• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
নগদ সহায়তায় বাড়ছে ফার্নিচার রফতানি

রাজধানীর একটি ফার্নিচার শোরুম

সংগৃহীত ছবি

বাণিজ্য

নগদ সহায়তায় বাড়ছে ফার্নিচার রফতানি

  • নাজমুল হুসাইন
  • প্রকাশিত ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা সুবিধা পায় ফার্নিচার রফতানিকারকরা। রফতানি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে সরকার এ সুবিধা চালু করেছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে। এরপর থেকে দ্রুত বাড়ছে রফতানি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ফার্নিচার রফতানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, রফতানি বাড়ার প্রধান কারণ নগদ সহায়তা। এর পাশাপাশি দেশের গুণগতমান এবং যুগোপযোগী নকশায় আসবাবপত্র বিদেশিদের কাছে এখন বেশ প্রিয় হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া দেশেও বড় বিনিয়োগ এসেছে এ খাতে। দেশের বেশ কয়েকটি কোম্পানি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। সেসব দেশে অন্যান্য ফার্নিচারের থেকে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা কম নয়। নতুনত্ব আর আধুনিকতায় দেশের ফার্নিচার শিল্প অনেক দূর এগিয়েছে।

এ বিষয়ে হাতিল ফার্নিচারের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি সেলিম এইচ রহমান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, নগদ সহায়তা এ শিল্পকে অনেক এগিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে ২০১৭ সালের পর থেকে রফতানি আগের থেকে আরো দ্রুত বাড়ছে। এখন আর প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশ খুব একটা পিছিয়ে নেই। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের বিপুল চাহিদা মেটাতেও সম্পূর্ণ সক্ষম আমরা।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, দেশে গত অর্থবছর ফার্নিচার রফতানিতে আয় হয়েছে ৬ কোটি ৩১ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে (২০১৬-১৭) এই আয় ছিল ৫ কোটি ২৫ লাখ ডলার। সে হিসেবে বছর ব্যবধানে আসবাব রফতানি বেড়েছে দেশি মুদ্রায় প্রায় শত কোটি কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরে ফার্নিচার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ কোটি ডলার।

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে মূলত বাংলাদেশে তৈরি আসবাবপত্র বেশি রফতানি হচ্ছে। এ ছাড়া আরব বিশ্ব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ৫২টি দেশে বাংলাদেশের ফার্নিচার রফতানি হচ্ছে। দেশ থেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুতকৃত ফার্নিচারের বাজার প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার। বাকিটা পারটেক্স বোর্ডসহ অন্যান্য সহায়ক পণ্য।

রফতানিকারকরা জানান, দেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠান এখন সরাসরি বিদেশে ফার্নিচার রফতানি করছে। আখতার ফার্নিচারস, হাতিল, ব্রাদার্স, রিগ্যাল ও পারটেক্সের মতো বড় প্রায় অর্ধডজন প্রতিষ্ঠান বিদেশে তাদের বিক্রয় কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। দেশের ফার্নিচার রফতানি সম্ভাবনার বড় কারণ সস্তা শ্রম। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যে পরিমাণ খরচে ফার্নিচার প্রস্তুত করছে তার থেকে বাংলাদেশের খরচ অনেক কম। শ্রমিক ও কারিগরের সংখ্যাও বেশি।

দেশে বনাঞ্চলের পরিমাণ বেশ কম, তাই ফার্নিচার শিল্পকে কাঠ আমদানির ওপরই নির্ভর করতে হয়। তবে কাঠে ১০ শতাংশ, প্লেইন ও ভিনিয়ার্ড বোর্ডে ৩৫ থেকে ৮০ শতাংশ ও ফেব্রিকস আমদানিতে ১০২ শতাংশ শুল্ক ও কর দিতে হয় বলে জানা গেছে।

এ কারণে সংশ্লিষ্টরা কাঠের শুল্ক ও কর মোটামুটি যৌক্তিক হলেও বোর্ড ও ফেব্রিকসে শুল্ক অনেক বেশি বলে মনে করছেন, যা বর্তমানে খাতের বিকাশে বড় বাধা। তারা বলেছেন, অনেক আসবাবে কাঠের চেয়ে বোর্ডের ব্যবহার বেশি হয়। এতে করে পণ্যের দাম পাওয়াতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যায়। এজন্য সরকারের কাছে ২৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দাবির পাশাপাশি কাঠ, বোর্ড ও ফেব্রিকসের আমদানি শুল্ক কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads