• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু

ছবি সংগৃহীত

বাণিজ্য

১৪০টিরও বেশি দেশে খাদ্যপণ্য রফতানি হচ্ছে : শিল্পমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১২ জুলাই ২০১৮

বর্তমান সরকার খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে বিশেষ নজর দিচ্ছে। এ জন্য এসব খাতের উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে রফতানির বিপরীতে ২০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। এতে দেশে দ্রুত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠেছে। এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানি সম্ভব হয়েছে।

‘ডিআইইউ এনএফই ক্যারিয়ার এক্সপো-২০১৮’ এবং ‘মাল্টি কমোডিটি সোলার টানেল ড্রায়ার প্লান্ট’ প্রযুক্তির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আজ বৃহস্পতিবার এসব কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস সাভারের দত্তপাড়ায় দুদিনের এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফুড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্রমবর্ধমান জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে আমরা খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। এজন্য ‘জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬’ এ কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী শিল্পকে উচ্চ অগ্রাধিকার খাতে আওতাভুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য খাত উন্নয়নে এরই মধ্যে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এ খাতের উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরকার রফতানির বিপরীতে ২০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে আসছে। ফলে দেশে দ্রুত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প খাত বিকশিত হচ্ছে। বর্তমানে ১৪০টিরও বেশি দেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানি করছে বাংলাদেশ।

তবে কৃষিপ্রধান দেশে এ খাতকে আরো এগিয়ে নিতে আমির হোসেন আমু বলেন, এখন ২৪৬টি উন্নতমানের খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও এগুলোয় রয়েছে দক্ষ জনবল এবং উন্নত প্রযুক্তির অভাব। এতে প্রতিবছর প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে  বিদেশে চলে যাচ্ছে।  এ প্রবণতা ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ স্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি।

বিশ্বব্যাপী হালাল খাদ্যের চাহিদা বেড়েই চলেছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে বিশ্বে ৭৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের হালাল খাদ্যের চাহিদা ছিল, যা বেড়ে আগামী বছর নাগাদ ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশে আধুনিক প্রযুক্তিতে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি। 

উদ্বোধনের পর পরই এলাইড হেলথ সায়েন্সেস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আহমেদ ইসমাইল মোস্তফার সঞ্চালনায়  ‘বাংলাদেশের পুষ্টি ও খাদ্য খাতের দক্ষ জনশক্তির শূন্যতা বিশ্লেষণ’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসর্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি এএফএম ফখরুল ইসলাম মুনশি, আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ এ সারওয়ার, আইসিডিডিআরবির পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম মাহবুব উল হক মজুমদার।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ঋতুভিত্তিক উৎপাদিত শাক-সবজি, ফল-মূল ও প্রাণিজ খাদ্যচক্রের কাঁচামাল সংরক্ষণের কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের গবেষকরা। সিরডাপের সঙ্গে যৌথ গবেষণা চালিয়ে ‘মাল্টি কমোডিটি সোলার টানেল ড্রায়ার প্লান্ট’ শীর্ষক এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন মৌসুমে দেশে উৎপাদিত ফল-মূলসহ কৃষিজাত পণ্য সহজেই দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যাবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads