• রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮, ৬ কার্তিক ১৪২৫
ads
ছোট প্রকল্পের  বড় দুর্গতি

সংগৃহীত ছবি

বাণিজ্য

ছোট প্রকল্পের বড় দুর্গতি

  • জাহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১২ সালে। ওই বছরের মার্চ থেকে শুরু হওয়া কাজ শেষ করার কথা ছিল পরের বছরের ডিসেম্বরে। কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ৭ দশমিক ৪০ মেগাওয়াটে উন্নীত করতে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। পরিধি বদলানো ছাড়াও কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বেড়েছে পাঁচবার। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এ বিষয়ে সবশেষ সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও অর্থ বরাদ্দ বিবেচনায় প্রকল্পটির কাজ এবারো শেষ হচ্ছে না বলে আশঙ্কা করছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। দুই বছরের কম সময় নিয়ে প্রণয়ন করা প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সাত বছরের বেশি সময় লাগছে বলে বিভাগের এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শন করে আইএমইডি জানিয়েছে, শুরুতে প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ ছিল ১৯২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। পরিধি সামান্য বাড়লেও ব্যয় ১১০ কোটি ৪০ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। সবশেষ হিসাবে এতে ব্যয় হয়েছে ৪৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। প্রায় সাত বছরে আর্থিক অগ্রগতি ৪২ দশমিক ২৮ শতাংশ। সবশেষ নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে হলে আরো ৬৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয় করতে হবে। অথচ এতে এবার বরাদ্দই আছে মাত্র ১০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি প্রণয়নের শুরু থেকে বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে অদূরদর্শিতা, অব্যবস্থাপনা আর অবহেলা ছিল বলে আইএমইডির পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারের ভূমি ব্যবহার নীতিমালায় জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। অথচ প্রকল্পটির আওতায় ২২ একর জমি ব্যবহার করে উৎপাদন হবে ৭ দশমিক ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এ প্রকল্পে জমি ব্যবহারে কাঙ্ক্ষিত সুফল নিশ্চিত হচ্ছে না। ভবিষ্যতে প্রকল্প প্রণয়নের সময় এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে জানা যায়, শুরু থেকে এ পর্যন্ত চারজন কর্মকর্তা প্রকল্পটির পরিচালকের (পিডি) দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় ধরে নেওয়া প্রকল্পে নিয়মিত পিডি নিয়োগের বিধান রয়েছে। অথচ এ প্রকল্পে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে দুইজন পিডি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘন ঘন বদলি না করে দীর্ঘমেয়াদে উপযুক্ত পিডি নিয়োগ দেওয়া বাঞ্ছনীয়। প্রাথমিক পর্যায়ের পিডিরা সমন্বয় ও প্রকল্পের কাজ সামনে এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটি ও বাস্তবায়ন কমিটির সভা আয়োজনের কোনো উদ্যোগও তারা নেননি। কাজ এগিয়ে নিতে প্রকল্পের এসব কমিটির সভা ডাকার সুপারিশও করেছে আইএমইডি।

সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি হিসেবে গ্যাস ব্যবহারে নির্ভরতার কারণে নানামূখী সঙ্কট বাড়ছে। গ্যাসের সরবরাহ কমে আসায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যুতের জ্বালানিতে বৈচিত্র্য আনতে চায় সরকার। কয়লাভিত্তিক বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর বাইরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে বিদ্যুৎ খাত মহাপরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল।

পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় প্রকল্পটির আকার ছোট। এরপরও ২০১২ সালে শুরু হয়ে সাত বছরে কাজ শেষ হয়নি। বিষয়টি মোটেই কাঙ্ক্ষিত নয়। এ অবস্থায় চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ সুপারিশের ভিত্তিকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানাতে বিদ্যুৎ বিভাগকে তাগিদ দিয়েছে আইএমইডি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, কাপ্তাই বাঁধের কাছে প্রকল্পের মূল স্থাপনার জন্য ২২ একর জায়গা ব্যবহার হচ্ছে। এর মধ্যে ৫ একর জায়গায় ৮ থেকে ৯ ফুট পর্যন্ত মাটি ভরাট করতে হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। ভবন ও উপকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরিদর্শনে এ খাতে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ অগ্রগতি দেখা গেলেও ৬৮ শতাংশ কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমেদ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads