• শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬

শোবিজ

‘পুরস্কার দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়’

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

চির সবুজ ও চির সতেজ তারকা অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। একাধারে তিনি মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। সবখানেই তিনি দ্যুতি ও মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন। তারকাদের তারকাও বলা হয় তাকে। এমনিতেই শতভাগ সফল এ অভিনেত্রী। তবে এতকিছুর পর চলতি বছরে যোগ হয়েছে তার বেশ কয়েকটি নতুন পরিচয় ও উপাধি। সাফল্যের পাল্লা হয়েছে আরো ভারী।

চলতি বছরেই তিনি বেশ কয়েকটি পুরস্কার ও বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে একুশে পদক, মহিলা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কার। সব মিলিয়ে ২০১৯ সালটি তার জীবনে অন্যরকম এক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

চলতি বছরটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে মন্তব্য করে জীবন্ত এ কিংবদন্তি বলেন, ‘প্রতিটি মানুষেন জীবনে কিছু সফলতা থাকে। তার মধ্যে কিছু সফলতা অনেক বড় পাওয়া। একুশে পদক, সংসদ সদস্য, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মতো পরপর কয়েকটি ভালো খবর এ বছর আমার জন্য ছিল।’

২ ডিসেম্বর ছিল তার জন্মদিন। জীবনের ৫৯টি বসন্ত পেরিয়ে ৬০ বছরে পা দিলেন সুবর্ণা। কোনো রকম আয়োজন ছাড়াই প্রতি বছরের মতো এবারো সাদামাটাভাবে পালিত হয় তার জন্মদিন। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই জন্মদিনে কোনো আয়োজন রাখি না। পরিবারের সঙ্গেই দিনটি কেটে যায়। এবারও তা-ই হয়েছে।’

বছরজুড়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বরেণ্য এ অভিনেত্রী।

কয়েকটি টিভি নাটকের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন চলচ্চিত্রেও। ফখরুল আরেফিন খান পরিচালিত ‘গন্ডি’ সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি। এতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন কলকাতার আরেক কিংবদন্তি অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী। শুভজিৎ রায়ের ‘পথের সাথী’ গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘গন্ডি’। দুই বয়স্ক মানুষ বাড়িতে একা। তাদের ছেলেমেয়েরা বিদেশে। তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। আলাপ জমে। দেখা হয় রোজ। কিছু প্রেমাস্পর্শ। এই অচেনা গল্প ঘিরে দুজন প্রটাগোনিস্ট। নিজের সিদ্ধান্তে তারা বাঁচতে চায়। একজন পুরুষ আর একজন নারী। প্রধান এই দুই চরিত্রে সুবর্ণা ও সব্যসাচীকে দেখা যাবে। ছবিটি আগামী বছরের শুরুর দিকে মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক। সারা বছর ‘গন্ডি’ নিয়ে আলোচনায় থাকলেও বছরের শুরুতে সুবর্ণা এ নিউজ টোয়েন্টি ফোর চ্যানেলের ‘কুইজিং টাইম’ শিরোনামের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে আলোচনায় আসেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এ বিষয়ে সুবর্ণা বলেন, ‘উপস্থাপনা আমাকে তেমন টানে না। নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয়েই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। গত বছর অভিনয়েই বেশি সময় দিয়েছি। হঠাৎ উপস্থাপনার জন্য এক প্রকার জোর করা হয় আমাকে। একান্ত অনুরোধেই উপস্থাপনায় ফেরা। তবে উপস্থাপনা করতে মন্দ লাগেনি। নতুন নতুন সব মেধাবী প্রতিযোগীদের মেধা যাচাই করতে নিজের মনের মধ্যেও একটা গর্ব কাজ করছে। আমাদের দেশে এত মেধাবী ছেলেমেয়ে আছে, ভাবতে ভালোই লাগে।’

জীবনে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন সুবর্ণা। তবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো এ বছর তার একুশে পদকপ্রাপ্তি। অভিনয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদক পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত অভিনয় ও সংগীতজগতের অনেকে।

সুবর্ণা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটা অসম্ভব একটা গর্বের মুহূর্ত। এটি রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার। রাষ্ট্র যখন একজনকে স্বীকৃতি দেয়, তখন অনুভূতিটা হয় অন্যরকম। সেই একজন যখন আমি, ভালো লাগা যে আরেকটু বেশি হবে, এটাই স্বাভাবিক। পুরস্কার দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়। আগামী দিনে যাতে কাজ ঠিকমতো করে যেতে পারি, সেই চেষ্টা করে যাব সব সময়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে একুশে পদক নেওয়া প্রসঙ্গে সুবর্ণা বলেন, ‘এটা অনেক অনেক বিশাল সম্মানের ব্যাপার। আমি খুবই খুশি। জীবিত অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নিতে পারাটা বিরাট ঘটনা।’

এছাড়া সম্প্রতি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গহীন বালুচর’ ছবির জন্য সেরা পার্শ্বচরিত্রে নির্বাচিত হয়েছেন সুবর্ণা। তবে এই পুরস্কারের কৃতিত্ব সবার বলে মনে করেন সুবর্ণা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads