• রবিবার, ৭ মার্চ ২০২১, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৬

টেলিযোগাযোগ

স্মার্টফোনকে যেভাবে পাল্টে দেবে স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫

  • সৈয়দ মো. মাসরুর রহমান
  • প্রকাশিত ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮

কোয়ালকম সম্প্রতি নিয়ে এসেছে স্মার্টফোনের জন্য নতুন চিপসেট স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫। চিপসেটটিকে ধরা হচ্ছে ফাইভজি স্মার্টফোনের ভিত্তি হিসেবে। ইতোমধ্যে চিপসেটটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে কোয়ালকম। ফাইভজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধি, উন্নত পারফরমেন্স, অসাধারণ গেমিং- সবই মিলবে নতুন এই চিপসেটে। যেসব ক্ষেত্রে চিপসেটটি আমূল পরিবর্তন ঘটাবে, তার বিস্তারিত দেখে নেওয়া যাক-

ফাইভজি ডাটা : চলতি বছর প্রযুক্তি বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ফাইভজি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালু হবে কয়েকটি দেশে। অর্থাৎ ২০১৯ সাল হবে ফাইভজি’র বছর।

তবে ফাইভজি নেটওয়ার্ক তো শুধু চালু করলেই হবে না, এর সুফল পেতে হলে লাগবে ফাইভজি সমর্থিত ডিভাইস। হোক সেটি স্মার্টফোন কিংবা অন্য কোনো আইওটি ডিভাইস। স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫ হলো এক্ষেত্রে প্রথম চিপসেট যা কোয়ালকমের এক্স৫০ ফাইভজি মডেম সমর্থন করবে। কোয়ালকমের এ মডেম সাব-৬ গিগাহার্টজ এবং মিলিমিটারওয়েভ তরঙ্গ সমর্থন করে।

ফাইভজি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডাটা ট্রান্সফার ল্যাটেন্সি কমে আসবে। এর মাধ্যমে ৮কে রেজ্যুলেশনের ভিডিও স্ট্রিমিং কিংবা ফোরকে রেজ্যুলেশনের অনলাইন গেম খেলা হয়ে যাবে আরও সহজ।

ইতোমধ্যেই স্যামসাং ও ওয়ানপ্লাস ফাইভজি স্মার্টফোন বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী বছরের শেষ নাগাদ এ ফোনগুলো বাজারে আসতে পারে। প্রথমদিকের ফাইভজি স্মার্টফোনগুলোতে কোয়ালকমের এক্স৫০ ফাইভজি মডেম ব্যবহারের সম্ভাবনাই বেশি।

বাড়বে ফোরজি এবং ওয়াইফাইয়ের গতিও : স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫ চিপসেট যে শুধু ফাইভজি স্মার্টফোনেই ব্যবহার করা হবে তা নয়। এক্স৫০ ফাইভজি মডেম এর ডিফল্ট মডেম না হওয়ায় অন্যান্য ফোরজি ডিভাইসের জন্যও এ চিপসেটটি ব্যবহার করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতে পারে এক্স২৪ এলটিই মডেম। এর ফলে ডিভাইসে পাওয়া যাবে আরও দ্রুতগতির ফোরজি অভিজ্ঞতা। মিলবে ২ গিগাবিট পার সেকেন্ড পর্যন্ত গতি।

অন্যদিকে ওয়াইফাই সংযোগের ক্ষেত্রে আগের থেকে দুই গুণ পর্যন্ত দ্রুতগতিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে এ চিপসেটের মাধ্যমে। কোয়ালকম দাবি করেছে, ওয়াইফাই সংযোগে ১০ গিগাবিট পার সেকেন্ড পর্যন্ত গতি পাওয়া যাবে।

ফাইভজি চালু হলেও শুরুর কয়েক বছরে সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে এর কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে ফাইভজি প্রযুক্তি ওয়াইফাই কিংবা ফোরজি নেটওয়ার্কের জায়গা দখল করতেও লাগবে দীর্ঘ সময়। তাই এই চিপসেটটি ফাইভজিতে যা ভূমিকা রাখবে, তার চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে ফোরজি এবং ওয়াইফাই’র ক্ষেত্রে।

বাড়বে সিপিইউ ও গ্রাফিক্সের গতি : কোয়ালকম দাবি করেছে, স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ চিপসেটের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি প্রসেসিং ক্ষমতা পাওয়া যাবে নতুন চিপসেটটিতে। এ ছাড়া এতে অ্যাডরেনো ৬৪০ জিপিইউর মাধ্যমে পাওয়া যাবে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি গ্রাফিক্স পারফরমেন্স।

অর্থাৎ গেমারদের জন্য অসাধারণ অভিজ্ঞতা মিলবে এই চিপসেট থেকে। কোয়ালকমের মতে, গেম নির্মাতারা প্রথমবারের মতো এইচডিআর গেম তৈরি করতে পারবেন এই চিপসেটটির উপর ভিত্তি করে। এছাড়া থ্রিডি গেমিংয়েও মিলবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

ফোরকে ভিডিওতে পোর্ট্রেট মোড : পোর্ট্রেট মোডে ছবি তোলা অনেকেরই বেশ পছন্দের বিষয়। তাই বলে পোর্ট্রেট মোডে ফোরকে ভিডিও? হ্যাঁ, স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫ চিপসেট এমনটাই সম্ভব করবে বলে জানিয়েছে কোয়ালকম। অর্থাৎ উচ্চ রেজ্যুলেশনের ভিডিওতেই এখন ব্যাকগ্রাউন্ড বলার করে দিয়ে ফোকাস করে রাখা যাবে লক্ষবস্তুতে।

এ সুবিধা দেওয়ার জন্য কোয়ালকমের নতুন এই সিপসেটে ব্যবহার করা হয়েছে স্পেকট্রা ৩৮০ ইমেজ সিগন্যাল প্রসেসর। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, এটিই বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার ভিশন ইমেজ সিগন্যাল প্রসেসর যা অ্যাডভান্সড কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফি এবং ভিডিও ধারণে সক্ষম।

এ ফিচারটি ভিডিও ধারণের সময় অবজেক্ট ও সাবজেক্টকে পৃথক করে বলার করে দিতে সক্ষম। আর সবই হবে ফোরকে রেজ্যুলেশনে।

কিন্তু এসব ভিডিও ফাইলের আকার কি খুব বড় হয়ে যাবে না? কোয়ালকম বলছে কোনোভাবেই হবে না। পোর্ট্রেট ছবি বা ভিডিও ফাইল সংরক্ষিত হবে উচ্চক্ষমতার এইচইআইএফ কিংবা এইচইভিসি ফরমেটে যা এর আগে দেখা গিয়েছে আইওএস ডিভাইসে।

এআর এবং ভিআরে অগ্রগতি : মোবাইল ভার্চুয়াল রিয়েলিটির উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে কোয়ালকম। প্রতিষ্ঠানটি স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫ চিপসেট ৮কে রেজ্যুলেশনে প্রতি সেকেন্ডে ১২০টি পর্যন্ত ফ্রেমে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সমর্থন করবে। এ ছাড়া অগমেন্টেড দিয়েলিটিতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দেখা পাওয়া যাবে এই চিপসেটের মাধ্যমে।

আরো স্মার্ট এবং কার্যকর ভয়েস অ্যাসিসটেন্ট : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায়ও বেশ এগিয়ে থাকছে স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫। এতে ব্যবহার করা হয়েছে আগের চেয়েও শক্তিশালী এআই ইঞ্জিন যা তিন গুণ পর্যন্ত বেশি কার্যকর, অন্তত স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ এর তুলনায়। উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভয়েস অ্যাসিসটেন্টের মাধ্যমে দারুণ পারফরমেন্স পেতেও সহায়ক। সাধারণত ভয়েস অ্যাসিসটেন্ট সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সকল কমান্ড পাঠানো হয় রিমোট সার্ভারে যেখান থেকে ডাটা প্রসেস করে পুনরায় ডিভাইসে পাঠানো হয়ে থাকে। কিন্তু ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিষয়টি যতো সামনে চলে আসছে, সার্ভারের পরিবর্তে ডিভাইসে ডাটা প্রসেসের বিষয়টিও ততোই গুরুত্ব পাচ্ছে। এক্ষেত্রে দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫।

আকারেও ছোট : স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫ হচ্ছে কোয়ালকমের প্রথম ৭ ন্যানোমিটার সিস্টেম অন চিপ। ৮৪৫ চিপসেটে ১০ ন্যানোমিটার সিলিকন চিপ ব্যবহার করা হলেও এখানে এর আকার মাত্র ৭ ন্যানোমিটার। চিপের আকার ছোট হওয়ায় অন্যান্য কমপোনেন্ট স্থাপন করার জন্য পাওয়া যাবে আগের থেকে বেশি স্পেস।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads