• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

বাণিজ্য

সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে আসছে একাধিক এলএনজি টার্মিনাল

গ্যাস সঙ্কট কাটাতে আমদানিতে নির্ভরতা বাড়ছে

  • মো. জাহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ১৯ মার্চ ২০১৮

দেশে গত অর্থবছর (২০১৬-১৭) মোট গ্যাস উত্তোলন হয়েছে ২ হাজার ৭৪৪ কোটি ৫০ লাখ ঘনমিটার। আগের অর্থবছর গ্যাসের উৎপাদন ছিল ২ হাজার ৭৫৫ কোটি ৯০ লাখ ঘনমিটার। এক বছরের ব্যবধানে গ্যাসের উত্তোলন দশমিক ৪১ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। অথচ এক বছর আগেও এ খাতে ৯ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হওয়ায় আগামীতে গুরুত্বপূর্ণ এ জ্বালানির সঙ্কট হবে ধারণা করা হচ্ছে। বেসরকারি খাতেও এ বিষয়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় শিল্পের ক্রমবর্ধমান বিকাশ ধরে রাখতে আগামীতে গ্যাস আমদানির তোড়জোড় চলছে। এরই অংশ হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি খাতে প্রতিষ্ঠা হচ্ছে একাধিক তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে পেট্রোবাংলা। টার্মিনাল ইউস অ্যাগ্রিমেন্ট এবং ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যাগ্রিমেন্ট ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। টার্মিনাল স্থলে জিও টেকনিক্যাল সার্ভে করতে ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এ খাতে চীনের সহায়তাও চূড়ান্ত হয়ে আছে। চলতি বছরে শুরু হয়ে সরকারি এলএনজি টার্মিনালের কাজ শেষ হবে দুই বছরের মধ্যে।

সরকারের পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে এগিয়ে আসছে বেসরকারি খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠান। এ খাতে বড় আকারের প্রকল্প নিচ্ছে ভারতের রিল্যায়েন্স গ্রুপ। নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট এলাকায় প্রক্রিয়াধীন নিজেদের ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় স্থাপন করা হবে একটি এলএনজি টার্মিনাল।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে ১৭০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি ছিল দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট। সময়ের ব্যবধানে সরবরাহ ২৭৪ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হলেও গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে আগের মতোই। এ অবস্থায় গ্যাসের বিকল্প উৎস নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রক্রিয়াধীন এলএনজি টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রাম হয়ে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে দুটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। দুই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। একটি প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। অপর প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম থেকে ফেনী হয়ে কুমিল্লার বাখরাবাদ পর্যন্ত স্থাপন করা হবে পৃথক পাইপলাইন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সম্প্রতি শিল্পায়নের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ছে না। জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতেই হবে। গ্যাস আমদানি করতে সরকারের নীতিগত উদ্যোগ রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি অনেক ব্যয় সাপেক্ষ। তবে আমাদের সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো থাকায় খরচ তুলনামূলক কম হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির লক্ষ্যে পেট্রোবাংলা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করবে। এর মাধ্যমে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা পূরণ হবে। মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রাপ্ত ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ২০ কোটি ঘনফুট চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় বিতরণ করা হবে। ভবিষ্যতে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা গ্যাস ও সমুদ্র থেকে অনুসন্ধানের মাধ্যমে পাওয়া গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার লক্ষ্যে আনোয়ারা ফৌজদারহাট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের সঙ্গে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত অবকাঠামো রূপান্তরে বৃহৎ প্রকল্প : প্রবৃদ্ধি সঞ্চয়ের নতুন মাত্রা শীর্ষক পুস্তিকায় বলা হয়েছে, গ্যাসের সঙ্কটের কারণে অনেক দিন ধরেই বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানাসহ অনেক শিল্প কারখানা বন্ধ রাখতে হয়। এর ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। ভবিষ্যতে বিনিয়োগ ও চাহিদা বাড়লে গ্যাসের চাহিদার সঙ্গে ঘাটতিও বাড়তে পারে। তা ছাড়া দেশের সব গ্যাসক্ষেত্রে মজুতের পরিমাণ কমে আসছে। এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে জ্বালানি সঙ্কট। এসব কিছু বিবেচনায় জ্বালানির চাহিদা পূরণে আমদানি করা গ্যাস তথা এলএনজিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads