• বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭
নতুন বছরের শুরুতেই হতাশ হল মালিকরা

ফাইল ছবি

শোবিজ

নতুন বছরের শুরুতেই হতাশ হল মালিকরা

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৫ জানুয়ারি ২০২১

দেশীয় চলচ্চিত্রশিল্পে দীর্ঘদিন ধরেই চরম হতাশা বিরাজ করছে। সিনেমা হল কমে যাওয়া, নতুন চলচ্চিত্রের অভাবসহ নানা সংকটে দিনে দিনে এই শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে গত বছর থেকে নতুন করে যোগ হয়েছে মহামারী করোনা। এই মহামারীর প্রভাবে চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে গত বছর। ২০২০ সালের ১২ মাসে মুক্তি পেয়েছে মাত্র ১৪টি চলচ্চিত্র। এর মধ্যে দু-একটি তারকাবহুল ও বিগ বাজেটের চলচ্চিত্র হলেও কোনোটিই দর্শক টানতে পারেনি। দর্শক ও নতুন চলচ্চিত্রের সংকট শুধু গেল বছরেই নয়, একই অবস্থা বেশ কয়েক বছর ধরেই।

নতুন বছর ২০২১ সালের প্রথম দিনটি ছিল শুক্রবার। নিয়ম অনুযায়ী এদিন নতুন একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেলেও তা ছিল আলোচনার বাইরে। দর্শক জানেই প্রেক্ষাগৃহে নতুন চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছিল। রবিউল ইসলাম রাজ পরিচালিত এ চলচ্চিত্রটির নাম ‘কেনো সন্ত্রাসী’। পরিচালকের দাবি ২০টিরও অধিক হলে মুক্তি পেয়েছিল চলচ্চিত্রটি। কিন্তু রাজধানী ঢাকার দর্শকদের কাছে চলচ্চিত্রটির নাম ও মুক্তির বিষয়টি ছিল একেবারেই অজানা। এর পর গত তিন সপ্তাহে নতুন কোনো চলচ্চিত্র ওঠেনি প্রেক্ষাগৃহে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহেও নতুন চলচ্চিত্রের কোনো খবর নেই। নতুন চলচ্চিত্রের সংকটে পুরনো চলচ্চিত্র দিয়ে কোনোরকমে শূন্য ঘরেই বাতি জ্বালাচ্ছেন হল মালিকরা। দিশেহারা হয়ে নতুন দিনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন তারা। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পীরাও চলতি বছর নিয়ে আশায় বুক বেঁধে আছেন। মানসম্মত কোনো ছবি দিয়ে বর্ষবরণ না হলেও চলতি বছর মুক্তির তালিকায় আছে বেশ কটি বিগ বাজেটের চলচ্চিত্র। এ চলচ্চিত্রগুলো বিশেষ দিবস উপলক্ষে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মানুষ আর ছবি দেখতে হলে আসছেন না। প্রযোজকেরাও আর লোকসান গুনতে চাইছেন না। তাই নতুন ছবি নিবন্ধন বা নির্মাণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন প্রযোজকরা। কমে আসছে সিনেমা হল। সিনেমা হল ভেঙে নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন বা অন্য কিছু। একসময় দেশে প্রায় দেড় হাজার সিনেমা হল থাকলেও এখন এর সংখ্যা তিনশ’র নিচে। সিনেমার মন্দা বাজার এবং ছবির স্বল্পতা না কাটিয়ে উঠতে পারলে মালিকদের পক্ষে সিনেমা হল টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে প্রযোজক সমিতির সাবেক নেতা খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘সবার আগে সত্যিকার অর্থে সিনেমা হলের আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। সেখানে আধুনিকায়ন দরকার। তা না হলে দর্শকের অভাবে বাংলাদেশের সব প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হয়ে যাবে।’

সিনেমা হল বাঁচাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনোটিই কাজে আসছে না। অন্যদিকে সিনেমা হলের পরিবর্তে বিকল্প পন্থায় সিনেমা মুক্তির প্রচলন শুরু হয়েছে অনলাইনে। সিনেমা হল সচল রাখতে হিন্দি সিনেমা প্রদর্শনের পক্ষে সম্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। শুরু থেকে সংগঠনগুলো হিন্দি সিনেমা প্রদর্শনের ব্যাপারে বিরোধিতা করে এলেও ৩০ ডিসেম্বর এই তিন সংগঠনের নেতারা এক হয়ে বৈঠকে বসে এই সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads