• মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬
ads

শোবিজ

লাইফটাইম অ্যাওয়ার্ড পেলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

উপমহাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গীতিকবি, চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক, কাহিনীকার, পরিবেশক গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট আওয়ার্ডে ভূষিত করেছে ইন্টারন্যাশনাল রোটারি ক্লাব।

গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর রিজেন্সিতে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। আন্তর্জাতিক এই অ্যাওয়ার্ড পাওয়া প্রসঙ্গে গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘যেকোনো পুরস্কার প্রাপ্তিতে একটি তৃপ্তির ব্যাপার আছে। মানুষ যখন জীবিত অবস্থায় চলতে থাকে তখন তার নানান বিষয়ে, দিকগুলোকে বিবেচনা করে তার অবস্থানকে, অর্জনকে সম্মানিত করা হয়। এতে জীবনটাকে অনেক সার্থক মনে হয়। এর আগেও আমি বহুবার জাতীয়ভাবে, আন্তর্জাতিকভাবে অনেক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। কিন্তু রোটারির পক্ষ থেকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি বিস্মিত হয়েছি। কারণ এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি পুরস্কার। সত্যিই আমি প্রীত হয়েছি, সমৃদ্ধ হয়েছি। এই পুরস্কার আমার মনের মধ্যে এক অন্যরকম ভালোলাগার জন্ম দিয়েছে। আবার এটাও সত্যি, প্রত্যেকবারই প্রতিটি পুরস্কার পাবার পর আমার কাছে মনে হয়েছে যে আমার নব জন্ম হয়েছে। তখন মনে হয় সত্যিই জীবন সার্থক। সত্যিই জীবন সুন্দর।’

কুমিল্লা জেলা স্কুল এবং ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াশুনাকালে তিনি কবিতা লিখতেন। তবে তার দুঃখ একটাই, বাংলা ভাষার জন্য যে আন্দোলন হয়েছিল সেই আন্দোলনে তিনি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত থাকতে পারলেন না। তাই কলেজে থাকাকালেই তিনি এই দুঃখবোধ থেকে ‘ছেলেটা খেপেছে’ নামে শহীদ মিনার নিয়ে একটি কবিতা লেখেন যা প্রথম পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।  রেডিওতে প্রচাারিত তার প্রথম গান ছিল ‘বুঝেছি মনের বনে রঙ লেগেছে’। গানটির সুর করেছিলেন প্রয়াত অভিনেতা, নির্দেশক নাজমুল হুদা বাচ্চু। গানটি গেয়েছিলেন ফরিদা ইয়াসমিন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তারই লেখা ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ আরো অনেক দেশাত্মবোধক গান সেই সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। সিনেমায় তার লেখা প্রথম গান সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ সিনেমায় ‘আকাশের হাতে আছে এক রাশ নীল’ গানটি। গানটি গেয়েছিলেন আঞ্জুমান আরা বেগম। এখন পর্যন্ত গীতিকার হিসেবে তিনিই সর্বাধিক ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

১৯৯২ সালে আওকাত হোসেনের ‘উচিৎ শিক্ষা’র জন্য প্রথম পুরস্কার পান। এরপর একে একে তিনি দিলীপ বিশ্বাসের ‘অজান্তে’, এফ আই মানিকের ‘লাল দরিয়া’, শাহ আলম কিরণের ‘চুড়িওয়ালা’, মৌসুমীর ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ এবং সর্বশেষ গাজী মাজহারুল আনোয়ার গেল বছর ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। গাজী মাজহারুল আনোয়ার ১৯৮২ সালে প্রথম ‘নান্টু ঘটক’ সিনেমা পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে তিনি শাস্তি, সমাধি, বিচারপতি, চোর, সন্ধি, স্বাক্ষর, স্বাধীন, শ্রদ্ধা, স্নেহ, উল্কা, তপস্যা, আম্মা, পরাধীন, আর্তনাদ, রাগী, জীবনের গল্প, এই যে দুনিয়া, পাষাণের প্রেম, হূদয়ভাঙ্গা ঢেউ সিনেমা পরিচালনা করেন। তার প্রযোজনা সংস্থা ‘দেশ চিত্রকথা’ থেকে ৪৬টি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads