• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
তামাকের উপর উচ্চহারে রাজস্ব আরোপ করা হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্য

তামাকের উপর উচ্চহারে রাজস্ব আরোপ করা হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

  • বাসস
  • প্রকাশিত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে তামাক ব্যবহার রোধে আগামী বাজেটে তামাকের ওপর উচ্চহারে রাজস্ব আরোপ করা জরুরি।

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তামাকের উপর রাজস্বের হার তুলনামূলক কম। আমাদের আগামী বাজেটে অবশ্যই তামাকের ওপর কার্যকর রাজস্ব পদক্ষেপ বাড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। তামাক ব্যবহার রোধ করে এসডিজি অর্জনে সকলের সম্মিলিতভাবে কাজ করা উচিত।’

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক : এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন, বাংলাদেশ ২০১৮’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রজ্ঞা এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) যৌথভাবে আজ এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে বেসরকারি সংস্থা প্রজ্ঞা’র সমন্বয়ক হাসান শাহরিয়ার বলেন, সরকারের তামাকবিরোধী নানাবিধ কার্যক্রমের ফলে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে তামাকের ব্যবহার ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

তিনি বলেন, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে- গ্যাটস ২০১৭ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছরের উর্ধ্বে তামাক ব্যবহারকারীর হার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ বা ৩ কোটি ৭৮ লাখ। ২০০৯ সালে পরিচালিত প্রথম গ্যাটস জরিপে তামাক ব্যবহারকারীর এই হার ছিল ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ বা ৪ কোটি ১৩ লাখ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে এবং এটিএন বাংলার প্রধান প্রতিবেদক ও আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস’র (সিটিএফকে) গ্রান্টস ম্যানেজার ডা. মাহফুজুর রহমান ভুঁঞা এবং বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক।

মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এফসিটিসি বাস্তবায়নে কেবল সমর্থনই নয়, সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণও করতে চাই। এ ব্যাপারে আগের তুলনায় আরো বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছি। কারণ এফসিটিসি বাস্তবায়নের ব্যাপারে যেখানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, সেখানে রাষ্ট্রের কাজই হচ্ছে তা বাস্তবায়ন করা।’

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, গবেষণায় আর্টিকেল ৫.৩-এর আলোকে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য কোড-অব-কন্ডাক্ট তৈরি করার যে সুপারিশ এসেছে, সেটি এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

গবেষণায়, তামাক কোম্পানির সাথে যোগাযোগ বা আলোচনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য আর্টিক্যাল ৫.৩ এর গাইডলাইনের আলোকে নীতিমালা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্ব এড়াতে সরকারি কর্মকর্তাদের তামাক কোম্পানির পদ থেকে ইস্তফা দেয়া, রপ্তানি শুল্ক ও ভ্যাট অব্যাহতিসহ তামাক কোম্পানিকে প্রদত্ত সকল সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads