• মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৪
ads
পড়শীকাহন

পড়শী

ছবি : সংগৃহীত

শোবিজ

পড়শীকাহন

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৪ মার্চ ২০১৯

কয়েক দিন ধরেই একপেশে ব্যস্ততায় দিন কাটছে পড়শীর। গান রেকর্ডিং, স্টেজ শো নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফুরসত নেই তার। তারপরও ধৈর্য ধরে মুখের হাসিটা অমলিন রেখেই কাজ করে যাচ্ছেন পড়শী। এত ব্যস্ততা, তারপরও তাকে পাওয়া গেল। কথা হলো বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় এ শিল্পীর সঙ্গে।

কথার শুরুতেই এমন ব্যস্ততার হেতু জানতে চাইলাম। প্রশ্নের প্রথম অভিব্যক্তিতে একটু লাজুক হাসিই হাসলেন পড়শী। বললেন, ‘কয়েক দিন ধরেই একটু বেশি ব্যস্ত। গানের রেকর্ডিং, প্লেব্যাক, মিউজিক ভিডিও সব একসঙ্গে করতে আমাকে ভালোই বেগ পেতে হচ্ছে। বিস্তারিত বললে বলতে হয়, এখন কিছু সিঙ্গেল নিয়ে কাজ করেছি। সম্প্রতি ছবির গানে কণ্ঠ দিয়েছি। থিম সং গাইলাম। হূদয় খানের গান শিগগিরই মুক্তি পাবে। দুটি গান একসঙ্গে গেয়েছি। আমি একটি, অন্যটি হূদয় ভাই গেয়েছেন। এছাড়া আরো কিছু গান মুক্তি পাবে। ‘যদি একদিন’ গানটি ছবির বাইরে আবার নতুন করে গাইব।’ 

সব ধরনের গান গাইতে পছন্দ করেন পড়শী। বিশেষ করে আধুনিক গান তার বিশেষ পছন্দ। পড়শী বলেন, ‘আমি যেকোনো গান যেকোনো ছন্দে গাই। প্রতি গানে আমি আমার স্টাইল, গানের ট্র্যাক পরিবর্তন করি। যাতে আমার গানের পার্থক্য আমি নিজেই বুঝতে পারি।’ আগের অনেক গান রিমিক্স হচ্ছে। গান রিমিক্স হওয়ার ফলে মৌলিক গানগুলো তাদের স্বকীয়তা হারাচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে পড়শী বলেন, ‘আমার কাছে এটা কখনোই মনে হয় না। আসলে যে গান শুনে আমরা বড় হয়েছি, সেগুলো আবার নতুন করে করা হচ্ছে। এটা একটি ভালো দিক। আগের যে গানগুলো আছে, সেগুলোর যদি চর্চা না থাকে তাহলে একটা সময় দেখা যাবে গানগুলো হারিয়ে যাবে। এ গানগুলো পরে আর কেউ মনে রাখবে না। এটা আমাদের দায়িত্ব যে, আগের গানগুলোকে নতুনভাবে বাঁচিয়ে রাখা। এভাবে যেমন পুরনো গানগুলো নতুন করে বেঁচে থাকছে, ঠিক তেমনি কালের পরিক্রমায় আমাদের গানগুলোও আবার নতুন করে গাওয়া হবে।’

পড়শীর ‘বর্ণমালা’ ব্যান্ডটির যাত্রা শুরু হয় ২০১২ সালে। মূলত বিভিন্ন কনসার্টে অংশ নেয় ব্যান্ডটি। তবে ব্যান্ডটির নতুন অ্যালবাম বের করার পরিকল্পনা আছে বলে জানান তিনি।

কয়েক বছর আগে গানের মিউজিক ভিডিওর গুরুত্ব না থাকলেও এখন গানের বিষয়টি এলেই মিউজিক ভিডিওর বিষয়টি প্রথমেই উঠে আসে। এ ব্যাপারে পড়শী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে যেকোনো গানের ক্ষেত্রে মিউজিক ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ। আমার যখন প্রথম ও দ্বিতীয় অ্যালবাম বের হলো, তখন অডিও আকারেই বের হয়েছে। এগুলো মানুষ তখন মনোযোগ দিয়ে শুনত। আর এখন মানুষ গানের মিউজিক ভিডিও দেখতে পছন্দ করে। সবাই এখন ইউটিউবার। আগে গানের অ্যালবাম বের হতো, এখন গানের সিঙ্গেল বের হয়। আমাদের দেশের মানুষ গানের শিল্পীদের গানের ভিডিওতেই দেখতে চায়। গানের শিল্পীদের আড়ালে থাকার কোনো সুযোগ নেই। এখন দর্শকরা শিল্পীদের সামনাসামনি দেখতে চায়। এটা আমাদের জন্য অবশ্যই খুব ভালো একটা বিষয়। সবচেয়ে বড় কথা, ট্রেন্ডের সঙ্গে মিল রেখে চলতে হবে।’

সবশেষ ‘মেন্টাল’ ছবিতে পড়শীকে দেখা গিয়েছিল। বড়পর্দায় অভিনয়ে আপাতত ‘না’ জবাব দিলেন এই তারকা। ‘মেন্টাল’ ছবিতে মূলত একজন অভিনেত্রী হিসেবে অভিনয় করেননি পড়শী। বিষয়টি খোলাসা করেন তিনি। ‘মেন্টাল’ ছবিতে আমার একটা গান ছিল। এই গানটিতে আমাকে দেখা গেছে। এই ছবিতে মূলত আমি কোনো অভিনয় করিনি। অভিনয়ের জন্য আলাদা যোগ্যতা লাগে। হুট করে চাইলেই তো আর অভিনয় করা যায় না। তবে আমি যদি দেখি, আমি অভিনয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পেরেছি তখন ভেবে দেখব। এখন ইচ্ছে করলেও অভিনয় করব না। আমি মূলত গান নিয়ে থাকতে চাই।

শিল্পীদের সুদূর ভবিষ্যতের জন্য আলাদা উদ্যোগ নেওয়া যায় কী- এমন প্রশ্নের জবাবে পড়শী বলেন, ‘আমাদের যে সরকার আছে, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গন নিয়ে অনেক চিন্তা করেন। আমাদের নিয়ে ভালো কিছু করার ইচ্ছে তার আছে। আমাদের নিজেদের যে সমস্যা আছে সেটা যদি আমরা একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করি, তাহলে তিনি অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনার মধ্যে আনবেন। আমার কাছে মনে হয় এই ধরনের বিষয় নিয়ে আমাদের চিন্তা করা উচিত। গান আমাদের মতো শিল্পীদের কাছে এক প্রকারের চাকরি। আপনি জানেন, গানে অনেক শিল্পী এলেও অনাগত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেকেই পিছিয়ে যায়। বাইরের দেশে গানের শিল্পীরা গানকে পেশা হিসেবেই মনে করে। আমাদের এখানে টিমওয়ার্কের খুবই অভাব। আগে আমরা টিম করব। নিজেরা এক হব। তখন আমাদের টিমই সার্বিক ব্যাপার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করলে অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। আমাদেরকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবেন। তখন একটা ব্যাপার হবে- শিল্পীরা একটা নির্দিষ্ট সময় পর নিশ্চিন্ত হতে পারবে। নতুনরা গানে আরো বেশি উৎসাহী হবে।’

শিল্পীরা সার্বজনীন। তাদের সুর, তাদের অভিব্যক্তিও সার্বজনীন। তাই একজন শিল্পীকে গানের সঙ্গে সঙ্গেও অনেক কিছু চিন্তা করতে হয়। নিজের শিল্পী-পরিবার নিয়ে ভাবতে হয়। পড়শী তেমনই এক শিল্পী, যিনি নিজেকে নিয়ে ভাবেন না। ভাবেন তার শিল্পী-পরিবার নিয়ে। তাই তো সমসাময়িক একজন আরেকজনের মধ্যে মান-অভিমান ভুলে শিল্পীদের কল্যাণে এক হওয়ার তাগিদ অনুভব করেন। এ তাগিদটা যে পড়শী মন থেকেই পান। আর মনের তাগিদটা আপনা আপনিই চলে আসে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads