• শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৪
দ্বিতীয় দিনেও চলছে স্টলের কাজ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

বাণিজ্য

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

দ্বিতীয় দিনেও চলছে স্টলের কাজ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১১ জানুয়ারি ২০১৯

বাণিজ্য মেলার দ্বিতীয় দিন ছিল কাল। এরপরও পুরোপুরি সম্পূর্ণ হয়নি বহু কাজ। বিদেশি স্টলগুলোর অধিকাংশ এখনো ফাঁকা। ছোট স্টলগুলো এখনো পণ্য সাজাচ্ছে। কাজ চলছে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের থিম সম্পূর্ণ প্যাভিলিয়নগুলোরও।

গতকাল মেলা ঘুরে দেখা গেল এমন চিত্র। বহু স্টল তাদের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় সেগুলো দর্শনার্থীদের জন্য পণ্য প্রদর্শন করতে পারেনি। এসবের বেশিরভাগই ছোট স্টল। সেখানে কর্মরতরা জানান, পুরোপুরি নির্মাণকাজ শেষ হতে আরো দু-এক দিন লাগবে। তবে সব স্টলের কাজ শেষ না হলেও মেলায় কমবেশি দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেছে। আজ ও আগামীকাল সপ্তাহের ছুটির দিনে প্রচুর দর্শনার্থী সমাগম ঘটবে বলেও আশা করছেন আয়োজকরা। তবে অধিকাংশরা মেলার এ অসম্পূর্ণ পরিস্থিতি দেখে হতাশ হচ্ছেন।

এ বিষয়ে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) উপপরিচালক ও বাণিজ্য মেলার সদস্যসচিব আবদুর রউফ বলেন, বিদেশি স্টলের কার্যক্রম শুরু হতে সব সময় একটু দেরি হয়। তাদের পণ্য বিদেশ থেকে আনার একটি বিষয় রয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে কাস্টমসে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকে আমরা নজর রাখছি।

এদিকে মেলায় আগত একজন দর্শনার্থী বলেন, কোনোবারই মেলা শুরুর আগে আয়োজকরা শতভাগ কাজ শেষ করতে পারে না। এ কারণে অনেকে প্রথম দিকে মেলায় আসি না। মেলা চলে ঢিলেঢালা। আর সেই চাপ শেষ সময়ে মেলার পড়ে। তখন ইচ্ছে থাকলেও মেলায় আসার পরিবেশ থাকে না।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব প্যাভিলিয়নের কাজ আগেভাগেই শেষ করেছে। ইতোমধ্যে জমেও উঠেছে কিছু প্যাভেলিয়ন। দেশীয় নামিদামি বহু ছোট স্টলও পুরো প্রস্তুত। এসব স্টল থেকে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা।

মেলায় মেট্রোরেলের আদলে তৈরি মূল ফটক দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়বে ডিজিটাল এক্সিপেরিয়েন্স সেন্টার। চারটি টাচ স্ক্রিন কম্পিউটার রাখা হয়েছে সেখানে। দিকনির্দেশনা দিতে রয়েছেন একজন কর্মকর্তাও। এই সেন্টারে ঢুকে যে স্টল বা প্যাভিলিয়নে যেতে চান, তার অবস্থান জেনে নেওয়া যাবে সহজে।

এ ছাড়া দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরা হচ্ছে মেলায়। গতবারের মতো এবারো রয়েছে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন। আরো রয়েছে ইপিবির তথ্যকেন্দ্র, বিশ্রামস্থল, রক্তদান ও প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র, মা ও শিশুকেন্দ্র, ব্যাংক বুথ, ফুলের বাগান, শিশুপার্ক, ডাকঘর, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কক্ষ, হাজতখানা, মসজিদ ও ১২টি স্থানে শৌচাগার, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা ইত্যাদি। সব মিলিয়ে মেলা প্রাঙ্গণের আয়তন ৩১ দশমিক ৫৩ একর।

মেলা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২২ দেশের ৫২ প্রতিষ্ঠান এবার মেলায় অংশ নিয়েছে। দেশগুলো হলো থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান।

গত ৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া মেলা শেষ হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। মেলা চলছে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। এবারের মেলায় স্টল ও প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ৬০৫। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য মেলায় রয়েছে পর্যাপ্ত সবুজ চত্বর। বিশ্রামের জন্য আছে আরামদায়ক ও শোভন বেঞ্চ। মেলা প্রাঙ্গণ হকার ও ভিক্ষুকমুক্ত।

গত বছরের মতো এবারেও মেলায় প্রবেশের টিকেট মূল্য ৩০ টাকা। অবশ্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তা ২০ টাকা। এবার প্রথমবারের মতো অনলাইনে টিকেট কাটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে ৩০ টাকার টিকেটে ব্যয় হবে ৩২ টাকা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads