• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭

শোবিজ

‘মঞ্চশিল্পীরা অর্থের বিনিময়ে কাজ করেন না’

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

রামেন্দু মজুমদার একজন নাট্যব্যক্তিত্ব। ঢাকার মঞ্চনাটক আন্দোলনের পথিকৃৎ। মঞ্চ ও টেলিভিশনে দীর্ঘ অভিনয়জীবন তার। দেশের অন্যতম প্রধান মঞ্চনাটকের দল ‘থিয়েটার’-এর প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। বাংলাদেশের ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) বিশ্ব সভাপতি হয়েছিলেন দুবার। বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) অনারারি প্রেসিডেন্ট তিনি। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মঞ্চনাটকে অভিনয় করছেন তিনি। এখনো তিনি ‘মেরাজ ফকিরের মা’ এবং ‘মায়ানদী’ নাটক দিয়ে মঞ্চে সরব। পেয়েছেন একুশে পদকসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা পুরস্কার। সম্প্রতি স্ত্রী ফেরদৌসী মজুমদারসহ করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হয়েছেন তিনি।

করোনায় গৃহবন্দি দিনগুলো কেমন কাটছে-এমন প্রশ্নের জবাবে রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘আমরা দুজনেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। প্রথমে ফেরদৌসী পরে আমার মধ্যে এই ভাইরাস দেখা দেয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলেছি। দ্বিতীয়বার করোনা পরীক্ষায় ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। এখন দুজনেই ভালো আছি। তখন শক্ত মনে করোনাকে মোকাবিলা করেছি। ঘরের মধ্যেই দিনগুলো কেটেছে। একেবারে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। বই পড়ে, লেখালেখি করে ও অনলাইনে সময় পার হয়েছে।’

এই সময়ে প্রবন্ধ লিখেছেন। বলেন, ‘একটা প্রবন্ধের বই প্রকাশের ইচ্ছে আছে। তবে বই মেলার জন্য নয়, তার আগেই প্রকাশ করা হবে। বইটির নাম এখনো ঠিক করা হয়নি।’

করোনার সংকট যেহেতু বিশ্বব্যাপী। এর প্রভাবটাও সব ক্ষেত্রে পড়েছে। স্বাভাবিক চলার গতি থামিয়ে দিয়েছে এই ভাইরাস। মঞ্চনাটকও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ধীরে ধীরে সবকিছু শুরু হলেও মঞ্চপাড়া স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগবে বলে মনে করেন রামেন্দু মজুমদার।

করোনাকাল শুরু হওয়ার আগে থিয়েটার থেকে একটি নুুন নাটকের কাজ শুরু করেছিলেন। থিয়েটারের পক্ষ থেকে এটি ছিল রামেন্দু মজুমদারের চতুর্থ নির্দেশনা। নাটকের নাম ‘পহালে শর্বরী’। কিন্তু করোনা চলে আসায় কাজটি নিয়ে এগোতে পারেননি। করোনাকাল কেটে গেলে এ নাটকটি নিয়ে মঞ্চে ফিরবেন বলে জানান।

দুর্দিনে মঞ্চকর্মীদের কীভাবে দিন কাটছে-এমন প্রশ্নের জবাবে এ গুনীন বলেন, ‘মঞ্চশিল্পীরা অর্থের বিনিময়ে কাজ করেন না। তারা ভালোবাসার জায়গা থেকে মঞ্চে সময় ব্যয় করে থাকেন। দুর্ভাগ্য হলেও এখন পর্যন্ত এটাই আমাদের দেশে হয়ে আসছে। যেহেতু শিল্পীরা মঞ্চ থেকে কোনো অর্থ পাচ্ছে না তাই করোনার এই সময়ে নাটক বন্ধ থাকায় তাদের বেগ পেতে হচ্ছে না। হয়তো তাদের পেশার জায়গায় কোনো সমস্যা হতে পারে। সেটা ভিন্ন কথা। তবে যারা মঞ্চে লাইট-ক্যামেরা, যন্ত্র সংশ্লিষ্ট কাজ করেন তাদের উপার্জন বন্ধ হয়ে আছে।’

তবে দেশের সংস্কৃতির জন্য নীরবে কাজ করে চলেছেন। রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘মঞ্চনাটকের জন্য কাজ করে গেছি। কিছুটা হলেও বাংলাদেশের মঞ্চনাটক ও সংস্কৃতির জন্য অবদান রাখতে পেরেছি। বিশেষ করে আইটিআই’র সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে পরিচিতি করিয়ে দিতে পেরেছি। সফল মানুষ হব তা ভেবে কাজগুলো করিনি। ভালোবাসা এবং দেশের সংস্কৃতির কথা ভেবে কাজ করেছি।’

১৯৭২ সালে নাটকের দল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন। নিয়মিত নাটক করবেন, সেই আকাঙ্ক্ষা থেকে থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের কথা আমরা মঞ্চনাটকের মধ্য দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করার কথা ভেতরে লালন করেছি। মোট কথা নাটকে আমরা গণমানুষের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। থিয়েটার প্রথম মঞ্চে আনেন শহীদ মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকটি। সেই থেকে এখনো পথচলা অব্যাহত আছে।’

৪৫ বছরে বাংলাদেশের মঞ্চনাটক অনেক দূর এগিয়েছে বলে মনে করেন। বলেন, ‘মঞ্চনাটক তো আমরা ভালোবাসা থেকে করি, শখ থেকে করি। মঞ্চনাটক করে তো টাকা আসে না। তার পরও নাটককে ভালোবেসে মঞ্চে অভিনয় করি। মঞ্চনাটক কারো পেশা নয়। তার পরও বাংলাদেশের মঞ্চনাটক একটি ভালো অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। দেশে ও-বিদেশে অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছে। আমাদের মঞ্চনাটক নিয়ে অবশ্যই আমরা গর্ব করতে পারি। এটি আমাদের সম্মিলিত চেষ্টার ফসল।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads