• শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬
ads

শোবিজ

মুক্ত হলেন ডন

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ। তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি। বরং পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা পিবিআই। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরে এমন তথ্য জানান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন তুলে ধরে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পিবিআই কর্তৃক তদন্তকালে ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৪৪ সাক্ষীর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি ঘটনাসংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করা হয়। এসব বিষয় পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন। হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে সালমান খুনে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সব দায় থেকে মুক্ত হলেন।

পিবিআইয়ের এই প্রতিবেদনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সালমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি অভিনেতা আশরাফুল হক ডন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। অবশেষে কলিজার বন্ধুকে হত্যার মিথ্যা অভিযোগ থেকে মুক্ত হলাম। আমি সব সময়ই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। ২৪টা বছর বুকের ভেতর বন্ধু হত্যার মিথ্যা অপবাদ আমাকে নিয়ে ঘুরতে হয়েছে। আমার যে ক্ষতি হয়েছে, তার পূরণ কিছুতেই হবে না। আমি ধৈর্য ধরে ছিলাম। সত্য কোনো দিন মিথ্যা হয় না। মিথ্যাকেও কোনো দিন জোর করে সত্যি বানানো যায় না।’

ডন বলেন, ‘সালমান শাহ ছিল আমার কলিজার বন্ধু। এটা এই ইন্ডাস্ট্রির সবাই জানে। তার মৃত্যুতে কিন্তু আমারই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হলো। নায়ক-ভিলেন হিসেবে আমাদের যে জুটি ছিল, সেটি তরুণদের কাছে অনেক অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সালমান চলে যাওয়ার পর আমিও আর সিনেমায় তেমনভাবে নিয়মিত হতে পারিনি। তবু আমার ওপর বন্ধু খুনের মিথ্যা দায় চাপানো হলো। কত কষ্ট, জ্বালা-যন্ত্রণা আমি সয়েছি দীর্ঘ এই ২৪ বছর, সেটা আমিই কেবল জানি।’

পিবিআইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ডন বলেন, ‘আইন যা বলে তার ওপর কারও কিছু করার নেই। সালমান হত্যার তদন্তের জন্য অনেক তদন্ত হয়েছে। সর্বশেষ পিবিআই তদন্ত করল। তারা অনেক সময় কাজটি করেছে। আমাকেও ডেকেছিল দুই মাস আগে। গিয়েছি। জবানবন্দি দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট সবাইকেই তলব করা হয়েছে বলে শুনেছি। তার ভিত্তিতে এ আত্মহত্যার প্রতিবেদন এলো। আমি দেশের আইন ব্যবস্থা এবং পিবিআইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে দুই যুগ ধরে চলে আসা একটি রহস্যের মীমাংসা তারা করেছে।’

এই অভিনেতা আরও বলেন, ‘সালমান শাহ এ দেশের মানুষের কাছে একটি আবেগের নাম। মৃত্যুর এতগুলো বছর পেরিয়েও সে সবার কাছে জীবন্ত। আমি বহুবার ভেবেছি যদি এমন হতো মীরাকল ঘটে গেছে একটা। সালমান ফিরে এসেছে। আবার দুজন সিনেমা করতাম। এ দেশের মানুষ জানত সালমান আমাকে কতটা ভালোবাসে। কিন্তু এই তো কেবলই কল্পনা। সালমান আসেনি, আসবেও না। আমার বন্ধুকে যেন আল্লাহ ওপারে ভালো রাখে, সেই দোয়া চাই সবার কাছে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads