• সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১১ মাঘ ১৪২৭
বহুমাত্রিক শিমু

সংগৃহীত ছবি

শোবিজ

বহুমাত্রিক শিমু

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৬ জানুয়ারি ২০২১

ছোটপর্দার আলোচিত তারকা সুমাইয়া শিমু। অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিংয়েও তাকে দেখা গেছে। বৈচিত্র্যময় চরিত্রে তার প্রাণবন্ত অভিনয় বরাবরই দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। একসময় টিভি নাটক মানেই ছিল শিমুর সাবলীল অভিনয়। তবে করোনার কারণে এখনো অভিনয়ে ফেরেননি অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু। তিনি এখন বেশির ভাগ সময় বাসাতেই থাকছেন। বের হচ্ছেন খুব কম। শিমু বলেন, ‘করোনার ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো হবে বলে মনে হচ্ছে না। তাই শুটিং থেকে দূরে আছি। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’

একক ও ধারাবাহিক নাটকে শিমুর অভিনয় বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। শিমু বলেন, নাটকের সংখ্যা বাড়ানোর হিসাব নিয়ে কখনো অভিনয় করিনি। ভালো কাজের দিকে মনোযোগী ছিলাম সব সময়। যখন যে চরিত্রে কাজ করেছি সেটি শতভাগ দিয়ে করার চেষ্টা করেছি। একজন শিল্পী তার ভালো কাজ দিয়েই দর্শকের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন। এটাই শিল্পীর লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করি।

বর্তমান সময়ের ওয়েব সিরিজ প্রসঙ্গে শিমু বলেন, ‘এখন ওয়েব সিরিজ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। তাই এ মাধ্যমে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে।’ টিভি নাটক প্রসঙ্গে শিমু বলেন, ‘এখনো ভালো ভালো নাটক হচ্ছে। তবে বাজেট সংকটের কারণে নাটকের চরিত্র কমে গেছে। এই সময়ে দর্শক টেলিভিশনের বাইরে বিনোদনের নানা মাধ্যম পাচ্ছেন। নতুনকে গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আর বিনোদনের মাধ্যম বাড়ার পাশাপাশি কাজের সংখ্যাও বেড়েছে।’

শিমুর মতে, শিল্পী এক দিনে তৈরি হন না। অনেক দিনে তৈরি হন। যত দিন যেতে থাকে, শিল্পী তত পরিণত হতে থাকেন। শিমু বলেন, যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী, গল্প অনুযায়ী শিল্পীরা কাজ করবেন। সব ধরনের গল্প নিয়ে, সব ধরনের চরিত্র নিয়ে আমরা নির্মাতা, নাট্যকার, পৃষ্ঠপোষকরা যদি কাজ করণে পারি, তাহলেই ভালো ভালো কাজ হবে। সব ধরনের গল্পে যদি নাটক তৈরি করা হয়, তাহলে গল্পের বৈচিত্র্য থাকে। দর্শক একঘেয়ে হন না।

নাটকে চরিত্রাভিনেতা ও চরিত্রাভিনেত্রীদের হারিয়ে যাওয়াটা ইদানীং বেশ সমালোচিত হয়েছে। শিমু বলেন, নাটক মানে কিন্তু এই নয় যে, একই বয়সের চরিত্রের ওপর ১০০টা নাটক সবাইকে করতে হবে। একটা পরিবারে অনেক সদস্য থাকে। প্রত্যেক সদস্যের আলাদা বয়স থাকে, আলাদা গল্প থাকে। পৃথিবীর যেকোনো দেশের দিকে দেখেন। সব জায়গায়ই গল্প অনুযায়ী অভিনেত্রী থাকেন। নায়িকা মানে এই না যে, আমাকে ১৬ বছর বয়সী হতে হবে। একটা প্রধান চরিত্রে একজন ৬০ বছরের মানুষও থাকতে পারেন।

শিমু মনে করেন, ভালো গল্প প্রেমের হতে পারে কিংবা হতে পারে পারিবারিক। আর প্রেমের গল্প হলেই যে একটা নির্দিষ্ট বয়সের হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। বিভিন্ন বয়সের মানুষের প্রেমও আসতে পারে নাটকে। তাতে কাজ করতে পারেন বিভিন্ন বয়সের অভিনয়শিল্পীরা। নাটকের গল্প একটা বয়সে আটকে থাকলে আটকে থাকবে নাটকের মানও। টিভি নাটকে বরবারই শিমুর চাহিদা রয়েছে। তার অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে। তাই পরিচালকরাও তাকে নিয়ে আগ্রহ দেখান।

শিমু জানান, যে কোনো মূল্যে পর্দায় থাকতে চান তিনি। কেননা, অভিনয় করে মানুষের ভালোবাসা যতটা পেয়েছেন, তার তুলনা হয় না। তিনি বলেন, আমি সব সময় চেষ্টা করেছি অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষকে, বিশেষ করে নারীদের, কোনো না কোনো বার্তা দিতে।

সেটা আমি অব্যাহত রাখতে চাই। তা ছাড়া মানুষ আমাকে যতটা ভালোবাসা দিয়েছে, সেটা যদি আমি অন্য কোনো পেশায় থাকতাম তাহলে হয়তো পেতাম না। কয়েক বছর ধরে নাটকে অনিয়মিত হওয়ার পেছনে রয়েছে শিমুর পড়াশোনা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ। গত দুই বছর ধরে একটি নতুন ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন শিমু। ‘বেটার ফিউচার ফর উইমেন’ নামের একটি ভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানের হয়ে নারীদের উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনী কোর্স পরিচালনার মাধ্যমে অনলাইনে কার্যক্রম চলাচ্ছেন। এর পাশাপাশি পুরুষদের স্কিল ডেভেলপের জন্য কোর্সও পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads