• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
লবণের দাম নিয়ে শঙ্কায় চামড়া ব্যবসায়ীরা

বর্তমান বাজারে প্রতি বস্তা (৭৪ কেজি) লবণ বিক্রি হচ্ছে ৮৮০ থেকে ৯০০ টাকায়

সংগৃহীত ছবি

বাণিজ্য

লবণের দাম নিয়ে শঙ্কায় চামড়া ব্যবসায়ীরা

  • নাজমুল হুসাইন
  • প্রকাশিত ১৬ আগস্ট ২০১৮

এবারো ঈদের পর চামড়া প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণের সময় লবণের দাম বাড়তির দিকে থাকবে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। গত বছর এ সময় লবণের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল। এ কারণে চামড়া সংরক্ষণে দ্বিগুণ ব্যয় করতে হয়েছে তাদের। দাম বেশি হওয়ায় অনেকে সে সময় লবণ ব্যবহার করেছেন কম। এতে চামড়ার মান নষ্ট হয়ে গেছে।

দরবৃদ্ধির আশঙ্কায় এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে এখন থেকেই লবণ মজুত করছেন অনেকে। তারা বলছেন, গত বছর সরবরাহ সঙ্কটে প্রতি বস্তা লবণের দাম ৮০০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৬০০ টাকা হয়েছিল। চলতি বছর দেশে উৎপাদন হ্রাস কমেছে। তাই এবারো সঙ্কট তৈরি হতে পারে।

অধিকাংশ ব্যবসায়ীর অভিযোগ, কোরবানি ঈদের পর চামড়া প্রক্রিয়াকরণে লবণের চাহিদা থাকে প্রচুর। এই সুযোগে লবণ ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেন। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে লবণের দাম খুব বেশি না বাড়লেও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে দাম অস্বাভাবিক বাড়ানো হয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে চামড়া শিল্পে।

তবে এখন পর্যন্ত লবণের দাম বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সভাপতি নূরুল কবীর। তিনি বলেন, চলতি বছর চাহিদা অনুযায়ী লবণের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। ফলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। কোনো ব্যবসায়ী যাতে লবণের দাম নিয়ে সিন্ডিকেট করতে না পারে এজন্য সমিতির পক্ষ থেকে নজরদারি করা হবে।

লবণ মিল মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন কোরবানির ঈদে দেশে লবণের চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টন। বর্তমানে বাজারে প্রতি বস্তা (৭৪ কেজি) লবণ বিক্রি হচ্ছে ৮৮০ থেকে ৯০০ টাকায়।

অন্যদিকে কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ী সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, এখন প্রতি বস্তা লবণ কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ১০০ টাকা কম ছিল। ঈদে সরবরাহ বন্ধ থাকলে এরপর দাম আরো বাড়বে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাজারে বস্তাপ্রতি লবণের দাম ১০০ টাকা বেড়েছে। গত বছরের মতো এবারো লবণ ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করছি আমরা। এর ভুক্তভোগী আমাদের হতে হবে।’

হাইড অ্যান্ড স্কিন অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি গরু বা মহিষের চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে গড়ে ৮-১২ কেজি লবণ প্রয়োজন। দেশের বাজারের চাহিদার ৮০ শতাংশ কাঁচা চামড়াই কোরবানির ঈদের পশু থেকে সংগৃহীত। সুতরাং এই সময় ২ লাখ টন লবণের চাহিদা থাকে। আর এই সুযোগে লবণ ব্যবসায়ীরা বস্তাপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা বাড়িয়ে প্রচুর মুনাফা করেন।

দেশে বছরে ১৬-১৮ লাখ টন খাওয়ার লবণের চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির ঈদে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে আলাদা লবণের প্রয়োজন হয়। গত অর্থবছর উৎপাদন হয় ১৩ লাখ ৬৪ হাজার টন লবণ। সে হিসাবে দেশে লবণের ঘাটতি ছিল। ঘাটতি পূরণে পরবর্তী সময়ে ৫ লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। এ লবণ কোরবানি ঈদের পর দেশে আসবে বলে জানা গেছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads