• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ads
দুর্ভোগের কারণ যখন বাণিজ্য মেলা

২৪তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়। বৃহস্পতিবার ৭ ফেব্রুয়ারী ।

ছবি : পিবিএ

বাণিজ্য

দুর্ভোগের কারণ যখন বাণিজ্য মেলা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার কারণে প্রতিবছরই দুর্ভোগে পড়তে হয় কয়েক লাখ মানুষকে। রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী ও কাফরুলসহ ওই অঞ্চলে বসবাসকারী এসব মানুষের কাছে বাণিজ্য মেলা মানে সীমাহীন দুর্ভোগ। ঘনবসতিপূর্ণ এসব এলাকার বাসিন্দাদের বেশির ভাগেরই কর্মস্থল কারওয়ান বাজার, মতিঝিল ও এর আশপাশের এলাকায়। ফলে মেলা চলাকালীন অফিসে যাতায়াতে প্রতিদিনই রাজপথে যুদ্ধ করতে হচ্ছে।  

প্রতিবছরই জানুয়ারি মাসে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শুরু হয় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। মাসব্যাপী এই মেলা উপলক্ষে এ রুটে গণপবিহন থেকে শুরু করে সকল পরিবহনেরই চাপ থাকে। পাশাপাশি মেলায় আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ে পুরো এলাকা লোকারণ্যে পরিণত হয়। সড়কে ধীরগতিতে চলাচল করে গাড়ি। যার ফলে এই সড়কটায় যানজট প্রকট আকার ধারণ করে। এ জন্য মিরপুর, পল্লবী, কাফরুলসহ ওই অঞ্চলের মানুষদের যাতায়াতে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। 

মিরপুরের বাসিন্দা রিফাত হাসান চাকরি করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে। অফিস মতিঝিলে। প্রতিদিন ঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছাতে তাকে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে বের হতে হয় বাসা থেকে। তিনি বলেন, ‘আগে মিরপুর ১০ নম্বর পার হতে সময় লাগত আধাঘণ্টা। তারপর বিজয় সরণির সিগন্যালে আরো আধাঘণ্টা কাটিয়ে মোটামুটি দেড় ঘণ্টায় মতিঝিলে পৌঁছাতে পারতাম। মেট্রোরেলের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে দেড় ঘণ্টা তিন ঘণ্টায় পরিণত হয়েছে। পুরো রাস্তায় দুই সারির বেশি গাড়ি চলতে না পারা এবং বাসগুলো এলোমেলোভাবে চলার কারণে এই দেরি হয়।’ এখন অফিসে যেতে আর বাসায় ফিরতে দিনের ছয় ঘণ্টা কেটে যায়।   শেওড়াপাড়া নিবাসী রাশিদা খানমের অফিস রাজধানীর কাওরানবাজারে। মেট্রোরেলের পাশাপাশি বাণিজ্য মেলার ভিড়ের কারণে সকালে দেড়ঘণ্টায় অফিসে এলেও ফেরার পথে ঠিক কত ঘণ্টায় বাসায় পৌঁছাবেন, তা সঠিক জানা নেই তার। তিনি বলেন, ‘এই রাস্তায় মেট্রোরেলের কাজ চলায় এমনিতেই মিরপুরবাসীর হয়রানির সীমা নেই। তার মধ্যে বাণিজ্য মেলার কারণে সেই হয়রানি দ্বিগুণ হয়েছে। সন্ধ্যায় অফিস শেষ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতে হয় চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে আগারগাঁও পার হতে। সব মিলিয়ে বেশিরভাগ সময় আমরা রাস্তায় কাটাতে বাধ্য হচ্ছি।’

বাণিজ্য মেলা শিগগির পূর্বাচলে স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘পূর্বাচলে নয়, আগারগাঁওয়েই হবে বাণিজ্য মেলা। পূর্বাচলে মেলা হবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে।’ কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘শহরের বাইরে তো ওটা। যে কারণে ওখানে যথেষ্ট পরিমাণ জায়গা রেডি হয়নি, অত জায়গাও নেই। নতুন যে জায়গাটা হবে সেখানে সারা বছর ধরে রফতানিমুখী পণ্য প্রদর্শনের মেলা হবে। তবে বাণিজ্য মেলা আপাতত আগারগাঁওয়েই অনুষ্ঠিত হবে।’

উল্লেখ্য, বাণিজ্য মেলা শুরু থেকেই রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে হয়ে আসছে। এতে ওই এলাকায় পুরো মাস ধরে যানজট লেগে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে ২০১৫ সালে ঢাকার পূর্বাচলে ২০ একর জমির ওপর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার স্থায়ী প্রাঙ্গণ তৈরির একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। ৭৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ের ওই প্রকল্পের আওতায় এক্সিবিশন সেন্টারে ১৫০০ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, প্রতিটি ৯ বর্গমিটারের ৮০৬টি বুথ, দুটি বড় হলরুম, সম্মেলন কেন্দ্র, অভ্যর্থনা কেন্দ্র, বাণিজ্য তথ্য কেন্দ্র, সভাকক্ষ, প্রেস সেন্টার, সার্ভিস রুম এবং সাব-স্টেশন করার কথা বলা হয়। পরে ২০১৭ সালের বাণিজ্য মেলা শেষ হওয়ার পর তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সংসদে বলেন, ‘পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। ২০১৯ সাল থেকেই সেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা হবে।’ কিন্তু তা হয়নি। আগামী বছর ২০২০ সালেও হবে কি না, তা জানেন না কেউই।

সরেজমিন দেখা গেছে, মেলায় আগতদের জন্য শৌচাগারের অপ্রতুলতা রয়েছে। যেগুলো আছে সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। নোংরা পরিবেশ, মেলায় হকারদের দৌরাত্ম্য, ভিক্ষুকদের উৎপাত, ধুলা-বালুসহ বিভিন্ন কারণে অতিষ্ঠ বাণিজ্য মেলার দর্শনার্থীরা। রাস্তার ওপরে করা হয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। যে পথ দিয়ে মানুষ চলাচল করার কথা সেখানেও গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে।

অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে মেলার সদস্য সচিব আবদুর রউফ বলেন, ‘অভিযোগগুলো সম্পর্কে আমরা সচেতন। যেকোনো অভিযোগই আমরা গুরুত্ব দেই। মেলায় যথেষ্ট পরিমাণ টয়লেট বা শৌচাগার রয়েছে। সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কারের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক স্টাফ রয়েছে। তবে তারা ঠিকমতো কাজ করছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads