• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads

শোবিজ

জয়াকাহন

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৮ নভেম্বর ২০১৯

নাটকের জয়া, সিনেমার জয়া- তার প্রতিটি পদক্ষেপ, ধীরে ধীরে জয়ার এগিয়ে যাওয়ার সময়। সেই জয়া আহসান এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে চুটিয়ে কাজ করছেন পাশের দেশ ভারতে, কলকাতার ইন্ডাস্ট্রিতে তার এখন দারুণ জনপ্রিয়তা, বাঘা বাঘা পরিচালকরা তার কাজে আস্থা খুঁজে পাচ্ছেন।

দুই বাংলার আলোচিত অভিনেত্রী জয়া আহসান। ইদানীং বাংলাদেশের চেয়ে কলকাতার সিনেমা নিয়েই বেশি ব্যস্ততা। আজ সারাদেশে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার অভিনীত ভারতীয় সিনেমা ‘কণ্ঠ’। সাফটা চুক্তি অনুসারেই ছবিটি এদেশে মুক্তি পাচ্ছে।

নতুন ছবি ‘কণ্ঠ’ সম্পর্কে জয়া বলেন, “জীবনযুদ্ধে লড়াই করে বেঁচে থাকার গল্প ‘কণ্ঠ’। ছবিটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়। এ ছবিতে আমি ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমার ক্যারিয়ারে এ ছবিটি স্পেশাল হয়ে থাকবে। কিছু কিছু চরিত্র হূদয়ে দাগ কেটে থাকে। এটি তেমন একটি। এ ছবিতে অভিনয় করে আমি পরিতৃপ্ত। সত্যিই আমি ‘কণ্ঠে’ অনবদ্য চরিত্রে অভিনয় করেছি। এ ছবির কাজ আমার কাছে বড় জার্নি ছিল। ভীষণ প্রেরণার ছবি এটি। এখানে অভিনয় করতে গিয়ে জীবনকে অন্যভাবে দেখার সুযোগ হয়েছে। ছবিটির গল্প এমন যা সকল শ্রেণির লোকদের দেখা উচিত। এ ছবি থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে।”

ছবির গল্পে দেখা যায়, একজন বাচিক শিল্পীর (রেডিও জোকি) দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে কণ্ঠ হারানোর এক মর্মস্পর্শী গল্প আর সেই কণ্ঠ ফিরে পাওয়ার লড়াই নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘কণ্ঠ’ ছবিটি। ছবিতে আমি ছাড়াও অভিনয় করেছেন পাওলি দাম, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, চিত্রা সেন, বিপ্লব দাশগুপ্ত প্রমুখ।

এর আগে এ বছরের মে মাসে কলকাতায় জয়া অভিনীত ‘কণ্ঠ’ ছবিটি মুক্তি পায়। এ ছবি সম্পর্কে জয়া বলেন, ‘কণ্ঠ’ কলকাতায় ভালো চলেছে। অল্প সময়ে ছবিটি ভালো ব্যবসা করে। পরিচালকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়। দর্শকদের পাশাপাশি কলকাতার চিকিৎসকরা ছবিটির খুব প্রশংসা করেছেন। তারা বলেছেন, ছবিটি শুধু ভারতে নয়- অন্যান্য দেশেও মুক্তি দেওয়া উচিত।

কলকাতায় মুক্তির পর ছবিটি বাংলাদেশেও মুক্তি পাবে। অবশেষে সাফটা চুক্তির মাধ্যমে এদেশের প্রায় ২০টির মতো প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। ছবিটি পরিবেশন করছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।

জয়া আহসানের দুর্দান্ত অভিনয়ের স্বাক্ষর আমরা দেখেছি নাটকে, বিটিভির ‘এনেছি সূর্যের হাসি’ থেকে শুরু করে ‘শঙ্খবাস’, ‘লাবন্যপ্রভা’ কিংবা ‘চৈতা পাগল’ অথবা ‘তারপরেও আঙুরলতা নন্দকে ভালোবাসে’ থেকে আমাদের গল্প- যেখানেই জয়া আহসানকে দেখেছি, প্রত্যেকবার তার অভিনয়প্রতিভায় মুগ্ধ হয়েছে সবাই। দৃষ্টি ঝলসে গেছে তার চোখ ধাঁধানো শৈলীতে, শূন্য থকে উঠে এসে দারুণ সব অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এতসব মেধার ভিড়েও নিজেকে আড়াল হয়ে যেতে দেননি, বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই প্রজন্মের সবচেয়ে মেধাবী অভিনেত্রী তিনিই।

চলচ্চিত্রের বিশাল পটভূমিতে জয়ার আগমন মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ব্যাচেলর দিয়ে। খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ রোলে ছিলেন না। ততদিনে টিভিপর্দায় প্রায় নিয়মিত তিনি, ধারাবাহিক নাটক করছেন, এক ঘণ্টার নাটকেও দেখা যায় তাকে। বেছে বেছে কাজ করার স্বভাবটা তার অনেক পুরনো, এ কারণে ক্যারিয়ারে বাজে কাজ খুব একটা নেই জয়ার। মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারের আসরে তখন প্রতিবছর দেখা মেলে তার, জয়ার দারুণ অভিনয় নিয়ে আলোচনা হয় নাট্যজগতের মানুষজনের মধ্যে, তিনি পুরস্কার বগলদাবা করে নিয়ে যান ঘরে।

তবে জয়া আহসান নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন নাসিরউদ্দিন ইউসুফের পরিচালিত ‘গেরিলা’ সিনেমায়। এর মাঝে ‘ডুবসাঁতার’ আর ‘ফিরে এসো বেহুলা’ নামের দুটি সিনেমায় দেখা গিয়েছিল তাকে; কিন্তু মূলধারার সিনেমা না হওয়ায় সাড়া ফেলতে পারেনি সেগুলো। ২০১১ সালে গেরিলায় কাজ করে সবটুকু আলো নিজের দিকে টেনে নিয়েছিলেন জয়া। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘরে তুলেছিলেন তিনি সেই সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয় করে। বিলকিস বানু চরিত্রে সেই প্রতিবাদী গৃহবধূকে যারা দেখেছেন, তাদের ভোলার কথা নয় মোটেও।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়া আহসান আরো দুবার জিতেছেন এর পরে। চোরাবালি আর জিরো ডিগ্রী সিনেমায় অভিনয়ের জন্যে। ২০১৩ সালে কলকাতার বিখ্যাত পরিচালক অরিন্দম শীল তার ‘আবর্ত’ সিনেমায় নিয়েছিলেন জয়াকে, এরপর থেকে নিয়মিত সেখানে কাজ করছেন এই গুণী শিল্পী। পর্দায় ওর দারুণ অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে অন্যান্য পরিচালকরাও সিনেমা অফার করছেন জয়া আহসানকে। এর মধ্যেই সৃজিত মুখার্জি, ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী, কৌশিক গাঙ্গুলির মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে জয়ার, অরিন্দমের সঙ্গে তো একাধিক সিনেমায় কাজ করেছেন।

কলকাতার শীর্ষ দশ অভিনেত্রীর তালিকায়ও জয়ার অবস্থান একদম উপরের দিকে। জয়া আহসান কলকাতায় মজে গেছেন বা বাংলাদেশের সিনেমায় একদমই কাজ করছেন না- ব্যাপারটা মোটেও তা নয়।

শিল্পী জয়ার সবচেয়ে বড় গুণ যেটা, সেটা হচ্ছে সাহস। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন তিনি, নিজেকে ভাঙছেন, গড়ছেন, প্রতিটি সিনেমায় নতুন অবতারে হাজির হচ্ছেন দর্শকের সামনে। নিজের কমফোর্ট জোন তৈরি করতে তার ব্যাপক অনীহা। কলকাতার যে পরিচালকদের আমরা গুণী পরিচালক বলি, তাদের সবাই এই তারকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads