোনো মাছ আহত হলে তার আরোগ্য লাভে সহায়তা করে অমেরুদণ্ডী প্রাণী চিংড়ি।

বিশ্ববিদ্যালয়টির পিএইচডি গবেষক ডেভিড ভনের এই গবেষণায় সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছেন সেন্টার প্রধান ড. কেট হাটসন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এই গবেষণার আগে গবেষকদের বুঝতে হয়েছে চিংড়ি ও অন্যান্য মাছের মধ্যে মিথষ্ক্রিয়াটা কোন উপায়ে ঘটে।

তিনি জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মৎস্য খামারগুলোতে যে উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে, তাতে পৃথিবীর মাছের চাহিদার অনেক অংশই পূরণ হয়। তবে আপসোসের বিষয়, সেখানকার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ উৎপাদন কম হচ্ছে কেবল পরজীবীদের কারণে।

এ বিষয়টি মাথায় রেখেই মৎস্য খামার বা অ্যাকুয়ারিয়ামের পরজীবী তাড়াতে বিশেষ প্রজাতির চিংড়ি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন গবেষকরা।

পরজীবী তাড়ানো চিংড়ি ও মাছ পরস্পরের মধ্যে কীভাবে যোগাযোগ করে বা মাছের মিথষ্ক্রিয়া কী উপায়ে ঘটে তা পর্যবেক্ষণের জন্য পানির নিচে হাই ডেফিনেশন ক্যামেরা বসানো হয়। তাতে দেখা যায়, চিংড়ি আসলে মাছের শরীরের ক্ষত সরাসরি সারিয়ে তুলতে বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখে না কিংবা মাছের শরীরের নতুন করে কোনো ক্ষতের জন্ম দেয় না। তারা শুধু সেই ক্ষত যেন আরো সম্প্রসারিত না হয়, সে দিকটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তারা ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়ার মতো অণুজীবগুলোকে সংক্রমণ ঘটাতে বাধা দিয়ে মাছের আরোগ্য লাভে সহায়তা করে।

ডেভিড ভন বলেন, সাধারণভাবে আমরা জানতে সক্ষম হয়েছি যে, মাছকে পরজীবীমুক্ত করতে চিংড়ি বিশেষ সহায়তা করে থাকে। তবে সেটি কোন প্রজাতির চিংড়ি, তা-ই এখন খুঁজে বের করতে হবে। আর তা সম্ভব হলে জলাশয়ে আর গণহারে রাসায়নিক ব্যবহার করতে হবে না। সেটা প্রকৃতির জন্যও বয়ে আনবে সুফল।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads