• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads
অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মিল্ক ভিটার প্রধান কার্যালয় দুগ্ধ ভবনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়

সংগৃহীত ছবি

বাণিজ্য

এজিএমে শেখ নাদির হোসেন লিপু

অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৩১ আগস্ট ২০১৮

বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের (মিল্কভিটা) চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য দরদি ছিলেন। তাদের দুঃখ লাঘব করতে মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এ প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া।

দেশের অসহায় ও দরিদ্রদের স্বাবলম্বী করে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। জাতির পিতার সে স্বপ্ন পূরণে সবাইকে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। এজন্য সমবায়ীদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মিল্ক ভিটার প্রধান কার্যালয় দুগ্ধ ভবনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিষ্ঠানের  ভাইস চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হামিদ লাবলু, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. জাকির হোসেন, খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, মো. আসাদুজ্জামান, গোলাম মোস্তফা নান্টু, মো. নাজিম উদ্দিন হায়দার, মিসেস হোসনে আরা, মো. খালেকুজ্জামান খান, মো. আবদুল্লা আল হাদী, মো. আবদুস সামাদ ফকির ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আতাহার আলী আলোচনায় অংশ নেন। এজিএমের শেষের দিকে সর্বসম্মতভাবে মিল্কভিটার ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদিত হয়। এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ সমবায়ী ও শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতির হাতে পুরস্কার তুলে দেন মিল্কভিটার চেয়ারম্যান।

শেখ নাদির হোসেন লিপু প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সমবায়ীদের উদ্দেশে বলেন, সমবায়ীরা হলেন মিল্কভিটার চালিকাশক্তি।

তারা হলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রাণ। সমবায়ীরা বেঁচে থাকলে মিল্কভিটা বেঁচে থাকবে। সমবায়ীদের নিয়ে এ প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে এগিয়ে যাবে। এজন্য সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।

কেন্দ্রীয় সমবায় ইউনিয়ন গঠনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সমবায় আইন অনুসারে কেন্দ্রীয় সমবায় ইউনিয়ন গঠন করতে হবে। বলবৎ আইন অনুসরণ করে চলতে হবে। আইনের বাইরে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। যারা কেন্দ্রীয় সমবায় ইউনিয়ন করেছেন তারা ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। কেউ এটা পাননি এ রকম নজির নেই।

আগের কমিটির রেখে যাওয়া অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা, কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিষয় তুলে ধরেন শেখ নাদির হোসেন লিপু।

তিনি বলেন, টেকেরহাট ও রায়পুরে পৃথক দুটি মহিষের খামারে যে মানের মহিষ আনার কথা ছিল সেটা আনা হয়নি। দুই মাসের বাচ্চার বদলে ২ দিনের বাচ্চা আনা হয়েছে। প্রতিদিন একটি মহিষ থেকে ১২ লিটার দুধ সংগ্রহের কথা বলা হলেও পাওয়া যাচ্ছে ৩ লিটারের মতো। ফলে কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিন ৭০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। নরসিংদীতে পানি উৎপাদনের একটি প্রকল্পে ২২ কোটি টাকা গচ্চা দিয়েছে আগের কমিটি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা মোকাবেলা করে মিল্কভিটাকে গতিশীল ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে কাজ করে যাচ্ছি।

ফরিদপুরে গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন ও দুগ্ধের বহুমুখী ব্যবহারে সর্বাধুনিক ৩৪৪ কোটি টাকার প্রকল্পের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের অর্থায়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুদান হিসেবে দিয়েছেন। এটা অবশ্যই বড় প্রাপ্তি। এ টাকা ফেরত দিতে হবে না। সমবায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যতদিন দায়িত্বে আছি এ প্রতিষ্ঠানকে ঋণগ্রস্ত করে যাব না। বরং প্রতিষ্ঠানের সমৃদ্ধি ও কল্যাণে কাজ করব। এ জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

ভাইস চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হামিদ লাবলু বলেন, বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের আগে মিল্কভিটায় গতিশীলতা ছিল না। আমরা গতি ফিরিয়ে এনেছি। বর্তমান কমিটির নিরলস চেষ্টায় মিল্কভিটা এগিয়ে যাচ্ছে। 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাহার আলী ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্রস্তাবিত রাজস্ব বাজেটে মোট আয় ৪৫৫ কোটি ৪২ লাখ ৮৩ হাজার  টাকা এবং মোট ব্যয় ৪৪১ কোটি ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা, রাজস্ব বাজেটে উদ্বৃত্ত ১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সম্পূরক দুগ্ধ মূল্য বাবদ ৫২ কোটি ৫ লাখ টাকা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি বাবদ ৬৪ কোটি ৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, সামগ্রিক উৎপাদন ও বিক্রয় বৃদ্ধি ভাতা ৫০ কোটি টাকা, প্রস্তাবিত মূলধন বাজেটের মোট তহবিল ৪৪৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং মোট বিনিয়োগ ৪৪৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন,  যা সমবায়ীরা সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন দেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads