• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
ads

শোবিজ

দেশীয় চলচ্চিত্রে সুদিন ফেরানোর চেষ্টা

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৯ নভেম্বর ২০১৯

বহুমাত্রিক অভিনেতা আরিফিন শুভ। বিশেষণটি তার অভিনয়ের সঙ্গে একেবারেই মিলে যায়। একবার অ্যাকশন হিরো, আবার রোমান্টিক হিরো। কখনো বা আবির্ভূত হয়েছেন বুদ্ধিদীপ্ত খলনায়কের ভূমিকায়। অ্যাকশন হিরো হয়ে ক্যারিশমা দেখিয়েছেন ‘অগ্নি’ ও ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমায়। তার বদৌলতে ঢাকাই সিনেমার অ্যাকশনে পেয়েছে নতুনত্ব। রোমান্টিক হিরো হিসেবে অভিনয় করেছেন ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ও ‘প্রেমী ও প্রেমী’ সিনেমা দিয়ে। ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’তে আবার আবির্ভূত হয়েছেন বুদ্ধিদীপ্ত খলনায়কের ভূমিকায়। যার ক্যারিয়ারে ‘ধ্যাততেরিকি’র মতো কমেডি আর ‘জাগো’র মতো খেলুড়ে সিনেমাও আছে।

সব ধরনের যোগ্যতা থাকার পরেও লম্বা ক্যারিয়ারে সুপারহিট বলতে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ই সম্বল। সর্বশেষ গোলাম সোহরাব দোদুলের ‘সাপলুডু’ আশা দেখালেও দ্বিতীয় সপ্তাহ না পেরোতেই মুখ থুবড়ে পড়ে। এর আগে চিত্রনায়ক আলমগীরের প্রযোজনা ও পরিচালনায় ‘একটি সিনেমার গল্প’ শুরুতেই ব্যর্থ হয়েছিল হল কালেকশনে। তবে বরাবরই শুভ হয়েছেন প্রশংসিত ও পুরস্কৃত। এর নেপথ্য কারণ হিসেবে রয়েছে তার দর্শন। শুভ বলেন, ‘সিনেমা হিট মানেই সবকিছুই হিট, আমি এটা বিশ্বাস করি না। পর্দায় আমি নিজেকে শতভাগ দেখতে পারলেই হিট মনে করি। সিনেমার ভবিষ্যৎ কেউ বলতে পারে না। আগামীতে যে সিনেমাগুলো আসছে, সেগুলো নিয়ে আমি সমানভাবে খুশি থাকতে চাই। কোনোটা আকাশচুম্বী প্রত্যাশা আবার কোনোটা কম প্রত্যাশা রাখতে চাই না। আমি আমার বিশ্বাসের সঙ্গে থাকব। সফল বা বিফল ব্যাপার না। আমি আমার জার্নিটা চালু রাখব।’

শুরুটা মডেলিং ও টেলিভিশন নাটক দিয়ে হলেও শুভ এখন ঢাকাই সিনেমার নির্ভরযোগ্য তারকাদের একজন। ‘জাগো’ ছবিতে অভিনয়ে মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি। এ পর্যন্ত দুই ডজন সিনেমা মুক্তি পেয়েছে তার। মুক্তির অপেক্ষায় আছে আরো বেশ কয়েকটি সিনেমা। এর মধ্যে রয়েছে ‘মিশন এক্সট্রিম’। আগামী বছরের শুরুর দিকে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা। এ বিষয়ে শুভ বলেন, ‘ঢাকা অ্যাটাক যারা তৈরি করেছিল, তারাই মিশন এক্সট্রিম তৈরি করেছে। ফলে অনেকেই মনে করছে ঢাকা অ্যাটাকের সিক্যুয়াল এটি। তা কিন্তু নয়। দুটি সিনেমা সম্পূর্ণ আলাদা। এতে গল্পের ভিন্নতা রয়েছে। ঢাকা অ্যাটাকের সঙ্গে কিছুই মিলবে না। থাকবে ভরপুর অ্যাকশন দৃশ্য।’ এদিকে এ সিনেমার মধ্য দিয়েই জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর সঙ্গে জুটিবদ্ধ হন তিনি।

তিনি কাজ করেছেন ওপার বাংলার ছবিতেও। অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের সঙ্গে ‘আহা রে’ ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের দর্শকদের। কথা বলেছেন এ প্রসঙ্গেও। ‘অনেকেই “আহা রে” নিয়ে আমাকে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। আমিও সব সময় অভিজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে থাকি। ছবিটি দিল্লির হ্যাবিট্যাট চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনও হয়েছিল। সত্যিই এসব অর্জন আমার ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করেছে।’

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার সাপলুডু সিনেমাটি। এ বিষয় শুভ বলেন, ‘খুব যে যাচাই-বাছাই করে কাজ করা হয় এমনটি নয়। নতুন কাজে হাতে দেওয়ার আগে গল্পটা বোঝার চেষ্টা করি। যদি কোনো গল্প মনে ধরে, তবে কাজে নেমে যাই। সেজন্যই “সাপলুডু” করা।’

শুভ বিশ্বাস করেন দেশীয় সিনেমার মন্দাভাব একটু একটু দূর হচ্ছে। এখন মানুষ হলে গিয়ে ছবি দেখছে। সংখ্যায় কম হলেও ভালো ছবি নির্মাণ হচ্ছে। আর মৌলিক গল্পে ছবি নির্মাণ হলে তা দর্শকরাও পছন্দ করে। আমাদের অভিনয় শিল্পীরাও আগের থেকে দায়িত্বশীল হয়েছেন। দর্শকরাও এখন গল্প বোঝে। ফলে দেশীয় চলচ্চিত্রে সুদিন শিগগিরই ফিরে আসবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads