• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads
অনেক কিছু হারানোর আছে এশিয়ার

শুল্ক আরোপে পণ্যের তালিকা না জানলে এশিয়ায় এর প্রভাব হিসাব-নিকাশ করা অসম্ভব

প্রতীকী ছবি

বাণিজ্য

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সঙ্কট

অনেক কিছু হারানোর আছে এশিয়ার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২১ জুন ২০১৮

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সঙ্কট আরো বাড়লে অনেক কিছু হারাবে এশিয়ার অর্থনীতি- বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখোমুখি হবে তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতি। অনলাইন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির এক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করে ক্যাপিটাল ইকোনমিক্স। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া বিভাগের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ গ্যারেথ লিথার বলেন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বা কাঁচামাল রফতানি করে চীনে। পরে সেখানে এসব যন্ত্রাংশ বা কাঁচামাল সমন্বয়ে পণ্য তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো গন্তব্যে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় সেমিকন্ডাক্টর চিপ, স্ক্রিনের মতো উপকরণের কথা। এগুলো সাধারণত তৈরি হয় এশিয়া জুড়ে। এসব পণ্য সমন্বয় করে চীনে তৈরি হয় সেলফোন ও কম্পিউটার। ফলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অন্য দেশে উৎপাদিত পণ্যে। তবে কোন কোন পণ্য প্রভাবিত হবে তার কোনো চূড়ান্ত তালিকা এখনো জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান জেপি মরগানের বিশেষজ্ঞরা এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় লিখেছেন, এ তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে ইলেকট্রনিক পণ্যের। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে চীনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে। আর এতে ক্ষতির মুখোমুখি হবে গোটা এশিয়া। জেপি মরগানের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশ কিছু পণ্য সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরশীল। পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে সরবরাহ শৃঙ্খলে। আর এখন বেশ টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে উদীয়মান অর্থনীতি। এসব অর্থনীতির মধ্যে আছে এশিয়ার বেশ কিছু দেশ। এসব দেশ নগদ প্রবাহ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে চেষ্টা করছে। আর এই নিরসন প্রক্রিয়ার কারণে ডলারের বিপরীতে দুর্বল হচ্ছে তাদের নিজেদের মুদ্রার মান।

চলতি বছর শুরুতে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাওয়া যেত ৩০ দশমিক ১৭২ তাইওয়ানিজ ডলার। এরপর গত সাড়ে ৫ মাসে তাইওয়ানিজ ডলারের দাম কমেছে ১ দশমিক ৭ শতাংশের মতো। একই সময় মার্কিন ডলারের বিপরীতে কোরিয়ার মুদ্রা ওনের মান কমেছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে গত ৫ মাসে মার্কিন ডলারের বিপরীতে সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের মুদ্রার মান যথাক্রমে দেড় ও দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো শুল্ক আরোপের লক্ষ্যে থাকা পণ্য সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায়নি। তাই মুহূর্তে এশিয়ার অর্থনীতি নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পণ্যের প্রধান সরবরাহকারক চীন। তাই এশিয়ায় ক্ষতির মাত্রা প্রত্যাশার তুলনায় কম হতেও পারে, জানান লিথার। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা এখন বেশিরভাগ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনে চীন থেকে। স্বল্পমেয়াদে এ পর্যাপ্ত পণ্য সংগ্রহে বিকল্প মাধ্যম খুঁজে পাওয়া বেশ মুশকিল। এতে অসুবিধায় পড়তে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা। উপসংহারে তিনি বললেন, শুল্ক আরোপের লক্ষ্যে থাকা পণ্যের তালিকা না জানলে এশিয়ায় কেমন প্রভাব পড়বে সে বিষয়ে হিসাব-নিকাশ করা অসম্ভব।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads