• সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads

শোবিজ

‘ প্রকৃত শিল্পী সব সময় অতৃপ্ত’

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৬ নভেম্বর ২০১৯

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত তারকা গুলশান আরা চম্পা। শিবলী সাদিক পরিচালিত ‘তিন কন্যা’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে যাত্রা শুরু তার। এ পর্যন্ত শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রের সংকটময় মুহূর্তেও চম্পা বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করছেন।

মাঝখানে অভিনয়ে খানিকটা বিরতি দিলেও বর্তমানে অভিনয় করছেন একাধিক ছবিতে। নতুন ছবি সম্পর্কে চম্পা বলেন, বেশ কয়েকটি নতুন ছবিতে অভিনয় করছি। এক এক করে শেষ করছি। বলতে পারেন বিরতির পর আবার অনেকটা ব্যস্ত হয়ে পড়েছি চলচ্চিত্রে। সম্প্রতি চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় ‘বিশ্বসুন্দরী’ ছবির কাজ শেষ করলাম। রোমান্টিক ঘরানার ছবি এটি। চয়নিকার এটি প্রথম চলচ্চিত্র। তবে কাজ দেখে মনে হয়নি প্রথম। আবার অমিতাভ রেজা চৌধুরীর ‘রিকশাগার্ল’ ছবির শুটিং প্রায় শেষ। অচিরেই ছবিটির ডাবিং শুরু হবে। অন্যধারার গল্পের ছবি এটি। বর্তমানে কাজ করছি এম রহিমের পরিচালনায় ‘শান’ এবং নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূলের ‘জ্যাম’ ছবির।

‘পদ্মাপুরাণ’ ছবিতে চম্পা প্রথমে কাজ শুরু করলেও পরে ছবিটি ছেড়ে দেন। এর হেতু হিসেবে চম্পা বলেন, ‘পদ্মাপুরাণ’ ছবিতে কাজ করেছিলাম খুবই অল্প। বলা চলে না করার মতো। কিন্তু দ্বিতীয় কিস্তিতে যখন ওরা মানিকগঞ্জে শুটিং করে তখন আমার পক্ষে সময় দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাছাড়া পরিচালক ঘটা করে শুটিংয়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। ওই সময় আমি একটু অন্য ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আমি তখন তাদের বলেছিলাম অন্য কাউকে নিতে।

‘রিকশাগার্ল’ ছবিতে একেবারেই ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন চম্পা। ছবিতে তিনি রিকশা গ্যারেজের পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এক নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে চম্পা বলেন, এটি একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্র। এ সমস্ত কর্মক্ষেত্রে সব সময় পুরুষকেই দেখতে পাই। অনেক অনেক ভালো লেগেছে ছবিটি করে। চরিত্র ও গল্প দুটোই চমৎকার লেগেছে বলেই অভিনয় করেছি। এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারলে ভালো লাগে। যদিও একজন শিল্পী কখনো কোনো কাজে পরিপূর্ণ তৃপ্ত হন না। একজন প্রকৃত শিল্পীর মনে সব সময়ই অতৃপ্ততা কাজ করে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই অতৃপ্ততা তাড়া করে ফেরে।

এই ছবির মাধ্যমে প্রথমবার অমিতাভ রেজার সঙ্গে কাজ করলেন চম্পা। পরিচালক হিসেবে অমিতাভ রেজা যথেষ্ট মেধাবী বলে জানান তিনি। চম্পা বলেন, তার পরিচালনায় কাজ করার ইচ্ছে ছিল অনেক আগে থেকেই। অমিতাভ রেজার নির্মাণশৈলীর মধ্যে এক ধরনের ম্যাজিক আছে। তিনি দারুণ গুছিয়ে কাজ করতে পারেন। ছবির সংলাপ, দৃশ্যায়ন সবকিছুতেই ধারাবাহিকতা ঠিক থাকে। সবকিছুই সুশৃঙ্খল, সুন্দর পরিবেশ। অন্যদের শুটিংয়ে অনেক সময় দেখা যায়, সেটে গিয়ে শিল্পীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। শুধু আমাকে নয়, ছোট-বড় সব শিল্পীকেই সম্মান দেখান তিনি। এমন নির্মাতাদের খুব বেশি প্রয়োজন আমাদের চলচ্চিত্রে।

বর্তমানে চলচ্চিত্রের অবস্থা সম্পর্কে চম্পা বলেন, এক কথায় বলতে গেলে এখনকার সিনেমায় কোনো কিছুই নেই। সব সিনেমার গল্পই একই রকম মনে হয়। এ থেকে আমাদের নাটক-সিনেমা বেরিয়ে আসতে পারছে না। এর মধ্যে দুয়েকটা কাজ ভালো হচ্ছে, তবে এত বড় শিল্পের কাছে এটা কিছুই না। আগে কাজের প্রতি সবার একটা শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ ছিল। সবাই পরিশ্রমী ছিল। ফাঁকি দেওয়ার মানসিকতা ছিল না কারো মনে।

বর্তমানে অনেকেই অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন। অনেকেই আবার অভিনয় করতেই চান না। এখনকার ছবিগুলো নায়ক-নায়িকানির্ভর হওয়ার কারণে সিনিয়র শিল্পীরা বেকার হয়ে পড়ছেন বলে মনে করেন চম্পা। অন্যদিকে সম্মানের দিক বিবেচনা করে সিনিয়র শিল্পীরা যেনতেন চরিত্রে অভিনয় করতেও পারছেন না বলে মনে করেন তিনি। নির্মাতারাও বাজেটের কারণে সিনিয়র শিল্পীদের জায়গায় যে কাউকে দিয়ে অভিনয় করিয়ে নিচ্ছেন।

চম্পা বলেন, সিনিয়র শিল্পীদের গুরুত্ব অনেক। তাদের চরিত্রের গুরুত্বের কারণে সিনেমার গল্পটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া সিনেমাও কম নির্মাণ হওয়াও একটি কারণ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads