• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
ads
কাল থেকে চালু হচ্ছে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুট

ঝুঁকিপূর্ণ একমাত্র জেটি

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

পর্যটন শিল্প

ঝুঁকিপূর্ণ জেটিতে ভিড়বে পর্যটকবাহী জাহাজ

কাল থেকে চালু হচ্ছে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুট

  • টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৩১ অক্টোবর ২০১৯

১ নভেম্বর শুক্রবার থেকে টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। গেল বর্ষার শুরুতেই এই রুটে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রতিবছরের ন্যায় জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। কিন্তু এরমধ্যেও শেষ করেনি ঝুঁকিপূর্ণ একমাত্র জেটি সংস্কার কাজ। এর ফলে যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের সর্ব দক্ষিণ পর্যটক বান্ধব ইউনিয়ন প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের জেটির বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যে জেটির পূর্ব পাশের পার্কিংয়ের তিন দিকের গাইড ভিম, স্প্রিং ভিম ভেঙ্গে সাগরের পানিতে ডুবে গেছে এবং জেটির নিচের অংশের আস্তর খসে পড়ে যাচ্ছে। ফলে রডগুলো একাকার হয়ে যাওয়ায় যে কোন মুহুর্তে বড় দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। জেটির ভয়াবহ ভাঙ্গন ও বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরায় বোট ও পর্যটকবাহী জাহাজ ভীড়াতে বেশ হিমশিমের পাশাপাশি দূর্ঘটনার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ১ নভেম্বর শুক্রবার থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে চলাচলে অনুমতি পেয়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদ, কেয়ারি ক্রোজ এন্ড ডাইন এবং দ্যা আটলান্টিক।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন তাদের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানা যায়। অবশ্যই এর আগে এই তিনটি জাহাজ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (বিআইডব্লিউটিএ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কার্যালয় থেকে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।

জানা যায়, সেন্টমাটিনে প্রায় ১০ হাজার লোক স্থায়ীভাবে বসবাস করে থাকেন। দ্বীপবাসীর একমাত্র জীবিকা নির্বাহের জন্য পেশায় জেলে হলেও বিগত কয়েক বছর ধরে এখন তাদের প্রধান পেশা হয়ে দাড়িয়েছে ট্যুরিজম ব্যবসা। পর্যটকদের আগমনের সাথে সাথে দ্বীপবাসীর ব্যস্ততাও বেড়ে যায়। দ্বীপকে নানা রঙ্গে সাজিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। এসময়ে কেউ মাছ, ডাব, কেউ চা, পান, কেউ ভ্যান চালক, হোটেল-মোটেল ব্যবসাসহ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মৌসুম ওয়ারি আয়ে পুরো বৎসর স্বাভাবিক জীবন যাপন করেন দ্বীপবাসী। প্রত্যেক বছর সেপ্টেম্বর মাসে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও এবার এখনো সেন্টমার্টিনে পর্যটকের পা পড়েনি। কিন্তু অধীর আগ্রহে পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত রয়েছেন দ্বীপবাসী।

সুত্রে আরো জানা যায়, ২০০৪ সালে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সেন্টমার্টিনের একমাত্র আধুনিক জেটি নির্মাণ করা হয়। দ্বীর্ঘদিন ধরে জেটির রেলিং, পূর্ব পাশের পার্কিং ও গাইড ভিম, স্প্রিং ভিম সাগরের বুকে চলে যায়। এর ফলে জেটির নিচে বেশির ভাগই আস্তর ভেঙ্গে রড গুলো ভেসে উঠে।

সম্প্রতি বয়ে যাওয়া ফনী, কোমেন ও টর্নেডোর প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে জেটির ভয়াবহ ভাঙ্গন ও ফাটল তীব্র হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে ছোট বড় দেড়’শত আবাসিক হোটেল,বাড়ি-কটেজ, রেস্তুরেন্ট, ২ শত দোকান, দেড় শতাধিক ভ্যান ও রিক্সা, ২৫ টি সার্ভিস বোট রয়েছে। যা দ্বীপে স্থায়ীভাবে বসবাসরত বাসিন্দারা পর্যটকদের সেবা দিয়ে আয় করে থাকেন।

সেন্টমাটিন সার্ভিস বোট মালিক সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আলম জানান, জেটির ভয়াবহ ভাঙ্গনে গাইড ভিম না থাকায় সার্ভিস বোট সেখানে ভিড়তে পারেনা। পর্যটক বাহী ১ টি জাহাজ ভিড়লে অন্য জাহাজ ভীড়তে না পেরে বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে নোঙ্গর করে অপেক্ষা করতে হয়। এবং বিকল্প ব্যবস্থায় যাত্রী উঠানামা করাতে হয়। তিনি ঝুঁকিপূর্ন জেটির দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।

সেন্টমাটিন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হাবিবুর রহমান খান জানান, জেটির ভয়াবহ ভাঙ্গনে পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমাটিন দ্বীপে আসলেও ভিড়তে সময় লাগে। তাই দ্রুত সংস্কার করে পর্ষটক উঠা নামার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।

টেকনাফ কেয়ারী সিন্দাবাদ জাহাজের ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম জানান, সবকিছু অনুকুলে থাকলে পর্যটকবাহী কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইন শুক্রবার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, গত বছর ৫ লাখ টাকায় জেটির রেলিং সংস্কার করা হয়েছে। বর্ষাকালে প্রবল ঢেউওয়ের আঘাতে জেটিতে আবার ফাটল দেখা দেয়। বিদ্যমান জেটির দক্ষিণ পাশে নতুন জেটি নির্মানে জরুরি পদক্ষেপ নিতে সরকারের সু দৃষ্টি কামনা করছি।

তিনি আরো জানান, প্রত্যেক বছর নিম্ন মানের নারিকেল গাছ ও নিম্ন মানের কাঠ দিয়ে গাইড ভিম তৈরি করা হয়। ফলে মৌসুম শেষ হওয়ার আগে উক্ত গাইড ভিম নষ্ট হয়ে যায়।

টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশন কমান্ডার লেঃ সোহেল রানা শুক্রবার থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে চলাচল করার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ড সদা প্রস্তুত রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আবুল মনছুর জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে শুক্রবার থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঘাটে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads