• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
ads
আবেদনের অর্ধেকের বেশিই বাধাগ্রস্ত

পাঁচ দিনে অপারেটর বদল করার জন্য মোট আবেদন এসেছে ১০ হজার ১২২টি

সংগৃহীত ছবি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

এমএনপি সেবা

আবেদনের অর্ধেকের বেশিই বাধাগ্রস্ত

  • এম. রেজাউল করিম
  • প্রকাশিত ১০ অক্টোবর ২০১৮

বহু অপেক্ষার পর চলতি মাসের ১ তারিখে বাংলাদেশে চালু হয়েছে মোবাইল নম্বর না বদলে অপারেটর বদলের সুযোগ, যা মোবাইল নেটওয়ার্ক পোর্টেবলিটি (এমএনপি) সেবা। কাঙ্ক্ষিত এই সেবা চালু হওয়ার প্রথম সপ্তাহেই আবেদন করেন ১০ হাজারের বেশি গ্রাহক। তবে আবেদনকৃতদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন বলে উঠে এসেছে এক প্রতিবেদনে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গত এক সপ্তাহে দেশের মধ্যে সব মোবাইল অপারেটর গ্রাহকের মোট আবেদনের সংখ্যা, অপারেটরদের কাছে গ্রহণকৃত আবেদন এবং প্রত্যাখ্যাত আবেদনের সংখ্যা প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, পাঁচ দিনে অপারেটর বদল করার জন্য মোট আবেদন এসেছে ১০ হজার ১২২টি। এর মধ্যে সফল হয়েছে ৪ হাজার ১৮১টি এবং বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৮৬২টি।

বিটিআরসি সূত্র জানায়, বিগত ৭ দিনের ২ সরকারি ছুটি থাকায় এখানে ৫ দিনের আবেদনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। কারণ, এমএনপি গাইডলাইন অনুযায়ী যেকোনো সরকারি ছুটির দিন এই সেবা বন্ধ থাকবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি অপারেটর বদল এবং অপারেটর বদল আবেদনের প্র্যাতাখ্যান উভয় সংখ্যাতেই শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। অপারেটরটির থেকে পাঁচ দিনে ৪ হাজার ৬১৬ গ্রাহক অন্য অপারেটরে যেতে আবেদন করেছেন। যার মধ্যে সফল হয়েছেন ১ হাজার ৮৩৪ এবং বাতিল হয়েছে ২ হাজার ৭৮২টি।

আর অপারেটর বদলের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অপারেটর বাংলালিংকের ২ হাজার ৭৯৫ জন এমএনপি সেবা নিতে আবেদন করেছেন। যার মধ্যে সফল হয়েছে ১ হাজার ২৭৬টি আর বাতিল হয়েছে ১ হাজার ৫১৯টি।

এদিকে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক পেয়ে এগিয়ে থাকা অপারেটর রবিতেও ৯৮২টি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ১ হাজার ৯৫৪টি আবেদনের মধ্যে অপারেটরটি ৯৭২টি আবেদন গ্রহণ করে। আর রাষ্ট্র মালিকানাধীন অপারেটর টেলিটক ৭০৯টি আবেদনের মধ্যে ৫৭৯টি আবেদন বাতিল করে এবং ১৩০টি আবেদন গ্রহণ করে।

এত বেশি আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ কী, জানতে চাইলে বিটিআরসির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন্স উইংয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন খান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আমাদের হাতে তথ্য আসার পর আমরাও দেখেছি গ্রাহক আবেদন প্রত্যাখ্যাত সংখ্যাটা অর্ধেকেরও অনেক বেশি। কেন এত বেশি আবেদন বাতিল হলো, সেই বিষয়ে আমরা এর কারণও অনুসন্ধান করেছি।

তিনি আরো বলেন, আবেদন বাতিল হওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে আমরা দেখেছি অপারেটরদের সঙ্গে গ্রাহকদের নির্দিষ্ট কিছু প্যাকেজ বা লেনদেনজনিত পলিসি বাইন্ডিংস আছে। যার কারণে গ্রাহক চাইলেই অপারেটর বদল করতে পারবেন না। এই সমস্যাগুলো যেন অতি দ্রুত সমাধান করা হয় সেই বিষয়ে শিগগিরই বিটিআরসি থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এতে করে এই বাতিলের পরিমাণ অনেক কমে আসবে বলে আমি আশাবাদী।

এ বিষয়ে এমএনপি সেবা প্রতিষ্ঠান ইনফোজিলিয়ন বিডি-টেলিটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাবরুর হোসেন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, অপারেটরগুলোই আসলে ক্যান্সেলেশন পলিসি তৈরি করেছে। সেক্ষেত্রে এর কারণগুলো তারাই বলতে পারবে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এমএনপি সেবা বন্ধ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, গাইডলাইন অনুযায়ী সরকারি ছুটির দিন বন্ধ থাকবে। তবে আমরা চিন্তাভাবনা করছি শনিবার অন্তত সেবাটা চালু রাখার। সেক্ষেত্রে সপ্তাহে ৬ দিন আমরা গ্রাহকদেরকে সেবা দিতে পারব।

এদিকে এমএনপি সেবা নেওয়ার পর অনেক গ্রাহকই অভিযোগ করেছেন তারা তাদের নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) সেবা নিতে পারছেন না। এতে করে অনেকেই তাদের অনলাইনে ব্যাংকের বা মোবাইলে লেনদেন কার্যক্রম অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারছেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইনফোজিলিয়ন বিডি-টেলিটেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ওটিপি সেবাগুলো আসলে ভ্যাস প্রোভাইডার, এসএমএস প্রোভাইডারের মতো থার্ডপার্টি কোম্পানিগুলো করে থাকে। সেই কোম্পানিগুলোর মধ্যে এখনো সবাই আমাদের প্ল্যাটফর্মে আসেনি। তবে ইতোমধ্যে কয়েকটা প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বাকিরাও খুব শিগগিরই চলে আসবে বলে আশাবাদী।

তিন আরো বলেন, যেহেতু এটা খুবই সামান্য একটি সমস্যা, তাই প্রাথমিকভাবে তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য গ্রাহকরা যেন ওটিপির জন্য তাদের ইমেইল ব্যবহার করতে পারে আমরা অনুরোধ করব।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads