• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
 নতুন রানি ওসাকা

টেনিসের নতুন রানি নাওমি ওসাকা

ছবি : ইন্টারনেট

টেনিস

নতুন রানি ওসাকা

সেরেনা উইলিয়ামসের অদ্ভুত আচরণ, আম্পায়ারকে ‘চোর’ ‘মিথ্যাবাদী’ বলে গালাগাল

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি মার্গারেট কোর্টের সমান ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ফাইনাল খেলতে নেমেছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস। শুধু সেরেনা কেন? বিশ্বের তামাম টেনিসপ্রেমী মুখিয়ে ছিলেন মার্কিন কিংবদন্তির জয় দেখতে। কিন্তু দিনটি যে সেরেনার ছিল না। বিধাতা তার ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন নিশ্চিত। নইলে কেনইবা তিনি মাথা গরম করবেন ম্যাচের মাঝে। কেনইবা আম্পায়ারকে গালাগাল দেবেন। যে ঘটনা টেনিস অনুরাগীদের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে ফেলে। অলৌকিক কিছু করে নিউইয়র্কের ম্যাচে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি সেরেনা। এই সুযোগে ফ্ল্যাশিং মিডোতে দুরন্ত পারফরম্যান্স উপহার নিয়ে টেনিসবিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন ২০ বছরের নাওমি ওসাকা। সহজেই সরাসরি ৬-২ ও ৬-৪ গেমে ১৭তম বাছাইকে ধরাশায়ী করে জিতে নেন ইউএস ওপেনের শিরোপা। ঝড়ো পারফরম্যান্সের সুবাদে প্রথম জাপানি খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ে গড়লেন ইতিহাস। সঙ্গে বনে গেলেন বছরের শেষ মেজর টুর্নামেন্টের নতুন রানি।

সেরেনা নাটকীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মঞ্চস্থ করায় ঢাকা পড়ে যায় ওসাকার অসাধারণ আগুনে পারফরম্যান্স। ঘটনার শুরু প্রথম সেট থেকেই। এমনিতেই হেরে যাচ্ছিলেন সেরেনা। তার ওপর কোচ প্যাট্রিক মোরাতোগলু ইশারা দিলে আচরণবিধি ভঙ্গের জন্য সেরেনাকে দোষী সাব্যস্ত করেন আম্পায়ার। এ নিয়ে তর্ক জুড়ে দিয়ে উইলিয়ামস পরিবারের ছোট মেয়ে আম্পায়ারকে বলেন, ‘জেতার জন্য কখনো প্রতারণা করব না। বরং হারব।’

দ্বিতীয় সেটে হেরে রাগের মাথায় র্যাকেট ভাঙেন সেরেনা। দ্বিতীয়বার আচরণবিধি ভাঙার শাস্তি হিসেবে ওসাকাকে একটি পয়েন্ট দেন আম্পায়ার কার্লোস রামোস। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ২৩ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী। আম্পায়ারের কাছে গিয়ে চিৎকার করতে থাকেন। গ্যালারির দর্শকরা সাবেক নাম্বার ওয়ানের সমর্থনে দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামের পরিবেশ আরো ঘোলাটে হয়ে পড়ে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, একপর্যায়ে পর্তুগিজ আম্পায়ারকে গালাগাল দিতে থাকেন সেরেনা- ‘তুমি চোর। তুমি মিথ্যাবাদী। যতদিন বেঁচে থাকবে আমার কোর্টে কখনো আসবে না। কখন আমার কাছে ক্ষমা চাইবে। বলো তুমি দুঃখিত।’

তৃতীয়বারের মতো আইন ভঙ্গের কারণে একটি গেম প্রতিপক্ষকে দিয়ে দেন রামোস। ওসাকা এগিয়ে যান ৫-৩ গেমে। জয় থেকে তখন মাত্র এক গেম দূরে তিনি। এখান থেকে নিজেকে আর উদ্ধার করতে পারেননি ৩৬ বছরের সেরেনা। আপত্তি তুলে তিনি কথা বলেন টুর্নামেন্ট রেফারি ব্রায়ান ইয়ার্লির সঙ্গেও। কৈশোরের প্রিয় তারকার বিপক্ষে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে ওসাকা স্নায়ুচাপ সামলে ছিলেন দৃঢ়, স্থির ও শান্ত। এত কিছু হয়ে গেলেও কিছু নাকি টের পাননি ওসাকা।

২০০৯ সালে একই স্টেডিয়ামে মাথা গরম করেছিলেন সেরেনা। তার সজোরে ছোড়া বল চলে গিয়েছিল আম্পায়ারের গলার কাছাকাছি। ম্যাচ শেষে লিঙ্গবৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন সেরেনা। তার দাবি, তার জায়গায় ছেলে খেলোয়াড় থাকলে সে কোনো শাস্তিই পেত না।

এত নাটকীয়তার জন্ম দিয়েও ম্যাচ শেষে ঠিকই উষ্ণ আলিঙ্গনে সিক্ত করেছেন প্রতিপক্ষ ওসাকাকে। জানিয়েছেন অভিনন্দনও। ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠানে আনন্দে কান্নারত ওসাকাকে সান্ত্বনাও দিয়েছেন সেরেনা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads